স্টাফ রিপোর্টার।
সিলেটের ওসমানীনগর ও বিশ্বনাথ উপজেলাকে সংযোগকারী আর্মিদিং নদীর ওপর নির্মাণাধীন একটি সেতুতে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ও কারিগরি ত্রুটির কারণে কাজ শেষ হওয়ার আগেই সেতুর কাঠামোতে ধস ও ফাটল দেখা দিয়েছে। এতে জননিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
সরেজমিনে জানা যায়, ওসমানীনগর উপজেলার দয়ামীর ইউনিয়নের খাতুপুর এবং বিশ্বনাথ উপজেলার সদর ইউনিয়নের আতাফুর গ্রামের সংযোগস্থলে সেতুটি নির্মাণ করা হচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, শুরু থেকেই বিশ্বনাথ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) প্রজেশ চন্দ্র দাসের তত্ত্বাবধানে কাজ হলেও সিডিউল অনুযায়ী মানসম্মত উপকরণ ব্যবহার করা হয়নি।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, নির্মাণকাজ চলাকালীনই সেতুর মাঝখানের একটি অংশ দেবে গেছে। এছাড়া ওসমানীনগর অংশের সংযোগস্থলে নরম মাটির ওপর অপরিকল্পিতভাবে কাজ করায় বড় ধরনের ফাটল দেখা দিয়েছে। তাদের মতে, যথাযথ পাইলিং ও প্রকৌশলগত মান রক্ষা না করায় সেতুটি এখন ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।
এদিকে নদীর ওপর পর্যাপ্ত উচ্চতা না রেখে সেতু নির্মাণ করায় নৌ-চলাচলও ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এতে স্থানীয় কৃষক ও মৎস্যজীবীরা নদীপথ ব্যবহারে সমস্যায় পড়ছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা ছনু মিয়া বলেন, “প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার রহস্যজনক ভূমিকার কারণেই ঠিকাদার নিম্নমানের কাজ করার সাহস পেয়েছে। কোটি টাকার প্রকল্প এভাবে নষ্ট হতে দেওয়া যায় না।”
অনিয়মের বিষয়ে বিশ্বনাথ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি প্রকল্পের সঠিক ব্যয় তাৎক্ষণিকভাবে জানাতে পারেননি। তবে কাজের মান ঠিক রয়েছে বলে দাবি করেন।
ভবিষ্যৎ দুর্ঘটনা এড়াতে এবং সরকারি অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল। একই সঙ্গে অভিজ্ঞ প্রকৌশলীর মাধ্যমে সেতুর বর্তমান অবস্থা পরীক্ষা করে টেকসই সংস্কারের দাবিও জানিয়েছেন তারা।