নিজস্ব প্রতিবেদক | দূর পরবাসে থেকেও নিজ জন্মভূমির মাটি ও মানুষের প্রতি যে টান, তার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করলো ‘জৈন্তাপুর প্রবাসী গ্রুপ’। বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বজুড়ে চলমান অর্থনৈতিক মন্দা ও যুদ্ধকালীন সংকটের ফলে প্রবাসীদের জীবন যখন ওষ্ঠাগত, ঠিক তখনই নিজের কষ্টের কথা ভুলে নিজ উপজেলার অসহায় মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে এগিয়ে এসেছেন তারা।
গত ৩১ মার্চ (মঙ্গলবার) বাংলাদেশ সময় রাত ১২টায় ভার্চুয়াল মাধ্যমে অনুষ্ঠিত সংগঠনের নীতিনির্ধারণী ফোরাম ‘কার্য উপদেষ্টা পরিষদ’-এর এক বিশেষ ঈদ পুনর্মিলনী সভায় প্রবাসীদের এই মানবিক ঐক্যের প্রতিচ্ছবি ফুটে ওঠে। আব্দুল ওয়াদুদ চৌধুরী দুদু’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় বক্তারা প্রবাসীদের ত্যাগের মহিমাকে বিশেষভাবে মূল্যায়ন করেন।
মানবিকতার জয়গান:
সভায় বক্তারা বলেন, "বিদেশের মাটিতে আমরা কেবল অর্থ উপার্জন করি না, বুকের ভেতর লালন করি নিজ এলাকার প্রতিটি মানুষের ভালোবাসা। বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতি ও বিশ্ব মন্দায় অনেক প্রবাসী ভাই হিমশিম খাচ্ছেন, তবুও তারা নিজের ঈদ আনন্দ উৎসর্গ করেছেন জৈন্তাপুরের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য। এই বিশাল অংকের যাকাত তহবিল কেবল টাকা নয়, এটি একেকটি পরিবারের স্বপ্ন ও বেঁচে থাকার অবলম্বন।" অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এই ধারা অব্যাহত রাখতে মহান আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করা হয়।
অংশগ্রহণকারী নেতৃবৃন্দ:
সভায় বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে যুক্ত হয়ে একাত্মতা প্রকাশ করেন:
১. আব্দুল ওয়াদুদ চৌধুরী দুদু (ইউকে)
২. ফয়েজ আহমেদ (ইউএসএ)
৩. আব্দুল গফফার চৌধুরী খসরূ (ইউএসএ)
৪. আব্দুল মুকিত (ওমান)
৫. জমির উদ্দিন (বাংলাদেশ)
৬. আনোয়ার হোসেইন (বাহরাইন)
৭. হাফিজ আব্দুল্লাহ (ইউএই)
৮. মাওলানা মুজাম্মেল হেলালী (বাংলাদেশ)
৯. সুলেমান আজিজ (কাতার)
১০. ইঞ্জিনিয়ার মাহবুব আলম (কাতার)
১১. হিফজুর রহমান (ইউকে)
১২. ফারুক আহমদ চৌধুরী (ইউকে)
১৩. শামসুল আলম (ইউকে)
১৪. ফারুক আলী (ইউএই)
১৫. জামাল আব্দুন নাসের (ইউকে)
বিপদে প্রবাসীদের পাশে দাঁড়ানোর অঙ্গীকার:
মানবিক এই সভায় কেবল দেশের মানুষের চিন্তা নয়, বরং যারা এই আয়ের উৎস—সেই দাতা সদস্যদের স্বার্থ নিয়েও আলোচনা হয়। বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে কোনো সদস্য আইনি বা ব্যক্তিগত সমস্যায় পড়লে তাকে একা না ছেড়ে সংগঠন এবং দূতাবাসগুলোর মাধ্যমে পাশে থাকার জোরালো আহ্বান জানানো হয়। বক্তারা বলেন, "আমরা একে অপরের পরিপূরক, আমাদের এই ঐক্যই আমাদের শক্তি।"
ভবিষ্যৎ পথচলা ও মোনাজাত:
সংগঠনের কার্যক্রমকে আরও সুসংহত করতে এবং আর্তমানবতার সেবার পরিধি বাড়াতে নতুন সদস্য সংগ্রহের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। সভার সমাপনী বক্তব্যে হাফিজ আব্দুল্লাহর বিশেষ দোয়ার মাধ্যমে প্রবাসীদের রিজিকে বরকত এবং দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনা করা হয়।
সবশেষে গ্রুপের নেতা জামাল আব্দুন নাসের বলেন, "জৈন্তাপুর প্রবাসী গ্রুপ কেবল একটি প্ল্যাটফর্ম নয়, এটি একটি পরিবার। আমাদের লক্ষ্য একটাই—কোনো মানুষ যেন অভাবের তাড়নায় আনন্দহীন ঈদ না কাটায়। প্রবাসীদের রক্ত পানি করা পরিশ্রমে আজ জৈন্তাপুরের শত শত ঘরে হাসির ঝিলিক ফুটেছে, এটাই আমাদের বড় সার্থকতা।"