জগন্নাথপুর প্রতিনিধি, সুনামগঞ্জ:
সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার কামারখালী নদীতে সেতু নির্মাণ করা হলেও সংযোগ সড়ক না থাকায় দীর্ঘ ১১ বছরেও এর সুফল পাচ্ছে না স্থানীয় হাজারো পরিবার। ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীসহ নারী, শিশু ও বৃদ্ধরা।
সরেজমিনে দেখা যায়, জগন্নাথপুর উপজেলার চিলাউড়া-হলদিপুর ইউনিয়ন ও দিরাই উপজেলার জগদল ইউনিয়নের সংযোগ স্থাপনের জন্য ২০১৫ সালের ১১ এপ্রিল স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি), দিরাই-এর বাস্তবায়নে কামারখালী নদীর উপর ৭০ মিটার দীর্ঘ আরসিসি সেতু নির্মাণ করা হয়। প্রকল্পটির উদ্বোধন ও বাস্তবায়নে তৎকালীন সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি প্রয়াত সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের ভূমিকা ছিল।
কিন্তু সেতুর কাজ শেষ হওয়ার পর ১১ বছর পেরিয়ে গেলেও আজও সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা হয়নি। এতে সেতুটি কার্যত অচল অবস্থায় পড়ে আছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, বেহাল কাঁচা পথ ও সংযোগ সড়কের অভাবে প্রায় এক বছর ধরে ঝুঁকি নিয়ে সীমিত আকারে ছোট যানবাহন চলাচল করলেও সেটিও অনিয়মিত। এমনকি পায়ে হেঁটে চলাচলও অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ে।
এলাকাবাসীর দাবি, সেতু সংলগ্ন রাস্তার অভাবে দুই উপজেলার হাজার হাজার মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। বিশেষ করে শিক্ষার্থীরা জগদল কলেজ, রায়বাঙ্গালী আলিম মাদ্রাসা ও জগদল উচ্চ বিদ্যালয়ে যাতায়াতে সমস্যায় পড়ছে। বর্ষাকালে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করে।
দিরাই উপজেলার জগদল ইউনিয়নের কামরিবীজ গ্রামের বাসিন্দা ও মরহুম আলহাজ্ব এখলাছুর রহমান স্মৃতি ইসলামী ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি কবি আলহাজ্ব মিজানুর রহমান মিজান বলেন, “এই সড়ক দিয়ে দুই উপজেলার অসংখ্য শিক্ষার্থী প্রতিদিন যাতায়াত করে। কিন্তু বর্ষায় এলাকা পানিতে তলিয়ে গেলে ভোগান্তি চরমে পৌঁছে যায়।”
তিনি সুনামগঞ্জ-২ ও সুনামগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্যসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
স্থানীয় ভুক্তভোগীরা দ্রুত সংযোগ সড়ক নির্মাণ করে সেতুটি জনগণের ব্যবহার উপযোগী করার দাবি জানিয়েছেন।