পারভেজ হাসান, লাখাই (হবিগঞ্জ): একবিংশ শতাব্দীতে দাঁড়িয়েও মধ্যযুগীয় বর্বরতাকে হার মানিয়েছে হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলার এক ঘটনা। একদল নরপশুর লালসার শিকার হয়ে ৪টি সন্তান নিয়ে চরম মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন তাজুন বেগম (৩৭) নামের এক মানসিক ভারসাম্যহীন নারী। নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে ক্ষুধার সঙ্গে লড়াই করা এই শিশুদের পিতৃত্বের দায় নেয়নি কেউ।
স্বামী হারিয়ে শুরু হয় নির্যাতন
পূর্ব বুল্লা গ্রামের আক্রম আলীর কন্যা তাজুন বেগম কয়েক বছর আগে স্বামী হারিয়ে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন। স্বামীর সংসারে দুই ছেলে থাকলেও অসুস্থ অবস্থায় পিত্রালয়ে ফিরে আসার পর থেকেই তাঁর জীবনে দুর্যোগ নেমে আসে। নিরাশ্রয় হয়ে বুল্লা বাজারে আশ্রয় নিলে সেখানেই স্থানীয় একদল লম্পটের পাশবিকতার শিকার হন তিনি।
ধারাবাহিক ধর্ষণ ও ৪ সন্তানের জন্ম
স্থানীয় সূত্র জানায়, গত কয়েক বছর ধরে বাজারে অবস্থানকালে ধারাবাহিকভাবে ধর্ষণের শিকার হয়েছেন এই নারী। এর ফলে একে একে ৪টি সন্তান (১ ছেলে ও ৩ মেয়ে) জন্ম নেয়। ২০২২ সালে আদালত স্বপ্রণোদিত হয়ে মামলা করলেও অপরাধীদের দৌরাত্ম্য থামেনি। ২০২৩ সাল থেকে করাব ইউনিয়নের মনতৈল আশ্রয়ণ প্রকল্পের একটি ঘরে তাঁকে রাখা হলেও সেখানেও তিনি নিরাপদ নন বলে অভিযোগ উঠেছে।
খোলা আকাশের নিচে অনাহার আর অযত্ন
সরেজমিনে দেখা যায়, অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে মশার কামড় আর ক্ষুধার সঙ্গে লড়াই করছে শিশুগুলো। বাজারের উচ্ছিষ্ট খেয়েই কোনোমতে প্রাণ বাঁচছে তাদের। তাজুন বেগমের ভাই উজ্জ্বল মিয়া বলেন, "আমরা অত্যন্ত দরিদ্র, তাই বোনকে সাহায্য করতে পারছি না। আমার বোনকে যদি যথাযথ চিকিৎসা দেওয়া হতো, তবে সে সুস্থ হয়ে নিজের বাচ্চাদের মানুষ করতে পারত। আমরা চাই সরকার এই নিষ্পাপ শিশুদের দায়িত্ব নিক এবং অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার করুক।"
প্রশাসনের হস্তক্ষেপ ও সুশীল সমাজের দাবি
এলাকাবাসীর দাবি, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং সমাজের সামর্থ্যবান ব্যক্তিরা এগিয়ে এলে তাজুনকে সুচিকিৎসার মাধ্যমে সুস্থ করে তোলা সম্ভব। অবিলম্বে এই পরিবারটিকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া এবং দোষীদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনা এখন সময়ের দাবি।