Template: 2
Tpl 1 Tpl 2 Tpl 3
লিংক channeljaintanews24.com ক্যাটাগরি সুনামগঞ্জ রিপোর্ট চ্যানেল জৈন্তা নিউজ

জগন্নাথপুরে কৃষকের চোখে পানি: বৃষ্টি-জলাবদ্ধতায় ধান ডুবছে, বাড়ছে কাটার খরচ—বাজারে নেই ন্যায্য দাম

২০ এপ্রিল ২০২৬ • ১১:৫৬ অপরাহ্ন

জগন্নাথপুর প্রতিনিধি:

প্রকৃতির বিরূপতা ও নানামুখী সমস্যার বেড়াজালে পড়ে চরম দুর্ভোগে রয়েছেন সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার কৃষকেরা। ধান ঘরে তুলতে প্রাণপণ চেষ্টা চালিয়েও কাঙ্ক্ষিত দাম না পাওয়ায় হতাশায় ভুগছেন তারা। অনেকেই বলছেন, এমন পরিস্থিতি আগে বুঝতে পারলে জমি আবাদই করতেন না।


গত সপ্তাহ থেকে জগন্নাথপুরে বোরো ধান কর্তন শুরু হয়েছে। হাওরজুড়ে ধান কাটার উৎসবমুখর পরিবেশ থাকলেও কৃষকের মনে নেই আনন্দ। বরং ধান কাটার খরচ বেড়ে যাওয়া এবং বাজারে ধানের দাম কম থাকায় তারা পড়েছেন চরম বিপাকে।


বৈশাখের শুরুতেই উপজেলার বৃহত্তম নলুয়ার হাওরসহ কয়েকটি হাওরের নিচু জমি বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে যায়। এতে আধাপাকা ও থোড় ধান ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় থোড় ধান পচে নষ্ট হয়ে গেছে। বর্তমানে প্রায় প্রতিদিন ঝড়-বৃষ্টির কারণে জলাবদ্ধতা আরও বাড়ছে, নতুন করে পাকা ধান ডুবে যাচ্ছে পানির নিচে।


এদিকে পানিতে নেমে ধান কাটতে শ্রমিকরা অনাগ্রহী হওয়ায় দেখা দিয়েছে তীব্র শ্রমিক সংকট। ফলে অনেক কৃষক বাধ্য হয়ে জনপ্রতি ৮০০ থেকে ৯০০ টাকা মজুরিতে শ্রমিক নিয়োগ করছেন। অন্যদিকে হারভেস্টার মেশিনের খরচও বেড়েছে। আগে যেখানে প্রতি কেদার ধান কাটতে ২ হাজার টাকা লাগত, এখন জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৫০০ টাকায়।


১৯ এপ্রিল থেকে ২০ এপ্রিল বিকেল পর্যন্ত জগন্নাথপুরে জ্বালানি তেলের সংকট থাকায় অধিকাংশ হারভেস্টার মেশিন বন্ধ ছিল। পরে ২০ এপ্রিল বিকেলে তেল সরবরাহ স্বাভাবিক হলে পরিস্থিতি কিছুটা উন্নতি হয়। তবে নতুন বর্ধিত মূল্যে তেল কিনতে হওয়ায় কৃষকদের খরচ আরও বেড়েছে।


২০ এপ্রিল সরেজমিনে নলুয়ার হাওরে কথা হয় কৃষক রাশিদ উল্লাহ, আলীনুর, চুনু মিয়াসহ অনেকের সঙ্গে। তারা জানান, পানিতে থাকা জমির ধান কাটানোর মতো শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না। চোখের সামনে পাকা ধান ডুবে গেলেও কিছু করার নেই। অনেক কষ্টে শ্রমিক পেলেও দিতে হচ্ছে বেশি মজুরি।


তারা আরও জানান, এত খরচ করেও ধানের ন্যায্য দাম পাওয়া যাচ্ছে না। বর্তমানে কাঁচা ধান প্রতি মণ ৫০০ টাকা এবং শুকনো ধান সর্বোচ্চ ৮০০ টাকা দরে বিক্রি করতে হচ্ছে, যেখানে গত বছর কাঁচা ধান ৯০০ টাকা এবং শুকনো ধান ১২০০ টাকায় বিক্রি হয়েছিল।


জগন্নাথপুর বাজারের মেসার্স একতা মিলের মালিক আমির আলী জানান, তারা কাঁচা ধান কিনেন না। শুকনো ধান ভালো হলে সর্বোচ্চ ৮০০ টাকা মণ দরে কেনা হচ্ছে।


জ্বালানি তেলের ব্যবসায়ী মেসার্স নাঈম ট্রেডার্সের মালিক তাজুল ইসলাম বলেন, “গতকাল তেল ছিল না, আজ বিকেলে তেল এসেছে এবং নতুন বর্ধিত মূল্যে বিক্রি করা হয়েছে।”


জগন্নাথপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কাওসার আহমেদ জানান, এ বছর উপজেলায় ২০ হাজার ৪২৩ হেক্টর জমিতে বোরো ধান আবাদ হয়েছে এবং উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ২৮ হাজার ৫১০ মেট্রিক টন। ইতোমধ্যে প্রায় ২০ শতাংশ ধান কাটা হয়েছে এবং আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে বাকি ধান কাটা সম্পন্ন হবে বলে আশা করা হচ্ছে।


তিনি আরও বলেন, জ্বালানি সংকটে কিছু সময় হারভেস্টার বন্ধ থাকলেও এখন বিশেষ ব্যবস্থায় ৯ হাজার লিটার ডিজেল সরবরাহ নিশ্চিত করায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়েছে। ফলন ভালো হলেও বাজারে ন্যায্য মূল্য না পাওয়ায় কৃষকেরা হতাশ।


এদিকে জগন্নাথপুর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. শাহাব উদ্দিন ও সদর খাদ্য গুদাম কর্মকর্তা শিবু ভূষণ পাল জানান, এখনো সরকারিভাবে ধান সংগ্রহ শুরু হয়নি এবং সরকারি মূল্য নির্ধারণ করা হয়নি।


সচেতন মহলের মতে, দ্রুত সরকারি ক্রয় কার্যক্রম শুরু এবং ধানের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত না করা হলে কৃষকদের এই সংকট আরও গভীর হতে পারে।

বিজ্ঞাপন channeljaintanews24.com