Template: 1
Tpl 1 Tpl 2 Tpl 3
logo
channeljaintanews24.com
মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬ | ০৬:৪২ অপরাহ্ন
channeljaintanews24@gmail.com

তিন দশকেও সংস্কার হয়নি লামাগ্রামের ভাঙা সেতু, ঝুঁকিতে সীমান্ত এলাকার হাজারো মানুষ

চ্যানেল জৈন্তা নিউজ
🕒 মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬ | ০৬:৪২ অপরাহ্ন

কোম্পানীগঞ্জ (সিলেট) প্রতিনিধি:


সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার উত্তর রনিখাই ইউনিয়নের লামাগ্রামের পেঁচাছড়া খালের ওপর নির্মিত একটি সেতু প্রায় তিন দশক ধরে ভাঙা অবস্থায় পড়ে থাকায় চরম ঝুঁকিতে রয়েছে সীমান্তঘেঁষা এলাকার মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা।


স্থানীয়দের মতে, সেতুটি দীর্ঘদিন ধরে অচল অবস্থায় থাকায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন চলাচল করতে হচ্ছে প্রায় পাঁচটি গ্রামের হাজারো মানুষকে। লামাগ্রাম উপজেলা সদর থেকে প্রায় ১২ থেকে ১৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত হওয়ায় যোগাযোগ দুর্ভোগ আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে।


জানা যায়, ১৯৯০-৯১ অর্থবছরে তৎকালীন ইউপি চেয়ারম্যান মরহুম এম. তৈয়বুর রহমানের সময় তার ছোট ভাই রাজা মিয়ার তত্ত্বাবধানে সেতুটি নির্মিত হয়। নির্মাণের পর এটি পূর্ব ও পশ্চিম লামাগ্রামের মানুষের যোগাযোগে নতুন দিগন্ত খুলে দেয়। তবে মাত্র পাঁচ বছরের মাথায় পাহাড়ি ছড়ার প্রবল স্রোতে সেতুটি দেবে যায় এবং দুই পাশের এপ্রোচ সরে গিয়ে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।


এরপর কেটে গেছে প্রায় ৩০ বছর। কিন্তু এখনো সেতুটির কোনো সংস্কার বা পুনঃনির্মাণ হয়নি। স্থানীয়দের কাছে এটি এখন ‘ভাঙা ব্রিজ’ নামেই পরিচিত।


ঝুঁকিপূর্ণ এই সেতু দিয়ে প্রতিদিন প্রায় পাঁচটি গ্রামের চার শতাধিক শিক্ষার্থী লামাগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কামালবস্তি মাদ্রাসা, রনিখাই হুমায়ুন রশীদ উচ্চ বিদ্যালয় ও ভাটরাই স্কুল অ্যান্ড কলেজে যাতায়াত করছে। বয়স্ক মানুষদের জন্য এটি প্রায় মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে। জরুরি পরিস্থিতিতে রোগী বা গর্ভবতী নারীকে হাসপাতালে নেওয়াও অত্যন্ত কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে।


পূর্ব লামাগ্রামের বাসিন্দা কবির মিয়া বলেন, “প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সেতু পার হতে হয়। কোনো অসুস্থ রোগীকে সময়মতো হাসপাতালে নেওয়া যায় না। আমরা দ্রুত নতুন সেতু নির্মাণের দাবি জানাই।”


উত্তর রনিখাই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ফয়জুর রহমান মাস্টার বলেন, “সেতুটি দেবে যাওয়ার কারণে কয়েকটি গ্রামের মানুষ চরম দুর্ভোগে আছেন। পাশাপাশি এটি কোম্পানীগঞ্জের পর্যটন স্পট ‘তুরং ছড়া’তে যাওয়ার একমাত্র পথ। সেতুটি পুনর্নির্মাণ হলে পর্যটন খাতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।”


তিনি আরও জানান, একাধিকবার উপজেলা প্রকৌশলীকে বিষয়টি জানানো হলেও এখনো কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি।


এ বিষয়ে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী আসিফ খান রাবি বলেন, “ভাঙা সেতুটির অবস্থা সম্পর্কে আমরা অবগত। এটি উন্নয়ন প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত আছে, তবে এখনো অনুমোদন হয়নি। সেতু পর্যন্ত আরসিসি সড়কের কাজ শেষ হয়েছে। সেতুটি গুরুত্বের সাথে বিবেচনায় রয়েছে এবং দ্রুত উন্নয়ন কাজ বাস্তবায়নের চেষ্টা চলছে।”

ছবি
channeljaintanews24.com
logo
ভিজিট করুন
২১.০৪.২০২৬
© চ্যানেল জৈন্তা নিউজ — সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
channeljaintanews24.com