কালবৈশাখীর তাণ্ডবে ওসমানীনগরে ৩২ ঘণ্টা বিদ্যুৎহীন, চরম দুর্ভোগে জনজীবন
ওসমানীনগর: সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলায় শনিবার দুপুর ও রবিবার ভোরে দুই দফায় আঘাত হানা কালবৈশাখী ঝড়ে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। ঝড়ের কারণে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় এখনো স্বাভাবিক বিদ্যুৎ সঞ্চালন চালু হয়নি। এতে প্রায় ৩২ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে অন্ধকারে রয়েছে অসংখ্য গ্রামাঞ্চল।
দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় বিশুদ্ধ খাবার পানির সংকট, শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় বিঘ্ন এবং সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার দুপুর প্রায় ১টার দিকে হঠাৎ শুরু হওয়া তীব্র বাতাসে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে বিদ্যুৎ লাইনের ওপর গাছের ডালপালা ও বড় গাছ ভেঙে পড়ে। এতে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। ঝড়ের তীব্রতা বাড়তে থাকলে নিরাপত্তার স্বার্থে একযোগে উপজেলার বিভিন্ন ফিডারের বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ করে দেয় বিদ্যুৎ বিভাগ।
রবিবার ভোরে আবারও দফায় দফায় ঝড়-বৃষ্টির কারণে মেরামত কার্যক্রম ব্যাহত হয়। ফলে এখন পর্যন্ত উপজেলার মাত্র ৩০ থেকে ৩৩ শতাংশ এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ পুনঃস্থাপন করা সম্ভব হয়েছে। বাকি অধিকাংশ এলাকা এখনও বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় রয়েছে বলে জানিয়েছে সিলেট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর অধীনে ওসমানীনগরের কাশিকাপন জোনাল অফিস কর্তৃপক্ষ।
দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন গভীর নলকূপ ও মোটরনির্ভর পরিবারগুলো। অনেক এলাকায় বিশুদ্ধ খাবার পানির সংকট দেখা দিয়েছে। এছাড়া চলমান এসএসসি পরীক্ষার্থীরা রাতের পড়াশোনা চালিয়ে যেতে না পেরে উদ্বেগে রয়েছেন। মোবাইল ফোন চার্জ দিতে না পারায় যোগাযোগ ব্যবস্থাও ব্যাহত হচ্ছে। প্রচণ্ড গরমের মধ্যে বিদ্যুৎ না থাকায় শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থ মানুষ সবচেয়ে বেশি কষ্টে আছেন।
রবিবার সন্ধ্যায় কাশিকাপন পল্লী বিদ্যুতের জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) নাইমুল ইসলাম বলেন, ঝড়ে বিভিন্ন স্থানে বিদ্যুতের খুঁটি, তার ও ট্রান্সফরমারে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বিদ্যুৎ বিভাগের একাধিক টিম মাঠে কাজ করছে। ইতোমধ্যে ৩০ থেকে ৩৩ শতাংশ স্থানে বিদ্যুৎ সঞ্চালন করা হয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত লাইন মেরামত করে পূর্ণাঙ্গ বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে।