Template: 3
Tpl 1 Tpl 2 Tpl 3
৩০ এপ্রিল ২০২৬ · ১২:০৩ পূর্বাহ্ন

জৈন্তিয়ার হারিয়ে যেতে বসা ঐতিহ্য: লীলাপুরী সন্ন্যাসীর কালীমন্দির এখন পরিচয়হীন ইতিহাস

চ্যানেল জৈন্তা নিউজ
ছবি

জৈন্তিয়া রাজ্যের ঐতিহাসিক লীলাপুরী সন্ন্যাসীর কালীমন্দির: অবহেলায় হারিয়ে যেতে বসা এক অনন্য ঐতিহ্য


জাহিদুল ইসলাম। 

জৈন্তিয়া রাজ্যের প্রাচীন ঐতিহ্যের এক অনন্য নিদর্শন—লীলাপুরী সন্ন্যাসীর কালীমন্দির—আজ প্রায় অবহেলা আর অযত্নে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। অথচ ইতিহাসের পাতায় এই মন্দির কেবল একটি ধর্মীয় স্থাপনা নয়, বরং জৈন্তিয়া রাজ্যের রাজনৈতিক, আধ্যাত্মিক ও সাংস্কৃতিক ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষ্য বহন করে।


ঐতিহাসিক তথ্য অনুযায়ী, ১৭৭০ সালে জৈন্তিয়ার রাজা বড়গোসাঁই সিংহাসন ত্যাগ করে সন্ন্যাস জীবন গ্রহণ করেন। একই সময়ে তিনি তাঁর ধর্মগুরু লীলাপুরী স্বামীর হাতে একটি কালীমন্দিরের সেবায়েতের দায়িত্ব অর্পণ করেন। রাজা মন্দির পরিচালনা ও ধর্মীয় কর্মকাণ্ডের জন্য ১৯২ কেদার ভূমিও দান করেন, যা একটি তাম্রলিপিতে লিপিবদ্ধ ছিল। ১৯২৩ সালে ‘দি এশিয়াটিক সোসাইটি অভ বেঙ্গল’-এর জার্নালে এই দলিলের ইংরেজি অনুবাদ প্রকাশিত হয়, যেখানে মন্দির ও ভূমিদানের বিষয়টি সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে।


মন্দিরটি ১৭৬৯-৭০ সালের দিকে রাজবাড়ীর পশ্চিম পাশে, প্রায় ১৫-২০ ফুট নিচু খোলা জায়গায় নির্মিত হয়। জৈন্তিয়া রাজ্যের টিকে থাকা স্থাপনাগুলোর মধ্যে এটিই আকারে সবচেয়ে বড় বলে ঐতিহাসিকরা মনে করেন। মন্দিরটির চারপাশে একটি প্রাচীর ছিল, যার অংশবিশেষ ও ফটক আজও টিকে আছে।


ঐতিহাসিক শ্রী অচ্যুৎচরণ চৌধুরী তাঁর ‘শ্রীহট্টের ইতিবৃত্ত’ গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন, এই মন্দিরে স্থাপিত কালীমূর্তির এমন মাহাত্ম্য ছিল যে, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিও এখানে আশ্রয় নিলে দণ্ড থেকে মুক্তি পেত বলে জনবিশ্বাস প্রচলিত ছিল। সেই সময় লীলাপুরী নামক এক সন্ন্যাসীকে এই মন্দিরের সেবায়েত হিসেবে নিয়োগ করা হয়।


অন্যদিকে গবেষক মোহাম্মদ আব্দুল আজিজ তাঁর ‘জৈন্তা রাজ্যের ইতিহাস’ গ্রন্থেও একই তথ্য উল্লেখ করেছেন, যেখানে বলা হয়েছে—বড়গোসাঁই মন্দির নির্মাণ করে লীলাপুরী সন্ন্যাসীর হাতে এর সেবা ও পরিচালনার দায়িত্ব দেন।


তবে সময়ের পরিবর্তনে মন্দিরটি আজ প্রায় পরিচয়হীন হয়ে পড়েছে। একসময় এর গায়ে থাকা নামফলক “কালীমন্দির” এখন আর নেই। ফলে সাধারণ মানুষের কাছে এটি এখন একটি নামবিহীন ও অচেনা স্থাপনায় পরিণত হয়েছে। বর্তমানে এখানে নিয়মিত কোনো পূজা-অর্চনা হয় না, এবং মন্দিরটি দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে।


স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, “এটি শুধু একটি মন্দির নয়, আমাদের ইতিহাসের অংশ। অথচ দীর্ঘদিন ধরে এটি অবহেলায় পড়ে আছে। যদি সংরক্ষণ করা হতো, তাহলে এটি হতে পারত একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন ও ঐতিহ্যকেন্দ্র।”


পরিবেশপ্রেমী ও পর্যটন সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, “জৈন্তিয়ার ইতিহাস জানার জন্য এই মন্দিরটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দ্রুত সংরক্ষণ ও পুনরুদ্ধার না করলে আমরা একটি মূল্যবান ঐতিহাসিক নিদর্শন চিরতরে হারাব।”


সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি স্থানীয়দের আহ্বান—এই ঐতিহাসিক কালীমন্দিরটি সংরক্ষণ করে যথাযথ গবেষণা, পরিচিতি এবং পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হোক, যাতে জৈন্তিয়ার গৌরবময় ইতিহাস ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে সঠিকভাবে পৌঁছে দেওয়া যায়।

জৈন্তিয়া রাজ্যের ঐতিহাসিক লীলাপুরী সন্ন্যাসীর কালীমন্দির: অবহেলায় হারিয়ে যেতে বসা এক অনন্য ঐতিহ্য


জাহিদুল ইসলাম। 

জৈন্তিয়া রাজ্যের প্রাচীন ঐতিহ্যের এক অনন্য নিদর্শন—লীলাপুরী সন্ন্যাসীর কালীমন্দির—আজ প্রায় অবহেলা আর অযত্নে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। অথচ ইতিহাসের পাতায় এই মন্দির কেবল একটি ধর্মীয় স্থাপনা নয়, বরং জৈন্তিয়া রাজ্যের রাজনৈতিক, আধ্যাত্মিক ও সাংস্কৃতিক ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষ্য বহন করে।


ঐতিহাসিক তথ্য অনুযায়ী, ১৭৭০ সালে জৈন্তিয়ার রাজা বড়গোসাঁই সিংহাসন ত্যাগ করে সন্ন্যাস জীবন গ্রহণ করেন। একই সময়ে তিনি তাঁর ধর্মগুরু লীলাপুরী স্বামীর হাতে একটি কালীমন্দিরের সেবায়েতের দায়িত্ব অর্পণ করেন। রাজা মন্দির পরিচালনা ও ধর্মীয় কর্মকাণ্ডের জন্য ১৯২ কেদার ভূমিও দান করেন, যা একটি তাম্রলিপিতে লিপিবদ্ধ ছিল। ১৯২৩ সালে ‘দি এশিয়াটিক সোসাইটি অভ বেঙ্গল’-এর জার্নালে এই দলিলের ইংরেজি অনুবাদ প্রকাশিত হয়, যেখানে মন্দির ও ভূমিদানের বিষয়টি সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে।


মন্দিরটি ১৭৬৯-৭০ সালের দিকে রাজবাড়ীর পশ্চিম পাশে, প্রায় ১৫-২০ ফুট নিচু খোলা জায়গায় নির্মিত হয়। জৈন্তিয়া রাজ্যের টিকে থাকা স্থাপনাগুলোর মধ্যে এটিই আকারে সবচেয়ে বড় বলে ঐতিহাসিকরা মনে করেন। মন্দিরটির চারপাশে একটি প্রাচীর ছিল, যার অংশবিশেষ ও ফটক আজও টিকে আছে।


ঐতিহাসিক শ্রী অচ্যুৎচরণ চৌধুরী তাঁর ‘শ্রীহট্টের ইতিবৃত্ত’ গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন, এই মন্দিরে স্থাপিত কালীমূর্তির এমন মাহাত্ম্য ছিল যে, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিও এখানে আশ্রয় নিলে দণ্ড থেকে মুক্তি পেত বলে জনবিশ্বাস প্রচলিত ছিল। সেই সময় লীলাপুরী নামক এক সন্ন্যাসীকে এই মন্দিরের সেবায়েত হিসেবে নিয়োগ করা হয়।


অন্যদিকে গবেষক মোহাম্মদ আব্দুল আজিজ তাঁর ‘জৈন্তা রাজ্যের ইতিহাস’ গ্রন্থেও একই তথ্য উল্লেখ করেছেন, যেখানে বলা হয়েছে—বড়গোসাঁই মন্দির নির্মাণ করে লীলাপুরী সন্ন্যাসীর হাতে এর সেবা ও পরিচালনার দায়িত্ব দেন।


তবে সময়ের পরিবর্তনে মন্দিরটি আজ প্রায় পরিচয়হীন হয়ে পড়েছে। একসময় এর গায়ে থাকা নামফলক “কালীমন্দির” এখন আর নেই। ফলে সাধারণ মানুষের কাছে এটি এখন একটি নামবিহীন ও অচেনা স্থাপনায় পরিণত হয়েছে। বর্তমানে এখানে নিয়মিত কোনো পূজা-অর্চনা হয় না, এবং মন্দিরটি দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে।


স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, “এটি শুধু একটি মন্দির নয়, আমাদের ইতিহাসের অংশ। অথচ দীর্ঘদিন ধরে এটি অবহেলায় পড়ে আছে। যদি সংরক্ষণ করা হতো, তাহলে এটি হতে পারত একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন ও ঐতিহ্যকেন্দ্র।”


পরিবেশপ্রেমী ও পর্যটন সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, “জৈন্তিয়ার ইতিহাস জানার জন্য এই মন্দিরটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দ্রুত সংরক্ষণ ও পুনরুদ্ধার না করলে আমরা একটি মূল্যবান ঐতিহাসিক নিদর্শন চিরতরে হারাব।”


সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি স্থানীয়দের আহ্বান—এই ঐতিহাসিক কালীমন্দিরটি সংরক্ষণ করে যথাযথ গবেষণা, পরিচিতি এবং পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হোক, যাতে জৈন্তিয়ার গৌরবময় ইতিহাস ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে সঠিকভাবে পৌঁছে দেওয়া যায়।

© চ্যানেল জৈন্তা নিউজ
channeljaintanews24.com