জকিগঞ্জ (সিলেট) প্রতিনিধি:
নিখোঁজ হওয়ার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই পরিত্যক্ত ভবনের পেছন থেকে ব্যবসায়ী নোমান উদ্দিন (৫০)-এর মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় জকিগঞ্জে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। মুক্তিপণ দাবি, সিসিটিভি ফুটেজ, পারিবারিক বিরোধ এবং পাল্টাপাল্টি মামলার জটিলতায় পুরো ঘটনাটি এখন রহস্যের গভীরে আটকে আছে।
গত ২০২৫ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর কালীগঞ্জ বাজারে নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে নিখোঁজ হন নোমান উদ্দিন। পরিবারের দাবি, সেদিন তার আদালতে হাজিরা দেওয়ার কথা ছিল। নিখোঁজের পরপরই বিভিন্ন স্থানে খোঁজ শুরু হলেও দুই দিন পর স্থানীয়ভাবে ‘শায়লা স্মৃতি হাসপাতাল’ নামে পরিচিত দীর্ঘদিনের পরিত্যক্ত একটি ভবনের পেছনের কৃষিজমি থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
ঘটনার সবচেয়ে রহস্যজনক দিক হিসেবে উঠে এসেছে—নিখোঁজের স্থান থেকে মাত্র ১০–১৫ মিনিটের দূরত্বে থাকা নির্জন স্থানে কীভাবে তিনি পৌঁছালেন এবং মাঝপথে থাকা ৬–৮টি সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজে কী ধরা পড়েছে—তা নিয়ে তদন্তসংশ্লিষ্টরা এখনো কোনো তথ্য প্রকাশ করেননি।
স্থানীয়দের মতে, পরিত্যক্ত ওই ভবনে কেবল একজন কেয়ারটেকার থাকেন। মরদেহ উদ্ধারের পর তার ভূমিকাও প্রশ্নের মুখে এসেছে। কয়েকজন শিশুর দাবি অনুযায়ী, নোমান উদ্দিনকে ওই ভবনের দিকে যেতে দেখা গেছে। তবে তিনি সেখানে কেন গিয়েছিলেন বা কেউ তাকে ডেকে নিয়েছিল কি না—তা এখনো স্পষ্ট নয়।
নিখোঁজের পরপরই পরিবারের কাছে একটি অজ্ঞাত নম্বর থেকে ২ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। পরিবারের অভিযোগ, কলদাতা তাদের গতিবিধি সম্পর্কে অবগত ছিল এবং অনুসন্ধানের তথ্যও জানত। এতে এটি পূর্বপরিকল্পিত অপহরণ ও হত্যাকাণ্ড কিনা—সে প্রশ্ন আরও জোরালো হয়েছে।
তদন্তে পারিবারিক বিরোধের দিকও উঠে এসেছে। নোমান উদ্দিন ও তার ছোট ভাই রিয়াজ উদ্দিনের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে পৈত্রিক সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ চলছিল, যা আদালত পর্যন্ত গড়ায়।
আইনি প্রক্রিয়ায়ও দেখা গেছে দ্বিমুখী মামলা। প্রথমে নোমানের স্ত্রী মনোয়ারা বেগম থানায় জিডি করেন। পরে মেয়ে মামলায় অজ্ঞাত আসামি দেখানো হয়। এরপর মনোয়ারা বেগম আলাদাভাবে রিয়াজ উদ্দিনসহ সাতজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন।
অন্যদিকে ঘটনার ২৮ দিন পর রিয়াজ উদ্দিনও পাল্টা মামলা করে মনোয়ারা বেগমসহ ছয়জনকে আসামি করেন, যা ঘটনাটিকে আরও জটিল করে তোলে।
এ মামলায় নোমানের শ্যালক হানিফ উদ্দিন সুমন গ্রেফতার হয়ে রিমান্ডে নেওয়া হয়। পরে মুক্তি পেয়ে তিনি দাবি করেন, তাকে জোরপূর্বক স্বীকারোক্তি দিতে বাধ্য করা হয়েছিল এবং তিনি সম্পূর্ণ নির্দোষ।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে জকিগঞ্জে মানববন্ধন ও মশাল মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। তবে একই সময় এক পক্ষের অভিযোগ অনুযায়ী আন্দোলনকারীদের মধ্য থেকেই গ্রেফতার অভিযান চালানো হয়, যা তদন্তের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
এছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া আইডি ব্যবহার করে দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি পোস্ট ও ব্যক্তিগত আক্রমণের অভিযোগ উঠেছে, যা পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলছে।
বর্তমানে মামলাটি সিআইডির তদন্তাধীন থাকলেও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
সব মিলিয়ে নোমান উদ্দিন হত্যাকাণ্ড এখন শুধুই একটি অপরাধ নয়—বরং মুক্তিপণ, পারিবারিক দ্বন্দ্ব, পাল্টাপাল্টি মামলা এবং সামাজিক উত্তেজনার এক জটিল রহস্যে পরিণত হয়েছে।
এখনও প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে—এই হত্যার প্রকৃত সত্য কি কখনো উন্মোচিত হবে, নাকি এটি আরও একটি অমীমাংসিত ঘটনায় পরিণত হবে?
জকিগঞ্জ (সিলেট) প্রতিনিধি:
নিখোঁজ হওয়ার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই পরিত্যক্ত ভবনের পেছন থেকে ব্যবসায়ী নোমান উদ্দিন (৫০)-এর মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় জকিগঞ্জে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। মুক্তিপণ দাবি, সিসিটিভি ফুটেজ, পারিবারিক বিরোধ এবং পাল্টাপাল্টি মামলার জটিলতায় পুরো ঘটনাটি এখন রহস্যের গভীরে আটকে আছে।
গত ২০২৫ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর কালীগঞ্জ বাজারে নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে নিখোঁজ হন নোমান উদ্দিন। পরিবারের দাবি, সেদিন তার আদালতে হাজিরা দেওয়ার কথা ছিল। নিখোঁজের পরপরই বিভিন্ন স্থানে খোঁজ শুরু হলেও দুই দিন পর স্থানীয়ভাবে ‘শায়লা স্মৃতি হাসপাতাল’ নামে পরিচিত দীর্ঘদিনের পরিত্যক্ত একটি ভবনের পেছনের কৃষিজমি থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
ঘটনার সবচেয়ে রহস্যজনক দিক হিসেবে উঠে এসেছে—নিখোঁজের স্থান থেকে মাত্র ১০–১৫ মিনিটের দূরত্বে থাকা নির্জন স্থানে কীভাবে তিনি পৌঁছালেন এবং মাঝপথে থাকা ৬–৮টি সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজে কী ধরা পড়েছে—তা নিয়ে তদন্তসংশ্লিষ্টরা এখনো কোনো তথ্য প্রকাশ করেননি।
স্থানীয়দের মতে, পরিত্যক্ত ওই ভবনে কেবল একজন কেয়ারটেকার থাকেন। মরদেহ উদ্ধারের পর তার ভূমিকাও প্রশ্নের মুখে এসেছে। কয়েকজন শিশুর দাবি অনুযায়ী, নোমান উদ্দিনকে ওই ভবনের দিকে যেতে দেখা গেছে। তবে তিনি সেখানে কেন গিয়েছিলেন বা কেউ তাকে ডেকে নিয়েছিল কি না—তা এখনো স্পষ্ট নয়।
নিখোঁজের পরপরই পরিবারের কাছে একটি অজ্ঞাত নম্বর থেকে ২ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। পরিবারের অভিযোগ, কলদাতা তাদের গতিবিধি সম্পর্কে অবগত ছিল এবং অনুসন্ধানের তথ্যও জানত। এতে এটি পূর্বপরিকল্পিত অপহরণ ও হত্যাকাণ্ড কিনা—সে প্রশ্ন আরও জোরালো হয়েছে।
তদন্তে পারিবারিক বিরোধের দিকও উঠে এসেছে। নোমান উদ্দিন ও তার ছোট ভাই রিয়াজ উদ্দিনের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে পৈত্রিক সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ চলছিল, যা আদালত পর্যন্ত গড়ায়।
আইনি প্রক্রিয়ায়ও দেখা গেছে দ্বিমুখী মামলা। প্রথমে নোমানের স্ত্রী মনোয়ারা বেগম থানায় জিডি করেন। পরে মেয়ে মামলায় অজ্ঞাত আসামি দেখানো হয়। এরপর মনোয়ারা বেগম আলাদাভাবে রিয়াজ উদ্দিনসহ সাতজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন।
অন্যদিকে ঘটনার ২৮ দিন পর রিয়াজ উদ্দিনও পাল্টা মামলা করে মনোয়ারা বেগমসহ ছয়জনকে আসামি করেন, যা ঘটনাটিকে আরও জটিল করে তোলে।
এ মামলায় নোমানের শ্যালক হানিফ উদ্দিন সুমন গ্রেফতার হয়ে রিমান্ডে নেওয়া হয়। পরে মুক্তি পেয়ে তিনি দাবি করেন, তাকে জোরপূর্বক স্বীকারোক্তি দিতে বাধ্য করা হয়েছিল এবং তিনি সম্পূর্ণ নির্দোষ।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে জকিগঞ্জে মানববন্ধন ও মশাল মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। তবে একই সময় এক পক্ষের অভিযোগ অনুযায়ী আন্দোলনকারীদের মধ্য থেকেই গ্রেফতার অভিযান চালানো হয়, যা তদন্তের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
এছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া আইডি ব্যবহার করে দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি পোস্ট ও ব্যক্তিগত আক্রমণের অভিযোগ উঠেছে, যা পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলছে।
বর্তমানে মামলাটি সিআইডির তদন্তাধীন থাকলেও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
সব মিলিয়ে নোমান উদ্দিন হত্যাকাণ্ড এখন শুধুই একটি অপরাধ নয়—বরং মুক্তিপণ, পারিবারিক দ্বন্দ্ব, পাল্টাপাল্টি মামলা এবং সামাজিক উত্তেজনার এক জটিল রহস্যে পরিণত হয়েছে।
এখনও প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে—এই হত্যার প্রকৃত সত্য কি কখনো উন্মোচিত হবে, নাকি এটি আরও একটি অমীমাংসিত ঘটনায় পরিণত হবে?