সিলেট :
আসন্ন সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক) নির্বাচনে মেয়র পদে হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী হিসেবে মুফতি আবু তাহের মিসবাহর নাম ঘোষণা করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম (পীর সাহেব চরমোনাই)।
শুক্রবার (৬ নভেম্বর) বিকেল ৩টায় সিলেট জেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে ইসলামী যুব আন্দোলন বাংলাদেশ সিলেট জেলা ও মহানগর সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ ঘোষণা দেন।
এ সময় পীর সাহেব চরমোনাই বলেন, মুফতি আবু তাহের মিসবাহ সিলেটের কৃতী সন্তান। হজরত শাহজালাল (রহ.) ও হজরত শাহপরান (রহ.)-এর পুণ্যভূমি সিলেটের নগর উন্নয়নে তাঁর মতো একজন যোগ্য ব্যক্তিকে অগ্রাধিকার দেওয়া প্রয়োজন।
সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন ইসলামী যুব আন্দোলন বাংলাদেশ সিলেট জেলা সভাপতি মাওলানা বদরুল ইসলাম। সাধারণ সম্পাদক শরাফত উল্লাহ আরফানের পরিচালনায় প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সভাপতি মুফতি মানসুর আহমদ সাকী।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ সিলেট জেলা সভাপতি মুফতি সাঈদ আহমদ, মহানগর সভাপতি ডা. রিয়াজুল ইসলাম রিয়াজ, ইসলামী শ্রমিক আন্দোলন সিলেট জেলা সভাপতি মো. সিদ্দিকুর রহমান, ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ সিলেট মহানগর সভাপতি মুহাম্মদ জাকাওয়াত চৌধুরী পাশা এবং জেলা সভাপতি মুহাম্মদ মোরশেদ আহমদ চৌধুরীসহ জেলা ও মহানগর পর্যায়ের নেতারা।
কে এই মুফতি আবু তাহের মিসবাহ
মুফতি আবু তাহের মিসবাহ ১৯৯৫ সালের ৪ সেপ্টেম্বর সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলার বুরুঙ্গা ইউনিয়নের পশ্চিম তিলাপাড়া গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবা মরহুম হাজী আব্দুল মালিক এবং মা মুছা. রহিমা বেগম।
তিনি ইসলামী ও সাধারণ—উভয় ধারার শিক্ষায় শিক্ষিত। কওমি মাদরাসা থেকে দাওরায়ে হাদিস সম্পন্ন করার পাশাপাশি সিলেটের মদনমোহন কলেজ থেকে বিএসএস (অনার্স) এবং সিলেট সরকারি আলিয়া মাদরাসা থেকে ফাজিল ও ফিকাহ বিভাগে কামিল ডিগ্রি অর্জন করেন।
রাজনৈতিক জীবনে তিনি ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশের তৃণমূল পর্যায় থেকে উঠে আসেন। সংগঠনটির ইউনিয়ন ও উপজেলা পর্যায়ে বিভিন্ন দায়িত্ব পালনের পর সিলেট মহানগর সভাপতি, সিলেট জেলা সভাপতি এবং কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক উপসম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তী সময়ে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ সিলেট জেলা শাখার যুগ্ম সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালনের পর বর্তমানে জেলা শাখার সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
শিক্ষাজীবন শেষে তিনি সিলেট নগরীর বিভিন্ন মাদরাসা ও স্কুলে শিক্ষকতা করেন। বর্তমানে গ্রাফিকস ডিজাইন, ওয়েব ডেভেলপমেন্ট ও ডিজিটাল মার্কেটিং ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। সিলেট নগরীর ১৪ নম্বর ওয়ার্ডে দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করছেন তিনি। শিক্ষকতা ও ব্যবসার পাশাপাশি বিভিন্ন মসজিদ, মাদরাসা এবং সমাজসেবামূলক সংগঠনের সঙ্গেও তাঁর সম্পৃক্ততা রয়েছে।