নামায আদায় না করার ভয়াবহ শাস্তি
নাহমাদুহু ওয়া নুসাল্লি আলা রাসূলিহিল কারীম, আম্মা বা'দ
প্রিয় পাঠকবৃন্দ, আজ আমি হাফিজ মাছুম আহমদ দুধরচকী, আপনাদের সামনে তুলে ধরতে চাই নামায আদায় না করার কি শাস্তি হবে! সেই সম্পর্কে নিম্নে আলোচনা সংক্ষিপ্ত আকারে তুলে ধরছি, "ওয়ামা তাওফিকি ইল্লা বিল্লাহ"।
নামাযের গুরুত্ব ও বিধান
ঈমান আনয়নের পর মুমিন বান্দাদের জন্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবশ্যপালনীয় ইবাদাত হচ্ছে পাঁচ ওয়াক্ত নামায। প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পর থেকে ধনী-গরিব নির্বিশেষে সবার ওপর নির্ধারিত সময়ে এই নামায আদায় করা ফরয। কালামুল্লাহ শরিফে আল্লাহ তা’আলা জানিয়ে দিচ্ছেন,
> “নিশ্চয়ই নির্ধারিত সময়ে নামায আদায় করা বিশ্বাসীদের জন্য ফরয করা হয়েছে।” (সুরা নিসা, আয়াত ১০৩)
>
নামাযের মাধ্যমে আল্লাহর সাথে বান্দার নিবিড়তম সম্পর্ক তৈরি হয়। আবার যে সকল বান্দা নামায ছেড়ে দেয়, আল্লাহ তা’আলাও তার থেকে নিজের দায়িত্ব উঠিয়ে নেন। রাসূলুল্লাহ (সা) ইরশাদ করেন, ‘যে কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে নামায ছেড়ে দেয় আল্লাহ তা’আলা তার থেকে নিজের জিম্মাদারী উঠিয়ে নেন’। (বুখারি-১৮, ইবনে মাজাহ-৪০৩৪, মুসনাদে আহমদ-২৭৩৬৪)। অর্থাৎ যে ইচ্ছাকৃত নামায ছেড়ে দিলো সে যেন আল্লাহ থেকে নিজের সম্পর্ককে গুটিয়ে নিল।
নামায ত্যাগের পরিনাম ও শাস্তি
হাদীস শরিফে এসেছে, ইচ্ছাকৃতভাবে নামায ছেড়ে দেওয়া শিরকের পর সবচেয়ে বড় গুনাহ। এমনকি এটি হত্যা, লুণ্ঠন, ব্যভিচার, চুরি ও মদ্যপানের চেয়েও মারাত্মক গুনাহ। যার শাস্তি দুনিয়া ও আখেরাত উভয় স্থানেই ভোগ করতে হবে। (কিতাবুস সালাত লি-ইবনিল কায়য়ুম, পৃ. ১৬)
কেউ যদি অস্বীকারপূর্বক নামায ছেড়ে দেয় তার ঈমান থেকে বেরিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে ইসলামের সমস্ত ফকিহ ঐকমত্য। তবে যে অস্বীকার করে না অথচ যে কোনো কারণেই গুরুত্বহীনভাবে নামায ছেড়ে দেয়, এ শ্রেণীর লোকেরা স্বীকৃত মতানুযায়ী যদিও কাফের হবে না তবে ফাসেক বলে গণ্য হবে। তাকে বহুকাল যাবৎ জাহান্নামের আযাব ভোগ করতে হবে। যারা নামায ছেড়ে দেওয়াকে ছোটখাটো বিষয় বলে মনে করেন, তারা নামায ত্যাগের ভয়াবহ পরিনামগুলো একটু লক্ষ করুন:
* উদাসীনদের জন্য দুর্ভোগ: আল্লাহ তা’আলা বলেছেন, “অতএব দূর্ভোগ ঐ সমস্ত নামাযীদের জন্যে, যারা নিজেদের নামাযের ব্যাপারে উদাসীন।” (সুরা মাউন, আয়াত ৪-৫)। এখানে আল্লাহ তা’আলা উদাসীন বলতে বুঝিয়েছেন, যারা নামায পড়ে কিন্তু দেরি করে এবং যারা নামাযে অমনোযোগী। লক্ষণীয় যে, যারা শুধু অবহেলাবশত দেরি করে পড়ে তাদেরই যদি 'ওয়াইল' নামক জাহান্নামে যেতে হয়, তাহলে যারা নামায ছেড়েই দেয় তাদের শাস্তি কত ভয়াবহ হবে!
* মাথা থেঁতলে দেওয়ার শাস্তি: রাসুলুল্লাহ (সা) স্বপ্নযোগে কবীরাহ গুনাহের শাস্তি সম্পর্কে বলেন, এক ব্যক্তিকে পাথর দিয়ে মাথা থেঁতলে দেওয়া হচ্ছিল। জিবরাঈল (আ) জানালেন, সে হচ্ছে এমন ব্যক্তি, যে কুরান মুখস্থ করে তা পরিত্যাগ করে এবং (অবহেলা বশতঃ) ফরয নামায না পড়েই ঘুমিয়ে পড়ে। (সহীহ বুখারী)
* সর্বস্ব হারানোর সমতুল্য: হযরত নাওফাল ইবনে মুয়াবিয়া (রা.) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা) বলেন, যার এক ওয়াক্ত নামায ছুটে গেল তার যেন ঘরবাড়ি পরিবার ও ধনসম্পদ সবই কেড়ে নেওয়া হলো। (সহীহ ইবনে হিব্বান-২৪৬৮)
* ইসলাম ও কুফরের পার্থক্য: হযরত জাবের ইবনে আব্দুল্লাহ (রা.) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা) বলেন, ইসলাম ও কুফরের মাঝে পার্থক্য হলো নামায ছেড়ে দেওয়া। (সহীহ মুসলিম)
* অভিশপ্তদের সাথে হাশর: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর (রা.) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা) বলেন, যে ব্যক্তি নামাযের যত্ন করে না, কিয়ামতের দিন নামায তার জন্য নূর হবে না এবং নাজাতের উপায় হবে না। বরং তার হাশর হবে ফেরআউন, হামান ও উবাই ইবনে খলফের সাথে। (মুসনাদে আহমদ)
উপসংহার
অতএব, দুই ওয়াক্ত নামায বিনা ওজরে একত্রে পড়া বা এক ওয়াক্ত ছেড়ে দেওয়াও কবীরা গুনাহ। তাই আমরা যেন যথা সময়ে নামায আদায়ে দায়িত্বশীল হই। আল্লাহ পাক আমাদের সকলকে আমল করার তাওফিক দান করুন। আমিন।
লেখক:
হাফিজ মাছুম আহমদ দুধরচকী
বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ, লেখক ও কলামিস্ট সাংবাদিক।
প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি: জকিগঞ্জ উপজেলা সচেতন নাগরিক ফোরাম, সিলেট।
সাবেক ইমাম ও খতীব: হযরত দরিয়া শাহ্ (রহ.) মাজার জামে মসজিদ, কদমতলী, সিলেট।