একদিনেই সিলেটে ১২ জনের মৃত্যু: শিশু থেকে র্যাব সদস্য—সবখানেই ট্র্যাজেডি
অনলাইন ডেস্ক।
সিলেট বিভাগে একদিনে একের পর এক মর্মান্তিক ঘটনায় অন্তত ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (২২ মে) দিনজুড়ে বিভাগের বিভিন্ন জেলায় সংঘর্ষ, বজ্রপাত, পানিতে ডুবে মৃত্যু, হত্যাকাণ্ড ও হামের প্রকোপে এসব প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। একদিনের ধারাবাহিক এসব মৃত্যুর ঘটনায় পুরো বিভাগজুড়ে নেমে এসেছে শোক ও উদ্বেগের ছায়া।
সবচেয়ে হৃদয়বিদারক ঘটনাগুলোর একটি ঘটে সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলায়। উপজেলার ফতেহপুর ইউনিয়নের শিকারখাঁ গ্রামের রাহুর খালে পানিতে ডুবে মারা যায় দুই শিশু। নিহত মুন্না ও রাফা সম্পর্কে চাচাতো ভাইবোন। পরিবারের সদস্যদের বরাতে জানা যায়, খেলার সময় অসাবধানতাবশত তারা খালে পড়ে যায়। পরে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।
মৌলভীবাজার শহরের মুসলিম কোয়ার্টার এলাকায় বাসার ছাদ থেকে পড়ে প্রাণ হারায় হালিমা বেগম (১৪) নামে এক কিশোরী গৃহকর্মী। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
এছাড়া মৌলভীবাজারের রাজনগর ও কমলগঞ্জ উপজেলায় পৃথক বজ্রপাতে দুই শ্রমজীবী মানুষের মৃত্যু হয়েছে। ধান কাটার সময় বজ্রপাতে প্রাণ হারান কৃষক তালেব মিয়া। অন্যদিকে রাবার বাগানে কাজ করার সময় বজ্রাঘাতে নিহত হন স্বপন মুন্ডা।
সিলেট নগরীর ক্বিনব্রিজ এলাকায় ছিনতাইকারী ধরতে গিয়ে নিহত হন র্যাব-৯ এর সদস্য ইমন আচার্য্য। ছিনতাইকারীকে আটক করার সময় ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর আহত হয়ে তিনি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। এ ঘটনায় অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
এদিকে সিলেট বিভাগে হামের প্রকোপও ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্যমতে, গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে আরও পাঁচ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে বিভাগে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৭ জনে। বর্তমানে বিভিন্ন হাসপাতালে শতাধিক শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে।
অন্যদিকে সিলেট সদর উপজেলার কালারুকা গ্রামে নিজের এক বছর আট মাস বয়সী শিশুকন্যাকে গলাকেটে হত্যার অভিযোগ উঠেছে মায়ের বিরুদ্ধে। ঘটনার পর অভিযুক্ত মা সুবিনা বেগমকে আটক করেছে পুলিশ। নিহত শিশুর নাম মাইমুনা জান্নাত তোহা।
একদিনে এতগুলো প্রাণহানির ঘটনায় সিলেটজুড়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে শোক, আতঙ্ক ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয়দের দাবি, দুর্ঘটনা, অপরাধ ও স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবেলায় প্রশাসনের আরও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন।