Template: 3
Tpl 1 Tpl 2 Tpl 3
৩০ এপ্রিল ২০২৬ · ০৬:২৭ অপরাহ্ন

কোরবানির মহিমা: ত্যাগ, তাকওয়া ও মানবতার অনন্য শিক্ষা

চ্যানেল জৈন্তা নিউজ
ছবি

নিজস্ব প্রতিবেদক: কোরবানি শুধু পশু জবাইয়ের নাম নয়। এটি ত্যাগ, আল্লাহর প্রতি আনুগত্য, তাকওয়া ও মানবতার এক মহান শিক্ষা। প্রতি বছর ঈদুল আজহায় মুসলিম উম্মাহ আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে কোরবানি আদায় করেন। এই ইবাদতের পেছনে রয়েছে হজরত ইব্রাহিম (আ.)-এর অসাধারণ আত্মত্যাগের ইতিহাস।


পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেছেন, “নিশ্চয়ই আমি আপনাকে কাওসার দান করেছি। অতএব আপনি আপনার রবের উদ্দেশ্যে সালাত আদায় করুন এবং কোরবানি করুন।” (সূরা আল-কাওসার: ১-২)


রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “যে ব্যক্তি সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও কোরবানি করে না, সে যেন ঈদগাহের নিকটেও না আসে।” (আহমদ, ইবনে মাজাহ)


কোরবানি শব্দের অর্থ হলো নৈকট্য লাভ করা। অর্থাৎ আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য প্রিয় বস্তু ত্যাগ করে তাঁর সান্নিধ্য অর্জন করা। ইসলামী শরিয়তে নির্দিষ্ট দিনে নির্দিষ্ট পশু আল্লাহর নামে জবাই করাকে কোরবানি বলা হয়।


মানবজাতির শুরু থেকেই কোরবানির প্রচলন রয়েছে। হজরত আদম (আ.)-এর দুই পুত্র হাবিল ও কাবিল আল্লাহর উদ্দেশ্যে কোরবানি পেশ করেছিলেন। হাবিলের কোরবানি কবুল হলেও কাবিলের কোরবানি কবুল হয়নি। পরে ঈর্ষান্বিত হয়ে কাবিল তার ভাইকে হত্যা করে। এটিই পৃথিবীর প্রথম হত্যাকাণ্ড।


বর্তমানে মুসলিম সমাজে প্রচলিত কোরবানি মূলত হজরত ইব্রাহিম (আ.)-এর সুন্নাত। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর তিনি পুত্র হজরত ইসমাইল (আ.) লাভ করেন। এরপর আল্লাহ তায়ালা স্বপ্নে তাঁকে নির্দেশ দেন নিজের সবচেয়ে প্রিয় বস্তু কোরবানি করতে।


হজরত ইব্রাহিম (আ.) বুঝতে পারলেন, তাঁর সবচেয়ে প্রিয় বস্তু তাঁর সন্তান ইসমাইল (আ.)। তিনি আল্লাহর নির্দেশ পালনে প্রস্তুত হলেন। পুত্রকে বিষয়টি জানালে ইসমাইল (আ.) বলেন, “হে আমার পিতা! আপনি যা আদিষ্ট হয়েছেন তা-ই করুন। ইনশাআল্লাহ, আমাকে ধৈর্যশীলদের অন্তর্ভুক্ত পাবেন।” (সূরা আস-সাফফাত: ১০২)


যখন ইব্রাহিম (আ.) পুত্রকে কোরবানি করতে উদ্যত হলেন, তখন আল্লাহ তায়ালা তাঁর আনুগত্য কবুল করে ইসমাইল (আ.)-এর পরিবর্তে একটি মহান পশু দান করেন। সেই স্মরণেই আজও মুসলমানরা ঈদুল আজহায় কোরবানি করেন।


হজরত হাজেরা (আ.) ও শিশু ইসমাইল (আ.)-কে মক্কার নির্জন প্রান্তরে রেখে আসার পর খাদ্য ও পানি শেষ হয়ে যায়। তখন হাজেরা (আ.) সাফা ও মারওয়া পাহাড়ের মাঝে সাতবার দৌড়ান। পরে আল্লাহর রহমতে জমজম কূপের পানি উৎসারিত হয়। এই স্মৃতিকে কেন্দ্র করেই হজ ও ওমরাহ পালনকারীরা সাফা-মারওয়ার মাঝে সাঈ করেন।


কোরবানি মানুষকে শেখায় আল্লাহর প্রতি নিঃশর্ত আনুগত্য, প্রিয় বস্তু ত্যাগের মানসিকতা, সম্পদের মোহ কাটানো, গরিব-দুঃখীর পাশে দাঁড়ানো এবং ঈমান ও তাকওয়া বৃদ্ধি করা।


রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, কোরবানির পশুর প্রতিটি পশমের বিনিময়ে নেকি রয়েছে।


ইসলামে কোরবানির গোশতের ওপর আত্মীয়-স্বজন, প্রতিবেশী, গরিব-মিসকিন ও মুসাফিরের হক রয়েছে। তাই কোরবানির আনন্দ সমাজের সব মানুষের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে।


কোরবানি কেবল উৎসব নয়, এটি ঈমানের পরীক্ষা, ত্যাগের অনুশীলন এবং মানবতার বার্তা। হজরত ইব্রাহিম (আ.)-এর মহান আদর্শ আজও মুসলিম উম্মাহকে আল্লাহর পথে আত্মনিবেদন করতে অনুপ্রাণিত করে।


মহান আল্লাহ আমাদের সবাইকে কোরবানির প্রকৃত শিক্ষা গ্রহণ করে জীবন সুন্দর করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

তথ্যসূত্র: হাফিজ মাছুম আহমদ দুধরচকী ছাহেব।

নিজস্ব প্রতিবেদক: কোরবানি শুধু পশু জবাইয়ের নাম নয়। এটি ত্যাগ, আল্লাহর প্রতি আনুগত্য, তাকওয়া ও মানবতার এক মহান শিক্ষা। প্রতি বছর ঈদুল আজহায় মুসলিম উম্মাহ আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে কোরবানি আদায় করেন। এই ইবাদতের পেছনে রয়েছে হজরত ইব্রাহিম (আ.)-এর অসাধারণ আত্মত্যাগের ইতিহাস।


পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেছেন, “নিশ্চয়ই আমি আপনাকে কাওসার দান করেছি। অতএব আপনি আপনার রবের উদ্দেশ্যে সালাত আদায় করুন এবং কোরবানি করুন।” (সূরা আল-কাওসার: ১-২)


রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “যে ব্যক্তি সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও কোরবানি করে না, সে যেন ঈদগাহের নিকটেও না আসে।” (আহমদ, ইবনে মাজাহ)


কোরবানি শব্দের অর্থ হলো নৈকট্য লাভ করা। অর্থাৎ আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য প্রিয় বস্তু ত্যাগ করে তাঁর সান্নিধ্য অর্জন করা। ইসলামী শরিয়তে নির্দিষ্ট দিনে নির্দিষ্ট পশু আল্লাহর নামে জবাই করাকে কোরবানি বলা হয়।


মানবজাতির শুরু থেকেই কোরবানির প্রচলন রয়েছে। হজরত আদম (আ.)-এর দুই পুত্র হাবিল ও কাবিল আল্লাহর উদ্দেশ্যে কোরবানি পেশ করেছিলেন। হাবিলের কোরবানি কবুল হলেও কাবিলের কোরবানি কবুল হয়নি। পরে ঈর্ষান্বিত হয়ে কাবিল তার ভাইকে হত্যা করে। এটিই পৃথিবীর প্রথম হত্যাকাণ্ড।


বর্তমানে মুসলিম সমাজে প্রচলিত কোরবানি মূলত হজরত ইব্রাহিম (আ.)-এর সুন্নাত। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর তিনি পুত্র হজরত ইসমাইল (আ.) লাভ করেন। এরপর আল্লাহ তায়ালা স্বপ্নে তাঁকে নির্দেশ দেন নিজের সবচেয়ে প্রিয় বস্তু কোরবানি করতে।


হজরত ইব্রাহিম (আ.) বুঝতে পারলেন, তাঁর সবচেয়ে প্রিয় বস্তু তাঁর সন্তান ইসমাইল (আ.)। তিনি আল্লাহর নির্দেশ পালনে প্রস্তুত হলেন। পুত্রকে বিষয়টি জানালে ইসমাইল (আ.) বলেন, “হে আমার পিতা! আপনি যা আদিষ্ট হয়েছেন তা-ই করুন। ইনশাআল্লাহ, আমাকে ধৈর্যশীলদের অন্তর্ভুক্ত পাবেন।” (সূরা আস-সাফফাত: ১০২)


যখন ইব্রাহিম (আ.) পুত্রকে কোরবানি করতে উদ্যত হলেন, তখন আল্লাহ তায়ালা তাঁর আনুগত্য কবুল করে ইসমাইল (আ.)-এর পরিবর্তে একটি মহান পশু দান করেন। সেই স্মরণেই আজও মুসলমানরা ঈদুল আজহায় কোরবানি করেন।


হজরত হাজেরা (আ.) ও শিশু ইসমাইল (আ.)-কে মক্কার নির্জন প্রান্তরে রেখে আসার পর খাদ্য ও পানি শেষ হয়ে যায়। তখন হাজেরা (আ.) সাফা ও মারওয়া পাহাড়ের মাঝে সাতবার দৌড়ান। পরে আল্লাহর রহমতে জমজম কূপের পানি উৎসারিত হয়। এই স্মৃতিকে কেন্দ্র করেই হজ ও ওমরাহ পালনকারীরা সাফা-মারওয়ার মাঝে সাঈ করেন।


কোরবানি মানুষকে শেখায় আল্লাহর প্রতি নিঃশর্ত আনুগত্য, প্রিয় বস্তু ত্যাগের মানসিকতা, সম্পদের মোহ কাটানো, গরিব-দুঃখীর পাশে দাঁড়ানো এবং ঈমান ও তাকওয়া বৃদ্ধি করা।


রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, কোরবানির পশুর প্রতিটি পশমের বিনিময়ে নেকি রয়েছে।


ইসলামে কোরবানির গোশতের ওপর আত্মীয়-স্বজন, প্রতিবেশী, গরিব-মিসকিন ও মুসাফিরের হক রয়েছে। তাই কোরবানির আনন্দ সমাজের সব মানুষের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে।


কোরবানি কেবল উৎসব নয়, এটি ঈমানের পরীক্ষা, ত্যাগের অনুশীলন এবং মানবতার বার্তা। হজরত ইব্রাহিম (আ.)-এর মহান আদর্শ আজও মুসলিম উম্মাহকে আল্লাহর পথে আত্মনিবেদন করতে অনুপ্রাণিত করে।


মহান আল্লাহ আমাদের সবাইকে কোরবানির প্রকৃত শিক্ষা গ্রহণ করে জীবন সুন্দর করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

তথ্যসূত্র: হাফিজ মাছুম আহমদ দুধরচকী ছাহেব।

© চ্যানেল জৈন্তা নিউজ
channeljaintanews24.com