মো. জুনেদ আহমদ।
বাংলাদেশে নিযুক্ত কসোভো প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রদূত লুলজিম প্লানা ৩ জুন ২০২৬ তারিখে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে মাননীয় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ও সংসদ সদস্য শামা ওবায়েদ ইসলামের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। বৈঠকে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদার, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, শিক্ষা, জনশক্তি, প্রতিরক্ষা ও অভিবাসন খাতে সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোতে সম্পৃক্ততা গভীর করার বিষয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠকে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কসোভোর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি কসোভোর রাষ্ট্রদূতকে বাংলাদেশ থেকে সাশ্রয়ী মূল্যে উন্নতমানের তৈরি পোশাক, ঔষধপত্র, আসবাবপত্র, প্লাস্টিক পণ্য, জাহাজ, পাট ও চামড়াজাত পণ্য আমদানির আহ্বান জানান।
এ সময় তিনি পোশাক, চামড়া, হালকা প্রকৌশল, কৃষি-প্রক্রিয়াজাতকরণ, পেট্রোলিয়াম, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনা খাতে প্রণোদনাসহ বাংলাদেশে বিনিয়োগের বিভিন্ন সুযোগ তুলে ধরে কসোভোকে বিনিয়োগের আমন্ত্রণ জানান।
শামা ওবায়েদ শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও অভিবাসন খাতে বিদ্যমান সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর ওপর জোর দিয়ে কসোভোকে দক্ষ ও আধা-দক্ষ বাংলাদেশি জনশক্তি নিয়োগ বৃদ্ধির আহ্বান জানান। তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের প্রায় ৬৫ শতাংশ জনগোষ্ঠীর বয়স ৩৫ বছরের নিচে, যা দেশটিকে দক্ষ মানবসম্পদের একটি টেকসই উৎস হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
প্রতিমন্ত্রী কসোভোর বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে আরও বেশি বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর ভর্তি সহজতর করতে বৃত্তি, ফেলোশিপ ও অনুদান প্রদানের আহ্বান জানান। পাশাপাশি পড়াশোনা, কাজ, ব্যবসা-বাণিজ্য, বিনিয়োগ, পর্যটন, যুব, ক্রীড়া ও সংস্কৃতিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করারও অনুরোধ করেন।
বৈঠকে তিনি ১৯৯৯ সালে কসোভোয় শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে জাতিসংঘের অন্তর্বর্তীকালীন মিশন (ইউএনএমআইকে) বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীদের প্রশংসনীয় ভূমিকার কথা স্মরণ করেন।
জবাবে কসোভোর রাষ্ট্রদূত লুলজিম প্লানা বাংলাদেশের অবদান এবং কসোভোর সঙ্গে বাংলাদেশের সক্রিয় কূটনৈতিক সম্পৃক্ততার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি দুই দেশের বিদ্যমান চমৎকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
রাষ্ট্রদূত বলেন, কসোভো ইউরোপ ও বলকান অঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশদ্বার। তিনি বাণিজ্য ও ব্যবসা, বিনিয়োগ, শিক্ষা, ছাত্র বিনিময়, অবকাঠামো উন্নয়নে জনশক্তি, প্রবীণদের পরিচর্যাকারী, পেশাগত প্রশিক্ষণ, বেসরকারি খাতের সহযোগিতা, যুব ও ক্রীড়া, ব্যবসায়িক সম্পর্ক এবং জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সঙ্গে বৃহত্তর সহযোগিতার ব্যাপক সম্ভাবনার কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।
বৈঠকে উভয় পক্ষই পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের আশাবাদ ব্যক্ত করেন।