Template: 3
Tpl 1 Tpl 2 Tpl 3
২৫ মে ২০২৬ · ০৮:৩২ অপরাহ্ন

বেতন কাঠামো পুনর্গঠনের দাবি জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে খোলা চিঠি

চ্যানেল জৈন্তা নিউজ
ছবি

অনলাইন ডেস্ক। 

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বহুল প্রতীক্ষিত নবম জাতীয় বেতন কাঠামো অবশেষে বাস্তবায়নের পথে এগোচ্ছে। আগামী ১ জুলাই থেকেই নতুন এই পে স্কেল কার্যকর হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে এ খাতে প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের পরিকল্পনা প্রায় চূড়ান্ত করেছে সরকার। নতুন এই প্রস্তাব অনুযায়ী, সরকারি চাকরিজীবীদের মূল বেতনের ওপর গড়ে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি হতে পারে। একই সঙ্গে নিম্ন আয়ের ১১তম থেকে ২০তম গ্রেড পর্যন্ত কর্মীদের জন্য শতভাগ বেতন বৃদ্ধির বিষয়টিও নীতিগত আলোচনায় রয়েছে। দীর্ঘ ১১ বছর পর নতুন বেতন কাঠামোর এই খবর সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ ও উদ্দীপনার সৃষ্টি করেছে।


প্রস্তাবিত নবম পে স্কেল অনুযায়ী, প্রথম গ্রেডের বর্তমান মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়াবে ১ লাখ ১৭ হাজার টাকা। একইভাবে দ্বিতীয় গ্রেডের সর্বোচ্চ বেতন ১ লাখ ১৪ হাজার ৭৩৫ টাকা এবং তৃতীয় গ্রেডের সর্বোচ্চ বেতন ১ লাখ ১১ হাজার ৬০০ টাকা পর্যন্ত হতে পারে। চতুর্থ থেকে দশম গ্রেডের কর্মকর্তাদের বেতনও একইভাবে ৫০ শতাংশ বৃদ্ধির প্রস্তাব করা হয়েছে, যার ফলে দশম গ্রেডের সর্বোচ্চ বেতন ৩৮ হাজার ৬৪০ টাকা থেকে বেড়ে ৫৭ হাজার ৯৬০ টাকা পর্যন্ত দাঁড়াবে।


এদিকে প্রশাসনের একটি বড় অংশজুড়ে আলোচনা চলছে ১১ থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের মূল বেতন শতভাগ বৃদ্ধি করা নিয়ে। যদি এই গ্রেডগুলোতে শতভাগ বা দ্বিগুণ বেতন বৃদ্ধি পায়, তবে ১১তম গ্রেডের সর্বোচ্চ বেতন ৩০ হাজার ২৩০ টাকা থেকে বেড়ে ৬০ হাজার ৪৬০ টাকা হবে। একইভাবে ২০তম গ্রেডের সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বেড়ে ১৬ হাজার ৫০০ টাকা এবং সর্বোচ্চ ২০ হাজার ১০ টাকা থেকে বেড়ে ৪০ হাজার ২০ টাকা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এই গ্রেডগুলোতে যদি শতভাগ বৃদ্ধি না হয়ে সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী ৫০ শতাংশ বাড়ে, সে ক্ষেত্রেও বেতন কাঠামোতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসবে।


নতুন বেতন কাঠামো দ্রুত বাস্তবায়নের এই ডামাডোলের মধ্যেই সরকারের কাছে নিজেদের দুঃখ-দুর্দশার চিত্র তুলে ধরে একটি খোলা চিঠি পাঠিয়েছে বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী কল্যাণ সমিতি। সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির আহ্বায়ক আবদুল মালেক স্বাক্ষরিত এই চিঠিতে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলা হয়েছে, ২০১৫ সালের বেতন কাঠামো দিয়ে ২০২৬ সালের এই চরম ঊর্ধ্বমুখী বাজারে টিকে থাকা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। গত ১১ বছরে দেশের বাজারে দ্রব্যমূল্য ধাপে ধাপে বাড়লেও কর্মচারীদের বেতনের কোনো মৌলিক পরিবর্তন হয়নি। বহু কর্মচারী ইতিমধ্যে বেতনের শেষ ধাপে পৌঁছে যাওয়ায় তাদের বাৎসরিক ইনক্রিমেন্টও বন্ধ হয়ে গেছে।


খোলা চিঠিতে কর্মচারীদের পারিবারিক ও সামাজিক সংকটের এক মর্মস্পর্শী বিবরণ দেওয়া হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, অধিকাংশ কর্মচারী প্রভিডেন্ট ফান্ড কিংবা ব্যাংক ঋণের দায়ে জর্জরিত। প্রতি মাসে কিস্তির টাকা কাটার পর যে বেতন হাতে থাকে, তা দিয়ে ১০ থেকে ১৫ দিনের বেশি সংসার চালানো যায় না। গত ১১ বছরে ২২টি ঈদ পার হলেও অধিকাংশ সাধারণ কর্মচারী ও তাদের সন্তানরা নতুন কাপড়ের আনন্দ উপভোগ করতে পারেনি। কোরবানির ঈদে মাত্র ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা বোনাস পেয়ে বর্তমান বাজারে কোরবানির গরুর অংশীদার হওয়াও তাদের জন্য স্বপ্নে পরিণত হয়েছে। ফলে আত্মীয়-স্বজন ও সন্তানদের কাছে প্রতিনিয়ত মাথা নিচু করে থাকতে হচ্ছে, যা প্রজাতন্ত্রের সেবকদের জন্য অত্যন্ত লজ্জাজনক।


কল্যাণ সমিতির পক্ষ থেকে আসন্ন বাজেটের আগেই নবম পে স্কেলের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানানো হয়েছে। ২২ লাখ সরকারি কর্মচারী ও তাদের পরিবারের সম্মান রক্ষার্থে প্রয়োজনে মূল বেতন শতভাগ বাড়িয়ে ভাতাগুলো দুই ভাগে বিভক্ত করে দেওয়ার প্রস্তাবও করেছেন তারা। কর্মচারীদের মতে, পে স্কেল বাস্তবায়নে যত দেরি হবে, বাজার পরিস্থিতি তত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে। তাই দ্রুত ঘোষণার মাধ্যমেই কেবল সরকারি কর্মচারীদের পরিবারগুলোতে প্রকৃত স্বস্তি ও ঈদের আনন্দ ফিরিয়ে আনা সম্ভব।

অনলাইন ডেস্ক। 

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বহুল প্রতীক্ষিত নবম জাতীয় বেতন কাঠামো অবশেষে বাস্তবায়নের পথে এগোচ্ছে। আগামী ১ জুলাই থেকেই নতুন এই পে স্কেল কার্যকর হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে এ খাতে প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের পরিকল্পনা প্রায় চূড়ান্ত করেছে সরকার। নতুন এই প্রস্তাব অনুযায়ী, সরকারি চাকরিজীবীদের মূল বেতনের ওপর গড়ে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি হতে পারে। একই সঙ্গে নিম্ন আয়ের ১১তম থেকে ২০তম গ্রেড পর্যন্ত কর্মীদের জন্য শতভাগ বেতন বৃদ্ধির বিষয়টিও নীতিগত আলোচনায় রয়েছে। দীর্ঘ ১১ বছর পর নতুন বেতন কাঠামোর এই খবর সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ ও উদ্দীপনার সৃষ্টি করেছে।


প্রস্তাবিত নবম পে স্কেল অনুযায়ী, প্রথম গ্রেডের বর্তমান মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়াবে ১ লাখ ১৭ হাজার টাকা। একইভাবে দ্বিতীয় গ্রেডের সর্বোচ্চ বেতন ১ লাখ ১৪ হাজার ৭৩৫ টাকা এবং তৃতীয় গ্রেডের সর্বোচ্চ বেতন ১ লাখ ১১ হাজার ৬০০ টাকা পর্যন্ত হতে পারে। চতুর্থ থেকে দশম গ্রেডের কর্মকর্তাদের বেতনও একইভাবে ৫০ শতাংশ বৃদ্ধির প্রস্তাব করা হয়েছে, যার ফলে দশম গ্রেডের সর্বোচ্চ বেতন ৩৮ হাজার ৬৪০ টাকা থেকে বেড়ে ৫৭ হাজার ৯৬০ টাকা পর্যন্ত দাঁড়াবে।


