পারভেজ হাসান, লাখাই প্রতিনিধি:শীতের আগমনীর সঙ্গে সঙ্গেই লাখাই উপজেলার হাওর-বিলগুলোতে অতিথি পাখির আনাগোনা শুরু হয়েছে। কিন্তু এই প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ম্লান করে দিয়ে বুল্লার হাওর, মোড়াকরি হাওর, করাব হাওর, বরাক বিল, জুলফা বিল, কাইঞ্জাবিল, কুচিয়া বিলসহ বিভিন্ন জলাশয়ে অবাধে চলছে অতিথি এবং দেশীয় পাখি শিকার। শিকার করা এসব পাখি প্রকাশ্যে উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে বিক্রি হচ্ছে।
গত দুইদিন মঙ্গলবার ও বুধবার একাধিক যুবককে অতিথি পাখির পাশাপাশি দেশীয় বক পাখি বিক্রি করতে দেখা গেছে। ভোজনরসিক ক্রেতারা এ সময় চড়া মূল্যে এসব পাখি কিনতে আগ্রহ দেখাচ্ছিলেন।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, শিকারিরা কেউ রাতের অন্ধকারে আবার কেউ দিনদুপুরে জাল ও অন্যান্য ফাঁদ ব্যবহার করে পাখি ধরছেন। এরপর ভোরে বা দিনের বেলায় এসব পাখি বিক্রির জন্য বাজারে নিয়ে আসা হয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিকারি এ প্রতিবেদককে জানান, পাখি শিকারে বিধিনিষেধ থাকায় তাদের গোপনে শিকার ও বিক্রি করতে হয়। তিনি আরও বলেন, “এলাকায় অতিথি পাখির চাহিদা বেশি এবং ক্রেতাদের কাছ থেকে অতিরিক্ত মূল্য পাওয়া যায়। অনেক ক্রেতাই শিকারিদের বাড়ি থেকে সরাসরি পাখি কিনে নিয়ে যায়।”
স্থানীয় জনসাধারণ মনে করেন, পাখি শিকার যে দণ্ডনীয় অপরাধ, সে বিষয়ে শিকারি ও ক্রেতারা অবগত থাকা সত্ত্বেও তা অমান্য করছেন। তাদের মতে, বন্যপ্রাণী রক্ষায় কেবল আইন প্রয়োগই যথেষ্ট নয়, বরং জনসচেতনতা বৃদ্ধি করাও জরুরি।
এ বিষয়ে লাখাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অনুপম দাশ অনুপ এর ব্যবহৃত মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন দেওয়া হলেও তিনি রিসিভ না করায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
এদিকে, বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন, ২০১২ অনুযায়ী পাখি শিকার করা একটি গুরুতর অপরাধ। এই আইন লঙ্ঘনকারীদের জন্য প্রথমবার অপরাধের ক্ষেত্রে এক বছরের কারাদণ্ড অথবা সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে। একই অপরাধের পুনরাবৃত্তি হলে সর্বোচ্চ তিন বছর কারাদণ্ড অথবা দুই লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হওয়ার বিধান রয়েছে।