বিদেশে কর্মসংস্থানের নামে প্রতারণা রোধে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে বলে জানিয়েছেন শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। তিনি বলেন, অসাধু রিক্রুটিং এজেন্সির বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং নতুন লাইসেন্স প্রদান সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়েছে।
মন্ত্রী আরও জানান, বিদেশগামী কর্মীদের জন্য প্রশিক্ষণ, ভাষা শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়ন বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। পাশাপাশি যোগ্যতা যাচাইয়ের মাধ্যমে সরকারি ব্যবস্থাপনায় কর্মীদের বিদেশে পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাতে তারা নিরাপদে গন্তব্য দেশে পৌঁছাতে পারেন।
সোমবার (২০ এপ্রিল) সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় সরবি খাল থেকে কাটাগাং পর্যন্ত খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
হাইটেক পার্ক বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, অব্যবহৃত হাইটেক পার্কগুলোকে কাজে লাগিয়ে স্থানীয় যুবকদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে। এসব কেন্দ্রকে ট্রেনিং সেন্টার হিসেবে ব্যবহার করে দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলা হবে, যা দেশি-বিদেশি কর্মসংস্থানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
খাল পুনঃখনন কর্মসূচির কার্যকারিতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান প্রবর্তিত খাল খনন কর্মসূচি পুনরায় বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এর মাধ্যমে কৃষি, পানি ব্যবস্থাপনা ও কর্মসংস্থানে টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
মন্ত্রী আরও বলেন, অতীতে এই কর্মসূচির মাধ্যমে দেশের খাদ্য উৎপাদন দ্বিগুণ হয়েছিল এবং চাল রপ্তানিও সম্ভব হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীতে উদ্যোগটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কৃষিতে বিরূপ প্রভাব পড়ে। বর্তমানে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় শুষ্ক মৌসুমে চাষাবাদ ব্যাহত হচ্ছে। খাল খননের মাধ্যমে বর্ষার পানি সংরক্ষণ করা গেলে সেচ ব্যবস্থা উন্নত হবে এবং কৃষকরা বছরে একাধিক ফসল উৎপাদনে সক্ষম হবেন।
এসময় কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রবিন মিয়া, সহকারী কমিশনার (ভূমি) পলাশ তালুকদার, থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম খান, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আতাউর রহমানসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
পরে মন্ত্রী কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার তেলিখাল ইউনিয়নে স্টোন ক্রাশার জোন ও ট্রাক স্ট্যান্ডের জন্য প্রস্তাবিত স্থান, পশ্চিম ইসলামপুর ইউনিয়নে মাদ্রাসা ট্রেনিং সেন্টারের জন্য নির্ধারিত এলাকা পরিদর্শন করেন এবং পূর্ব ইসলামপুরে ভোলাগঞ্জ-দয়ারবাজার-ভাটরাই সড়কের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।