কদমতলী বাস টার্মিনাল সংঘর্ষে আরও এক শ্রমিকের মৃত্যু
সিলেট।
দক্ষিণ সুরমা-র কদমতলী কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকায় পরিবহন শ্রমিকদের সংঘর্ষের ঘটনায় আরও এক শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। নিহতের নাম দেলওয়ার হোসেন (৪০)। তিনি রণকেলী উত্তর গ্রাম-এর ছাবলু মিয়ার ছেলে।
বৃহস্পতিবার সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এ চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এর আগে একই ঘটনায় আহত শ্রমিক রিপন আহমদ (৩০) শনিবার চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। এ নিয়ে সংঘর্ষে নিহতের সংখ্যা দাঁড়ালো দুজনে।
নিহত দেলওয়ার হোসেন সিলেট জেলা বাস-মিনিবাস-কোচ-মাইক্রোবাস শ্রমিক ইউনিয়ন-এর অধীন সিলেট-জকিগঞ্জ মিনিবাস শ্রমিক উপ-কমিটির সদস্য ছিলেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করে মো. আশরাফুজ্জামান জানান, গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার পর দেলোয়ার হোসেন মারা যান।
সংঘর্ষে আহত অপর শ্রমিক রিপন আহমদ গত ২ মে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। এরপর দুই শ্রমিকের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে দক্ষিণ সুরমা থানা-এ পৃথক দুটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। পাল্টাপাল্টি এ দুই মামলায় ৪৮ জনের নাম উল্লেখ করে মোট ১২৩ জনকে আসামি করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, নিহত রিপন আহমদের বাবা ছাবলু মিয়া মঙ্গলবার দক্ষিণ সুরমা থানায় ৮৯ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় ভাঙচুর, মারধর ও হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। এতে মইনুল ইসলাম-কে প্রধান আসামি করা হয়েছে। পাশাপাশি সাবেক ছাত্রদল নেতা ও বর্তমান যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আলী আকবর রাজন-সহ ২৯ জনের নাম উল্লেখ করা হয়।
অন্যদিকে বৃহস্পতিবার মারা যাওয়া দেলওয়ার হোসেন-এর বাবা মো. আজির উদ্দিন বুধবার দক্ষিণ সুরমা থানায় ৩৪ জনের বিরুদ্ধে হত্যা চেষ্টা মামলা দায়ের করেন। পরে দেলোয়ারের মৃত্যুর পর মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তর করা হয়।
এ মামলায় আব্দুল মুহিম-সহ ১৯ জনের নাম উল্লেখ করে আরও ১০ থেকে ১৫ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে।
মো. আশরাফুজ্জামান বলেন, দেলোয়ার হোসেনের মৃত্যুর পর মামলাটি হত্যা মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ২৭ এপ্রিল সিলেট-জগন্নাথপুর রুটে বাস মালিক সমিতির আহ্বায়ক কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে পরিবহন মালিক ও শ্রমিকদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষ চলাকালে বিভিন্ন বাস ও টিকিট কাউন্টার ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এতে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং অন্তত সাতজন শ্রমিক আহত হন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রথমে পুলিশ এবং পরে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়। পরবর্তীতে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেও চিকিৎসাধীন অবস্থায় এখন পর্যন্ত দুই শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে।