বারবার গ্রেফতার, বারবার জামিন: সুমনকে ঘিরে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করল এসএমপি
সিলেট, সম্প্রতি কোতোয়ালী মডেল থানা পুলিশের অভিযানে চাকুসহ চিহ্নিত ছিনতাইকারী সুমন আহমদ গ্রেফতার সংক্রান্ত সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের (এসএমপি) অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে প্রকাশিত একটি সংবাদে ব্যবহৃত ছবি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা আলোচনা-সমালোচনার প্রেক্ষিতে বিষয়টি স্পষ্ট করেছে এসএমপি।
এসএমপির পক্ষ থেকে জানানো হয়, গত ৫ জুন ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ সকাল আনুমানিক ৬টা ৩০ মিনিটে কোতোয়ালী মডেল থানার এসআই (নিঃ) মো. সোলায়মান মিয়া সঙ্গীয় অফিসার ও ফোর্সসহ সুরমা পয়েন্ট এলাকায় অভিযান পরিচালনা করেন। অভিযানে চিহ্নিত ছিনতাইকারী এবং কোতোয়ালী মডেল থানার মামলা নং-৩৪, তারিখ ১৫ জানুয়ারি ২০২৫ খ্রি., ধারা ৪/৫, আইন-শৃঙ্খলা বিঘ্নকারী অপরাধ (দ্রুত বিচার) (সংশোধন) আইন, ২০১৯-এর তদন্তে প্রাপ্ত আসামি সুমন আহমদ (২৩)-কে একটি চাকুসহ গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃত সুমন আহমদের পিতার নাম হেলাল মিয়া এবং মাতার নাম তহুরা বেগম। তার স্থায়ী ঠিকানা নেত্রকোনার মদন উপজেলার ত্রিপন (জয় বাংলাবাজার) গ্রামে। বর্তমানে তিনি সিলেট সদর (কোতোয়ালী) থানার শামীমাবাদ আবাসিক এলাকার লিচু মিয়ার কলোনিতে বসবাস করতেন।
এসএমপি জানায়, গ্রেফতারের পর আসামিকে কোতোয়ালী মডেল থানার হাজতে রাখা হলে সে আইনের হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার উদ্দেশ্যে নিজের শরীরে মলমূত্র মেখে অস্বাভাবিক ও বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি করে। এ কারণে তাৎক্ষণিকভাবে তার নতুন ছবি ধারণ করা সম্ভব হয়নি। ফলে গ্রেফতার সংক্রান্ত ফেসবুক পোস্টে পূর্বে সংরক্ষিত একটি ছবি ব্যবহার করা হয়।
এ বিষয়ে জনমনে বিভ্রান্তি দূর করতে এসএমপি সিডিএমএস ও পিসিপিআর তথ্য পর্যালোচনা করে জানায়, ১৮ অক্টোবর ২০২২ থেকে ৫ জুন ২০২৬ পর্যন্ত প্রায় ৩ বছর ৮ মাসে সুমন আহমদের বিরুদ্ধে কোতোয়ালী মডেল থানায় মোট ৯টি মামলা রুজু হয়েছে এবং একই সময়ে তিনি ৯ বার বিভিন্ন মামলায় গ্রেফতার হয়েছেন।
গ্রেফতারের ধারাবাহিক বিবরণ অনুযায়ী, ২০২২ সালের ১৮ অক্টোবর লালবাজার এলাকা থেকে ছিনতাই/দস্যুতা মামলায় প্রথম গ্রেফতার হন তিনি। এরপর ২০২৪ সালের ১ নভেম্বর হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজার এলাকা থেকে চুরির মামলায় গ্রেফতার করা হয়। ২০২৫ সালের ১৭ এপ্রিল মহাজনপট্টি এলাকা থেকে বিশেষ ক্ষমতা আইন সংশ্লিষ্ট মামলায় এবং একই দিনে পেপার পয়েন্ট এলাকা থেকে পৃথক আরেকটি নিয়মিত মামলায় তাকে গ্রেফতার করা হয়। একই বছরের ৫ জুলাই বন্দরবাজার মহাজনপট্টি, ১৬ আগস্ট ধোপাদিঘীরপাড় এবং ২০২৬ সালের ২৭ জানুয়ারি করিম উল্লাহ মার্কেট এলাকা থেকে নিয়মিত মামলায় গ্রেফতার হন তিনি। পরে ৭ মার্চ বন্দরবাজার ও আশপাশ এলাকা থেকে এবং সর্বশেষ ৫ জুন সুরমা পয়েন্ট এলাকা থেকে পুনরায় তাকে গ্রেফতার করা হয়।
পুলিশ জানায়, বিভিন্ন সময়ে তাকে গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করা হলেও পরবর্তীতে তিনি জামিনে মুক্ত হয়ে পুনরায় অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন বলে সংশ্লিষ্ট মামলার নথি, সিডিএমএস ও পিসিপিআর পর্যালোচনায় প্রতীয়মান হয়েছে।
সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ বলছে, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব, ধৈর্য ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে। কোনো অপরাধী আইনের ঊর্ধ্বে নয় এবং ভবিষ্যতেও অপরাধীদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান ও আইনগত ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে।