জৈন্তিয়া রাজ্যের রাজদরবারের পাশে রহস্যময় মোকাম—কারা শায়িত ছিলেন, আজও অজানা ইতিহাস
নিউজ ডেস্ক।
জৈন্তিয়া রাজ্যের রাজধানীর প্রাণকেন্দ্রে রাজদরবারের পাশেই এক বা একাধিক অজ্ঞাত পরিচয়ের খানদানি মুসলমান ব্যক্তির সমাধিস্থল আজও রহস্য হয়ে টিকে আছে। স্থানীয়ভাবে এটি ‘মোকাম’ নামে পরিচিত, যেখানে জৈন্তিয়া রাজ্যে মুসলমানদের সমাধিস্থলকে মোকাম বলা হতো।
ঐতিহাসিক বর্ণনা অনুযায়ী, সুদূর অতীতে রাজদরবারের একেবারে পাশে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সম্মানিত ব্যক্তিদের সমাহিত করা হয়েছিল। তবে তাঁদের পরিচয় আজও অনুদঘাটিত, এমনকি ইতিহাসবিদরাও এ বিষয়ে স্পষ্ট কোনো তথ্য উল্লেখ করতে পারেননি। ফলে সমাধিস্থলটি এক অজানা অতীতের নিদর্শন হিসেবেই রয়ে গেছে।
ব্রিটিশ শাসনের পর বাঙলার বিভিন্ন এলাকা থেকে অনেকেই জৈন্তিয়ায় আশ্রয় নেন। তাঁদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন বাঙলার নবাব পরিবারের উস্তাদ হযরত কাশিম শাহ (রহ.)। জৈন্তিয়ার তৎকালীন রাজা বড়গোসাঁই তাঁকে মোকামের পাশে একটি বাড়ি প্রদান করেন, যা পরে ‘মোকামবাড়ি’ নামে পরিচিত হয়। আজও সেই নামেই বাড়িটি পরিচিত।
মোকামটি মোকামবাড়ির উত্তরে অবস্থিত এবং রাজকীয় স্থাপত্যশৈলীতে নির্মিত। ধারণা করা হয়, এটি ১৭৬৫ সালের আগেই নির্মিত হয়েছিল। ১৮৯৭ সালের ভয়াবহ ভূমিকম্পেও এই স্থাপনার কোনো উল্লেখযোগ্য ক্ষতি হয়নি বলে জানা যায়।
মোকামের আকার ও গঠন দেখে অনুমান করা হয়, এখানে একাধিক ব্যক্তিকে সমাহিত করা সম্ভব। এর অবস্থান ও নির্মাণশৈলী থেকে গবেষকরা মনে করেন, এখানে সমাহিত ব্যক্তিরা তৎকালীন রাজদরবারে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সম্মানিত ছিলেন। তবে কে বা কারা এখানে শায়িত আছেন, তা আজও অজানা।
হযরত কাশিম শাহ (রহ.)-কে এই মোকামের পাশে সমাহিত করা হয়নি; বরং কিছুটা দূরে মোকামবাড়ির পশ্চিম পাশে তাকে দাফন করা হয়। তবে তাঁর কয়েকজন বংশধরকে এই মোকামের কাছাকাছি সমাহিত করা হয়েছিল বলে জানা যায়।
দীর্ঘদিন ধরে সিলেট অঞ্চলের হারিয়ে যাওয়া ঐতিহাসিক নিদর্শন নিয়ে কাজ করা গবেষক ও পরিবেশপ্রেমী আসিফ আযহার বলেন, “এই ধরনের ঐতিহাসিক মোকামগুলো আমাদের অঞ্চলের অমূল্য ঐতিহ্য। এগুলো সংরক্ষণ করা না গেলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম আমাদের ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় সম্পর্কে জানতে পারবে না। তাই সরকারি ও স্থানীয়ভাবে দ্রুত উদ্যোগ নিয়ে এগুলো সংরক্ষণ করা জরুরি।”