এদিকে প্রশাসনের একটি বড় অংশজুড়ে আলোচনা চলছে ১১ থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের মূল বেতন শতভাগ বৃদ্ধি করা নিয়ে। যদি এই গ্রেডগুলোতে শতভাগ বা দ্বিগুণ বেতন বৃদ্ধি পায়, তবে ১১তম গ্রেডের সর্বোচ্চ বেতন ৩০ হাজার ২৩০ টাকা থেকে বেড়ে ৬০ হাজার ৪৬০ টাকা হবে। একইভাবে ২০তম গ্রেডের সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বেড়ে ১৬ হাজার ৫০০ টাকা এবং সর্বোচ্চ ২০ হাজার ১০ টাকা থেকে বেড়ে ৪০ হাজার ২০ টাকা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এই গ্রেডগুলোতে যদি শতভাগ বৃদ্ধি না হয়ে সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী ৫০ শতাংশ বাড়ে, সে ক্ষেত্রেও বেতন কাঠামোতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসবে।


নতুন বেতন কাঠামো দ্রুত বাস্তবায়নের এই ডামাডোলের মধ্যেই সরকারের কাছে নিজেদের দুঃখ-দুর্দশার চিত্র তুলে ধরে একটি খোলা চিঠি পাঠিয়েছে বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী কল্যাণ সমিতি। সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির আহ্বায়ক আবদুল মালেক স্বাক্ষরিত এই চিঠিতে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলা হয়েছে, ২০১৫ সালের বেতন কাঠামো দিয়ে ২০২৬ সালের এই চরম ঊর্ধ্বমুখী বাজারে টিকে থাকা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। গত ১১ বছরে দেশের বাজারে দ্রব্যমূল্য ধাপে ধাপে বাড়লেও কর্মচারীদের বেতনের কোনো মৌলিক পরিবর্তন হয়নি। বহু কর্মচারী ইতিমধ্যে বেতনের শেষ ধাপে পৌঁছে যাওয়ায় তাদের বাৎসরিক ইনক্রিমেন্টও বন্ধ হয়ে গেছে।


খোলা চিঠিতে কর্মচারীদের পারিবারিক ও সামাজিক সংকটের এক মর্মস্পর্শী বিবরণ দেওয়া হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, অধিকাংশ কর্মচারী প্রভিডেন্ট ফান্ড কিংবা ব্যাংক ঋণের দায়ে জর্জরিত। প্রতি মাসে কিস্তির টাকা কাটার পর যে বেতন হাতে থাকে, তা দিয়ে ১০ থেকে ১৫ দিনের বেশি সংসার চালানো যায় না। গত ১১ বছরে ২২টি ঈদ পার হলেও অধিকাংশ সাধারণ কর্মচারী ও তাদের সন্তানরা নতুন কাপড়ের আনন্দ উপভোগ করতে পারেনি। কোরবানির ঈদে মাত্র ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা বোনাস পেয়ে বর্তমান বাজারে কোরবানির গরুর অংশীদার হওয়াও তাদের জন্য স্বপ্নে পরিণত হয়েছে। ফলে আত্মীয়-স্বজন ও সন্তানদের কাছে প্রতিনিয়ত মাথা নিচু করে থাকতে হচ্ছে, যা প্রজাতন্ত্রের সেবকদের জন্য অত্যন্ত লজ্জাজনক।


কল্যাণ সমিতির পক্ষ থেকে আসন্ন বাজেটের আগেই নবম পে স্কেলের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানানো হয়েছে। ২২ লাখ সরকারি কর্মচারী ও তাদের পরিবারের সম্মান রক্ষার্থে প্রয়োজনে মূল বেতন শতভাগ বাড়িয়ে ভাতাগুলো দুই ভাগে বিভক্ত করে দেওয়ার প্রস্তাবও করেছেন তারা। কর্মচারীদের মতে, পে স্কেল বাস্তবায়নে যত দেরি হবে, বাজার পরিস্থিতি তত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে। তাই দ্রুত ঘোষণার মাধ্যমেই কেবল সরকারি কর্মচারীদের পরিবারগুলোতে প্রকৃত স্বস্তি ও ঈদের আনন্দ ফিরিয়ে আনা সম্ভব।

© চ্যানেল জৈন্তা নিউজ
channeljaintanews24.com