নিউজ ডেস্ক।
সিলেট মহানগরীর বাংলাদেশ পুলিশ এয়ারপোর্ট থানাধীন বিভিন্ন এলাকায় সংঘটিত দোকান চুরির ঘটনায় আন্তঃজেলা সংঘবদ্ধ চোর চক্রের ৭ সক্রিয় সদস্যকে গ্রেফতার করেছে। এ সময় তাদের কাছ থেকে চোরাইকৃত নগদ ৪ হাজার ১৩০ টাকা উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ জানায়, প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, গত ২৮ জানুয়ারি ২০২৬ বিকেল আনুমানিক ৪টার দিকে এয়ারপোর্ট থানার গোয়াইপাড়া এলাকার চাষনীপীর মাজার রোডস্থ “সাফওয়ান স্টোর” নামের একটি দোকানে সংঘবদ্ধ চক্রটি পরিকল্পিতভাবে প্রবেশ করে। এ সময় নারী সদস্যরা বোরকা পরে ক্রেতা সেজে দোকানের ভেতরে অবস্থান নেয় এবং পুরুষ সদস্যরা বিভিন্ন মালামালের দাম নির্ধারণ ও পছন্দ করার ভান করে দোকান মালিককে ব্যস্ত রাখে।
একপর্যায়ে তারা অত্যন্ত কৌশলে ক্যাশ বাক্স থেকে নগদ ২ লাখ ৩০ হাজার টাকা এবং এমবি কার্ড ও মিনিট কার্ড বাবদ প্রায় ২০ হাজার টাকার মালামাল চুরি করে নিয়ে যায়। সব মিলিয়ে চুরি হওয়া মালামালের মূল্য প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা।
এরপর একই চক্র গত ২৯ এপ্রিল ২০২৬ সন্ধ্যা আনুমানিক ৬টা ২৫ মিনিটে এয়ারপোর্ট থানাধীন মজুমদারী এলাকার “ইরাম জেনারেল স্টোর” নামীয় দোকানে একই কৌশলে প্রবেশ করে ব্যবসায়িক নগদ ৮৭ হাজার টাকা চুরি করে নিয়ে যায়।
এ ঘটনায় এয়ারপোর্ট থানায় দুটি মামলা দায়ের করা হয়। মামলা দুটির তদন্ত চলাকালে সংবাদের ভিত্তিতে অভিযানে চক্রের সদস্য আকাশ ওরফে আপন (৩০), ফকির আলী (৩১), সাদিকা বেগম (২১), ফাইজা বেগম (২৩), মো. নাহিদ সিকদার (২৪), রোকেয়া বেগম (৫০) ও শুভরাজ (২২)-কে গ্রেফতার করা হয়।
পুলিশ জানায়, গ্রেফতারকৃতদের কাছ থেকে চোরাইকৃত নগদ ৪ হাজার ১৩০ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। পরে তাদের বিধি মোতাবেক আদালতে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশের তথ্যমতে, এই সংঘবদ্ধ চোর চক্রটি সিলেট, সুনামগঞ্জ ও মৌলভীবাজারসহ আশপাশের বিভিন্ন জেলার শপিংমল, সুপার শপ, বিপণিবিতান ও দোকানপাটে বোরকা পরে ক্রেতা সেজে প্রবেশ করে দীর্ঘদিন ধরে কৌশলে চুরি কার্যক্রম চালিয়ে আসছিল।