Template: 1
Tpl 1 Tpl 2 Tpl 3
logo
channeljaintanews24.com
বুধবার, ১৩ মে ২০২৬ | ১০:২৬ অপরাহ্ন
channeljaintanews24@gmail.com

রেলস্টেশনে হারিয়ে যাওয়া সেই স্বপ্না, ১৪ বছর পর বসলেন বিয়ের পিঁড়িতে

চ্যানেল জৈন্তা নিউজ
🕒 বুধবার, ১৩ মে ২০২৬ | ১০:২৬ অপরাহ্ন

নিউজ ডেস্ক। 

সিলেট রেলওয়ে স্টেশনের ব্যস্ত প্ল্যাটফর্মে চার বছর বয়সী এক অসহায় শিশুকে পাওয়া গিয়েছিল ১৪ বছর আগে। নিজের পরিচয়ও বলতে না পারা সেই শিশুটির নাম ছিল স্বপ্না আক্তার। হারিয়ে যাওয়া, পরিবারহীন ও অনিশ্চিত ভবিষ্যতের সেই ছোট্ট মেয়েটিই আজ নতুন জীবনের পথে পা রাখলেন।


বুধবার (১৩ মে) দুপুরে সিলেটের শিবগঞ্জ লামাপাড়ায় সমাজসেবা অধিদপ্তরের অধীনে পরিচালিত সমন্বিত শিশু পুনর্বাসন কেন্দ্রে বিয়ের পিঁড়িতে বসেন স্বপ্না। যে প্রতিষ্ঠান একদিন তাকে আশ্রয় দিয়েছিল, সেই প্রতিষ্ঠানই আজ তার নতুন জীবনের সূচনার সাক্ষী হলো।


বিয়ের পুরো আয়োজন ছিল আবেগঘন ও আনন্দমুখর। সাজসজ্জা, অতিথি আপ্যায়ন ও আনুষ্ঠানিকতায় কোথাও কোনো ঘাটতি ছিল না। উপস্থিত অতিথিদের অনেকেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। কারণ, পরিবারহীন এক তরুণীকে ঘিরে সমাজের মানুষের এমন ভালোবাসা ছিল সত্যিই ব্যতিক্রমী এক দৃশ্য।


সমাজসেবা অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ২০১২ সালে স্বপ্নাকে উদ্ধার করে সমন্বিত শিশু পুনর্বাসন কেন্দ্রে নেওয়া হয়। পরে অনুসন্ধানে জানা যায়, তার বাবা-মা দুজনেই মারা গেছেন। ফলে তাকে আর পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া সম্ভব হয়নি। সেখানেই তার বেড়ে ওঠা, শিক্ষা ও জীবনের নতুন পথচলা শুরু হয়। লেখাপড়া চালিয়ে গিয়ে তিনি ২০২৫ সালে এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন।


বিভাগীয় সমাজসেবা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক এস. এম. মোক্তার হোসেন জানান, “স্বপ্নার বয়স ১৮ বছর পূর্ণ হয়েছে। কোনো অভিভাবক না থাকায় এবং তার সম্মতি নিয়েই আমরা বিয়ের আয়োজন করেছি। আমরা চেয়েছি, তার ভবিষ্যৎ যেন নিরাপদ ও সুন্দর হয়।”


পাত্র সিলেটেরই বাসিন্দা এবং তিনি ইলেকট্রিকের ঠিকাদারি কাজ করেন। বিয়ের আয়োজনকে কেন্দ্র করে সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এগিয়ে আসেন। বিশিষ্ট ব্যক্তি ও কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে প্রায় দুই লাখ টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে, যা স্বপ্নার নামে এফডিআর করে রাখা হবে। স্থানীয় এক ব্যক্তি উপহার দিয়েছেন প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র। পুনর্বাসন কেন্দ্রের পক্ষ থেকে অতিথি আপ্যায়নের আয়োজন করা হয়। এছাড়া একটি মিষ্টি প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান উপহার হিসেবে দেয় ১০০ কাপ দই।


সব মিলিয়ে পুরো আয়োজন ছিল এক হৃদয়স্পর্শী মানবিক উদাহরণ। দেখে বোঝার উপায় ছিল না, এটি পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন এক তরুণীর বিয়ে। বরং মনে হচ্ছিল, বহু আদরে বড় হওয়া কোনো মেয়ের বিয়ের অনুষ্ঠান চলছে।


বিয়ের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, বিভাগীয় সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক সুচিত্রা রায়, জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. আব্দুর রফিকসহ সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।


অনুষ্ঠানে আবেগাপ্লুত হয়ে সিসিক প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, “সমন্বিত শিশু পুনর্বাসন কেন্দ্র শুধু একটি পিতৃমাতৃহীন শিশুকে আশ্রয়ই দেয়নি, তাকে লেখাপড়া শিখিয়ে জীবন গড়ার সুযোগ করে দিয়েছে। আজ তাকে বিয়ে দিয়ে তার ভবিষ্যতের ভিত্তিও তৈরি করে দিল।”


উল্লেখ্য, ২০১২ সাল থেকে সমন্বিত শিশু পুনর্বাসন কেন্দ্র দেশের বিভিন্ন স্থানে ১৭টি কেন্দ্রের মাধ্যমে সুবিধাবঞ্চিত, পথশিশু, ঝুঁকিতে থাকা ও পিতৃহীন শিশুদের নিরাপদ আশ্রয়, ভরণপোষণ ও পুনর্বাসন সেবা দিয়ে আসছে। স্বপ্না আক্তারের গল্প সেই মানবিক উদ্যোগেরই একটি জীবন্ত উদাহরণ।

ছবি
channeljaintanews24.com
logo
ভিজিট করুন
১৩.০৫.২০২৬
© চ্যানেল জৈন্তা নিউজ — সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
channeljaintanews24.com