মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি:
হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার চৌমুনি ইউনিয়নে অবস্থিত পল্লী বিদ্যুৎ সাব-স্টেশন চৌমুহনী অফিসের নির্ধারিত মোবাইল নম্বর কার্যত অচল হয়ে পড়েছে—এমন অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় গ্রাহকদের মধ্যে। কেউ কেউ দাবি করছেন, নম্বরটি ইচ্ছাকৃতভাবেই বন্ধ রাখা হয়েছে। ফলে জরুরি সময়ে বিদ্যুৎ অফিসের সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পেরে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন সাধারণ মানুষ।
গ্রাহকদের অভিযোগ, উক্ত নম্বরে কল দিলেই বারবার “দুঃখিত, এই মুহূর্তে সংযোগ দেওয়া সম্ভব নয়” ধরনের স্বয়ংক্রিয় বার্তা শোনা যাচ্ছে। এতে করে বিদ্যুৎ সংক্রান্ত সমস্যার কথা জানানো প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, হঠাৎ বিদ্যুৎ বিভ্রাট, লাইনের তার ছিঁড়ে পড়া, ট্রান্সফরমার বিকল হওয়া কিংবা মিটার সংক্রান্ত জটিলতা—এসব বিষয়ে দ্রুত জানাতে এই নম্বরটিই ছিল একমাত্র ভরসা। কিন্তু বর্তমানে সেটি অকার্যকর হয়ে পড়ায় দুর্ভোগ বেড়েছে কয়েকগুণ।
একাধিক গ্রাহক জানান, দিনের পর দিন চেষ্টা করেও তারা সংশ্লিষ্ট অফিসের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করতে পারছেন না। বিশেষ করে রাতের বেলায় কোনো সমস্যা দেখা দিলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। অভিযোগ জানাতে না পারায় অনেক ক্ষেত্রে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় থাকতে হচ্ছে।
এতে দোকানপাট, ছোট কারখানা ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। দ্রুত সমস্যার সমাধান না হওয়ায় আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন ব্যবসায়ীরা।
এক ভুক্তভোগী গ্রাহক বলেন, “আমরা বারবার ফোন দিচ্ছি, কিন্তু প্রতিবারই ‘দুঃখিত’ বলে লাইন কেটে যাচ্ছে। কোথায় অভিযোগ করব, কীভাবে সমাধান পাব—তা বুঝতে পারছি না।”
সচেতন মহল মনে করছে, একটি সেবামূলক প্রতিষ্ঠানের যোগাযোগ নম্বর এভাবে অকার্যকর থাকা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তারা দ্রুত সমস্যার সমাধান এবং বিকল্প যোগাযোগ ব্যবস্থা চালুর দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি জরুরি হটলাইন বা একাধিক সক্রিয় মোবাইল নম্বর চালুর প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেছেন।
স্থানীয়রা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করে আশা প্রকাশ করেছেন, অচিরেই সমস্যার সমাধান হবে এবং গ্রাহকরা আবারও সহজে পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় সেবা গ্রহণ করতে পারবেন।