Template: 2
Tpl 1 Tpl 2 Tpl 3
লিংক channeljaintanews24.com ক্যাটাগরি ধর্ম রিপোর্ট চ্যানেল জৈন্তা নিউজ

ঈদুল আযহা কেবল আনন্দ নয়, ত্যাগের মহিমার প্রতীক

২৬ মে ২০২৬ • ১০:৩০ পূর্বাহ্ন

মানবজাতি আল্লাহ তাআলার সৃষ্টির মধ্যে শ্রেষ্ঠ জীব। বিভিন্ন জাতি ও ধর্মে বিভক্ত এই মানবসমাজের প্রতিটি ধর্মেরই রয়েছে নিজস্ব উৎসব ও আনন্দঘন দিন। মুসলমানদের জন্যও রয়েছে দুটি প্রধান ধর্মীয় উৎসব—ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহা। এর মধ্যে ঈদুল আযহা ত্যাগ, আনুগত্য ও আল্লাহর নৈকট্য লাভের এক মহিমান্বিত শিক্ষা বহন করে।


ঈদুল আযহা মুসলিম বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসব। এটি কুরবানীর ঈদ নামেও পরিচিত। ‘কুরবান’ শব্দের অর্থ ত্যাগের মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য অর্জন। প্রতি বছর জিলহজ মাসের ১০ তারিখে বিশ্বের মুসলমানরা হযরত ইব্রাহীম (আ.)-এর স্মরণীয় ত্যাগের আদর্শ অনুসরণ করে কুরবানী আদায় করেন।


পবিত্র কুরআনে মহান আল্লাহ বলেন, “সুতরাং তোমার প্রতিপালকের উদ্দেশ্যে নামাজ কায়েম কর এবং কুরবানী কর।” (সুরা আল-কাউসার: ২)


ইসলামের ইতিহাসে হযরত ইব্রাহীম (আ.) ও তাঁর পুত্র হযরত ইসমাঈল (আ.)-এর কুরবানীর ঘটনা এক অনন্য দৃষ্টান্ত। মহান আল্লাহর নির্দেশে প্রিয় পুত্রকে কুরবানী করার কঠিন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে তারা আনুগত্য, ধৈর্য ও ত্যাগের সর্বোচ্চ উদাহরণ স্থাপন করেন। আল্লাহ তাআলা তাদের এই আত্মত্যাগ কবুল করেন এবং ইসমাঈল (আ.)-এর পরিবর্তে একটি দুম্বা কুরবানীর ব্যবস্থা করেন। সেই স্মৃতিকে ধারণ করেই মুসলমানরা প্রতি বছর ঈদুল আযহা উদযাপন করেন।


লেখক বলেন, কুরবানী কেবল পশু জবাইয়ের নাম নয়; বরং এটি মানুষের ভেতরের লোভ, হিংসা, অহংকার, অন্যায়, দুর্নীতি ও স্বার্থপরতাকে ত্যাগ করার শিক্ষাও দেয়। প্রকৃত কুরবানী তখনই সফল হবে, যখন মানুষ আত্মশুদ্ধির মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের চেষ্টা করবে।


তিনি আরও উল্লেখ করেন, ইসলাম সামর্থ্যবান মুসলমানদের জন্য কুরবানীকে ওয়াজিব করেছে। কুরবানীর পশু হতে হবে ত্রুটিমুক্ত এবং শরীয়ত নির্ধারিত বয়সের। কুরবানীর গোশত নিজের পরিবার, আত্মীয়-স্বজন ও দরিদ্র মানুষের মাঝে বণ্টনের মাধ্যমে সামাজিক সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্ববোধ জোরদার হয়।


পবিত্র কুরআনের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, “আল্লাহর কাছে পৌঁছায় না কুরবানীর গোশত ও রক্ত, বরং পৌঁছায় তোমাদের তাকওয়া।” (সুরা হজ্জ: ৩৭)


লেখক আরও বলেন, কুরবানী একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য হতে হবে। লোক দেখানো, সামাজিক প্রতিযোগিতা বা অহংকার প্রদর্শনের উদ্দেশ্যে কুরবানী করলে তা আল্লাহর দরবারে কবুল হবে না।


তিনি সমাজের ধনী ও সামর্থ্যবানদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ঈদুল আযহার আনন্দ গরিব, অসহায় ও বঞ্চিত মানুষের সঙ্গে ভাগাভাগি করে নিতে হবে। যাকাত ও কুরবানীর গোশত বণ্টনের মাধ্যমে সমাজে সাম্য, সহমর্মিতা ও মানবিকতা প্রতিষ্ঠা সম্ভব।


লেখক কে. এম. মিনহাজ উদ্দিন সিলেট বিভাগীয় মউশিক শিক্ষক কল্যাণ পরিষদের সভাপতি।

বিজ্ঞাপন channeljaintanews24.com