Template: 1
Tpl 1 Tpl 2 Tpl 3
logo
channeljaintanews24.com
বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬ | ০২:১৫ অপরাহ্ন
channeljaintanews24@gmail.com

তাহিরপুরে টানা বৃষ্টিতে মাঠ-খলায় ধানের ব্যাপক ক্ষতি, দিশেহারা কৃষক

চ্যানেল জৈন্তা নিউজ
🕒 বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬ | ০২:১৫ অপরাহ্ন

তাহিরপুর (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি: সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলায় টানা বৃষ্টিতে মাঠ ও খলায় রাখা ধান মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। কোথাও কোথাও জলাবদ্ধতার কারণে ধানখেত তলিয়ে গেছে, এতে বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন স্থানীয় কৃষকরা।


টানা বৃষ্টির কারণে ধান কাটার পর তা শুকানো সম্ভব হচ্ছে না। অনেক জায়গায় খলায় রাখা ধানে চারা গজাতে শুরু করেছে। এতে ধানের গুণগত মান নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি বাজারমূল্য নিয়েও অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।


রাস্তাঘাটের বেহাল অবস্থার কারণে চার–পাঁচ দফা পরিবহনের মাধ্যমে বাড়তি খরচে ধান খলায় নিতে হচ্ছে কৃষকদের। পাশাপাশি খড় শুকাতে না পারায় গবাদিপশুর খাদ্য সংকটেরও আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।


স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, শনি ও মাটিয়ান হাওরসহ উপজেলার অন্তত ২৩টি হাওরে জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। অনেক কৃষক কাটা ধান হাওরেই ফেলে রাখতে বাধ্য হচ্ছেন, ফলে তা পচে যাচ্ছে।


কৃষি অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে উপজেলার ৭টি ইউনিয়নের ২৩টি হাওরে প্রায় ১৭ হাজার ৫০৯ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। এতে প্রায় ৭০ হাজার ৬৫০ টন ধান উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে, যার বাজারমূল্য প্রায় ৩২০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে।


ভাটি তাহিরপুর গ্রামের কৃষক রোমান আহমেদ তুষা মিয়া বলেন, রাস্তার দুরবস্থা ও বৃষ্টির কারণে ধান আনা-নেওয়ায় খরচ বেড়ে গেছে। ধান কেটে ঘরে তুললেও এখন শুকানো যাচ্ছে না, এতে বড় দুশ্চিন্তায় আছি।


ছিলাইন গ্রামের কৃষক রুবেল মিয়া জানান, গবাদিপশুর জন্য খড় শুকাতে না পারায় খাদ্য সংকট দেখা দেওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।


মধ্য তাহিরপুর গ্রামের কৃষক আবুল হাসনাত রাহুল বলেন, টানা বৃষ্টির কারণে প্রায় ৩০০ থেকে ৪০০ মণ ধান নষ্ট হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। হাওরের জাঙ্গাল ভেঙে যাওয়ায় ফসল ঘরে তুলতেও চরম ভোগান্তি হচ্ছে।


আবহাওয়া বিভাগ সূত্রে জানা যায়, অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে আগাম বন্যার আশঙ্কা রয়েছে। এ কারণে দ্রুত ধান কাটার পরামর্শ দিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড ও কৃষি বিভাগ।


তাহিরপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শরিফুল ইসলাম বলেন, টানা বৃষ্টিতে ধান শুকাতে সমস্যা হচ্ছে। কৃষকদের দ্রুত ধান কেটে নিরাপদ স্থানে সংরক্ষণ ও বিকল্প উপায়ে শুকানোর পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।


উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মেহেদী হাসান মানিক বলেন, মাঠপর্যায়ে কৃষকদের দুর্ভোগ ও ক্ষতির বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য প্রণোদনার বিষয়েও উদ্যোগ নেওয়া হবে।

ছবি
channeljaintanews24.com
logo
ভিজিট করুন
২৯.০৪.২০২৬
© চ্যানেল জৈন্তা নিউজ — সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
channeljaintanews24.com