সিলেট।
সিলেট সিটি কর্পোরেশন (সিসিক) এলাকায় পরিচালিত আরবান প্রাইমারি হেলথ কেয়ার প্রকল্পের কর্মীরা চাকরির ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা দূরীকরণের দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে তারা সিসিক প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরীর কাছে একটি স্মারকলিপি প্রদান করেন।
মঙ্গলবার (৫ মে) প্রকল্পের মোট ১১৩ জন কর্মীর পক্ষে ২২ জন প্রতিনিধি প্রশাসকের হাতে স্মারকলিপিটি তুলে দেন। এতে নগরীর দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য দীর্ঘদিন ধরে চলমান প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম অব্যাহত রাখা এবং কর্মরত জনবলের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করার বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তুলে ধরা হয়।
স্মারকলিপিতে বলা হয়, ২০০৭ সাল থেকে সিলেট সিটি কর্পোরেশন এলাকায় আরবান প্রাইমারি হেলথ কেয়ার প্রকল্পের আওতায় নগর মাতৃসদন ও বিভিন্ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়মিত স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করা হচ্ছে। এ সময়ের মধ্যে লাখো মানুষ চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করেছেন, যার একটি বড় অংশ বিনামূল্যে সেবা পেয়েছেন। পাশাপাশি মাতৃসেবা, নিরাপদ প্রসব (ডেলিভারি) ও প্রাথমিক চিকিৎসাসহ গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম সফলভাবে পরিচালিত হয়েছে।
কর্মীরা আরও জানান, প্রকল্পের মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়া, প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত এবং স্বাস্থ্যকেন্দ্র হস্তান্তরের প্রস্তাবের কারণে বর্তমানে সেবা কার্যক্রম ও কর্মরত জনবলের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি গত কয়েক মাস ধরে বেতন-ভাতা বকেয়া থাকলেও মানবিক দায়বদ্ধতা থেকে তারা সেবা কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছেন।
স্মারকলিপিতে সিটি কর্পোরেশনের বর্ধিত এলাকায় বিদ্যমান জনবলকে সমন্বয়ের মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম চালু রাখার এবং বিষয়টি উচ্চপর্যায়ে উপস্থাপনের জন্য প্রশাসকের সহযোগিতা কামনা করা হয়।
এ বিষয়ে সিসিক প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী জানান, আরবান হেলথ কেয়ার কার্যক্রম নগরবাসীর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, উচ্চ পর্যায়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রকল্পের স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলো স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তবে এসব কেন্দ্র বন্ধ হবে না এবং সেবা কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
তিনি আরও আশ্বস্ত করে বলেন, “সরকার ও সিটি কর্পোরেশন জনসেবামূলক কার্যক্রমের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের বিষয়ে সবসময় সহানুভূতিশীল। তাই চাকরি নিয়ে দুশ্চিন্তার কোনো কারণ নেই, কারও চাকরি যাবে না।”