Template: 2
Tpl 1 Tpl 2 Tpl 3
লিংক channeljaintanews24.com ক্যাটাগরি সুনামগঞ্জ রিপোর্ট চ্যানেল জৈন্তা নিউজ
প্রশাসনের নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন, ক্ষতির শঙ্কায় স্থানীয় খামারিরা

সীমান্তে ‘চোরাই গরুর রুট’ সক্রিয়, ঈদ ঘিরে বাড়ছে ভারতীয় পশুর ঢল

২৮ মে ২০২৬ • ০৮:১৯ অপরাহ্ন

 (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি:

পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে সুনামগঞ্জের ছাতক-দোয়ারাবাজার সীমান্ত দিয়ে ভারতীয় গরু-মহিষ প্রবেশের ঘটনা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, দোয়ারাবাজার সীমান্ত পেরিয়ে আসা এসব পশু ছাতকের সুরমা সেতু হয়ে দেশের বিভিন্ন এলাকায় পৌঁছে যাচ্ছে। রাত নামলেই সীমান্তজুড়ে শুরু হয় গরু-মহিষ আনার কার্যক্রম, যা এখন অনেকটাই ‘ওপেন সিক্রেট’-এ পরিণত হয়েছে।


স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের কিছু অসাধু সদস্য, স্থানীয় প্রভাবশালী মহল ও চোরাকারবারি সিন্ডিকেটের যোগসাজশে সীমান্ত দিয়ে অবাধে ভারতীয় পশু বাংলাদেশে প্রবেশ করছে। পরে বোগলাবাজার, নরসিংপুর বাজারসহ উপজেলার বিভিন্ন বাজারের রশিদ সংগ্রহ করে এসব পশুকে দেশীয় গরু হিসেবে বৈধতা দেওয়া হচ্ছে। এরপর সেগুলো দেশের বিভিন্ন পশুর হাটে ছড়িয়ে পড়ছে।


সীমান্ত এলাকার বাসিন্দারা জানান, দোয়ারাবাজার উপজেলার বাংলাবাজার ইউনিয়নের কলাউড়া, পেঁকপাড়া, ঝুমগাঁও, মোকামছড়া; ভোগলা ইউনিয়নের বাগানবাড়ি, গাছগড়া; এবং লক্ষ্মীপুর ইউনিয়নের ভাঙ্গাপাড়া, মাঠগাঁও ও বাশতলা সীমান্ত এলাকা দীর্ঘদিন ধরে চোরাচালানের নিরাপদ রুট হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। গভীর রাত থেকে ভোর পর্যন্ত একাধিক দলে ভাগ হয়ে গরু-মহিষ সীমান্ত পেরিয়ে আনা হয়। পরে ট্রাকযোগে সেগুলো ছাতকের সুরমা সেতু পার হয়ে বিভিন্ন গন্তব্যে চলে যায়।


স্থানীয়দের দাবি, সীমান্ত দিয়ে প্রবেশের পর কম দামে বিক্রি হওয়া এসব গরুর জন্য বাজার থেকে রশিদ সংগ্রহ করা হয়। রশিদ দেখালেই গরুগুলো বৈধ হয়ে যায়। এর পেছনে বড় ধরনের একটি সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে বলেও অভিযোগ তাদের।


এদিকে স্থানীয় খামারিরা বলছেন, ভারতীয় গরুর অবাধ প্রবেশে তারা মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। উৎপাদন খরচ বাড়লেও বাজারে প্রতিযোগিতা ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে। তাদের আশঙ্কা, এভাবে ভারতীয় পশু প্রবেশ অব্যাহত থাকলে দেশীয় খামার শিল্প বড় ধরনের সংকটে পড়বে।


সীমান্ত এলাকার বাসিন্দাদের অভিযোগ, ভারতীয় সীমান্ত থেকে প্রতি গরুর বিপরীতে ৫০০ টাকা দিয়ে এসব পশু দেশের অভ্যন্তরে নেওয়া হচ্ছে। অনেক সময় পুলিশের চেকপোস্টের সামন দিয়েই গরুভর্তি ট্রাক চলাচল করলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয় না বলেও দাবি তাদের। চোরাকারবারি সিন্ডিকেটের সঙ্গে স্থানীয় প্রভাবশালী মহলের সংশ্লিষ্টতার কারণে সাধারণ মানুষ প্রকাশ্যে কথা বলতে ভয় পান বলেও জানান তারা।


এরই মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছাতকের সুরমা সেতু দিয়ে ভারতীয় গরু-মহিষভর্তি ট্রাক যাওয়ার ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, প্রশাসনের নাকের ডগায় এমন কার্যক্রম চললেও কার্যকর ব্যবস্থা চোখে পড়ছে না।


তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ছাতক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান। তিনি বলেন, “ভারতীয় গরু যাতে দেশে প্রবেশ করতে না পারে, সেজন্য পুলিশ কঠোর নজরদারিতে রয়েছে। আমরা গরু যাচাই-বাছাই করছি। বাজারের রশিদ ছাড়া কোনো গরু ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে না। কোনো ধরনের অবৈধ কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”


সহকারী পুলিশ সুপার (ছাতক সার্কেল) শেখ মুহাম্মদ মুরসালিন বলেন, “ছাতক ও দোয়ারাবাজার থানাকে কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে কোনো বাজারে চোরাই গরু প্রবেশ করতে না পারে। বিভিন্ন সূত্র থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আমরা তিন দিন ধরে অভিযান পরিচালনা করছি।”


তবে সীমান্ত বিষয়টি বিজিবির এখতিয়ারভুক্ত হলেও তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

বিজ্ঞাপন channeljaintanews24.com