চোখ বন্ধ করলেই দেখতাম মানুষ নাচছে”—গান নিয়ে আবেগঘন নুসরাত ফারিয়া
অনলাইন ডেস্ক।
নুসরাত ফারিয়া মানেই যেন স্পেশাল কিছু-লার্জার দ্যান লাইফ উপস্থিতি, জাঁকজমকপূর্ণ, দর্শক মাতানো এক চরিত্র, এবং কিছুটা ব্যতিক্রম। ঈদে বড়পর্দায় যখন অসংখ্য তারকার উপস্থিতি। তখন নিজের নতুন গান নিয়ে হাজির হলেন নায়িকা। দুঃখিত, গায়িকা নুসরাত ফারিয়া। হ্যাঁ, সংগীতশিল্পী হিসেবে নিজের উপস্থিতি জারি রাখছেন, সঙ্গে মিউজিক ভিডিওতে চমকে দেয়া বর্ণাঢ্য উপস্থিতিও থাকছে। গানের প্রচারণায় ছুটছেন নানা জনস্রোতে। তার ফাঁকে বাংলা ট্রিবিউনের সাথে কিছুক্ষণ।
মাত্র চারদিনেই ইউটিউবে ‘লোকে বলে’ কোটি দর্শকের ভালোবাসায় সিক্ত হলো, কেমন লাগছে?
এই সাফল্য আসলে আমার একার না। আমার প্রডিউসার আলফা আই, এসভিএফ, ফুয়াদ আল মুক্তাদির, সানজয়সহ গানের ভিডিও মেকার বাবা যাদবসহ পুরো টিমের সবাই এ সাফল্যের অংশীদার। খুব ভালো লাগছে দর্শক গানটি পছন্দ করছেন, ভালোবাসছেন।
গানটা তৈরির পেছনের গল্পটা শুনতে চাই
প্রায় দুই বছর আগে গানটা তৈরি করেছিলাম। একা একাই গুণগুণ করতাম। নিজের প্লে লিস্টে রেখে নিজেই হেডফোনে শুনতাম। মন খারাপ হতো—গানটা কি কখনো আলোর মুখ দেখবে না? আমি চোখ বন্ধ করলেই ফিল করতাম, গানটা শুনে অনেক মানুষ নাচছে, মানুষের মুখে মুখে ফিরছে গানটা। ওইরকম কল্পনা আসতো। কাছের অনেক মানুষ বলতো, একে দিয়ে করে ফেলো, তাকে দিয়ে করে ফেলো। কিন্তু মন ভরতো না। শেষমেষ এসভিএফ জানালো তারা একটা প্রজেক্ট করতে চায়, তখন এই গানটি তারা পছন্দ করলো।
তারপর গানটা কিভাবে তৈরি হলো?
আমি খুবই গ্রেটফুল ফুয়াদ ভাইয়ের কাছে। সানজয় তো যা সুন্দর রিদম যোগ করলো! বাবা যাদবের সঙ্গে অনেক কাজ হয়েছে আমার—প্রায় ১৬টা কাজ করেছি। বাবা আমাকে দারুণভাবে বুঝতে পারে, আমার স্টাইলটা ধরতে পারে। এখানেও তাই করেছে। সবমিলে আমি খুবই খুশি।
দর্শকদের রেসপন্স কেমন পাচ্ছেন?
গানের প্রচারণায় গতকাল ফয়েজ লেকে গিয়েছিলাম। দারুণ এনজয় করেছি। দর্শক-শ্রোতারা তো মাত্র গানটা শুনছে, কিন্তু সাউন্ড শুনেই তারা এমন নাচছিল, গলা মেলাচ্ছিল—খুব আনন্দ পাচ্ছিলেন। এটাই চেয়েছিলাম।
বড়পর্দায় তো একধরনের উৎসব চলছে। অনেকগুলো মুভি রিলিজ হলো, আপনি নেই শুধু
আমি আসলে যেনতেনভাবে দর্শকের সামনে হাজির হতে চাই না। আমি সবসময় স্পেশাল প্রেজেন্স নিয়ে হাজির হতে চাই, যেটা লার্জার দ্যান লাইফ হবে। তাছাড়া, আমি আমার গানের বিষয়টা নিজে ডিল করি। চলচ্চিত্রগুলোর মুক্তির বিষয় সম্পূর্ণ দেখেন প্রডিউসাররা। তারা যখন ইচ্ছা করেন তখনই মুক্তি দেন।
কী কী চলচ্চিত্র মুক্তির অপেক্ষায় আছে?
বেশ কিছু চলচ্চিত্র রেডি আছে। দুই বাংলাতেই মুক্তির জন্য প্রস্তুত হয়ে আছে কিছু ছবি। এর মধ্যে বাংলাদেশে ‘ফুটবল একাত্তর’, কলকাতায় ‘রকস্টার’ নামে আরেকটি মুভি, এছাড়াও নাম ঠিক হয়নি এমন কয়েকটি ছবি রেডি আছে। দর্শক সময় হলে জানতে পারবেন। এছাড়া আরও একটা খবর—আমার আরও দুটি গান রেডি আছে।
ঈদের সিনেমাগুলো দেখতে যাবেন হলে?
আমি এখন পুরোদমে ‘লোকে বলে’র প্রোমোশনে ব্যস্ত আছি। কাল ফয়েজ লেকে গিয়েছিলাম, আজ যাব ফ্যান্টাসি কিংডমে। গত মাসে দুবাইতে শো ছিল, আগামী মাসে যাচ্ছি লন্ডনে। হলে গিয়ে দেখতে পারবো কিনা জানি না, তবে সবগুলো মুভি দেখে নেব।
অনেক ধরনের চলচ্চিত্র মুক্তি পেল এবার, কী বলবেন এ প্রসঙ্গে?
এটা খুবই ভালো হয়েছে। কমার্শিয়াল, নন-কমার্শিয়াল—দুই ধরনের চলচ্চিত্রই মুক্তি পাচ্ছে, মানুষ হলে গিয়ে দেখছে, অনেক পজিটিভ রেসপন্স পাচ্ছি। সবচেয়ে ভালো দিক হলো, আর্টিস্টরা শিল্পচর্চার একটা জায়গা পাচ্ছে। নানা ধরনের মুভি হওয়ায় শিল্পের চর্চার ক্ষেত্রও প্রসারিত হচ্ছে। এটা আমাদের ইন্ডাস্ট্রির জন্য খুব ভালো দিক।