জগন্নাথপুর (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি: মৃত্যুর প্রায় তিন মাস পর এক প্রয়াত আওয়ামী লীগ নেতার বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেছে পুলিশ। সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় এ ঘটনা ঘটেছে। জীবিত না থাকা ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিলের ঘটনায় পুলিশের তদন্তের যথার্থতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
অভিযোগপত্রে নাম থাকা ওই নেতার নাম আবুল খয়ের ইসরাইল। তিনি জগন্নাথপুর উপজেলার আশারকান্দি ইউনিয়নের উত্তর দাওরাই গ্রামের বাসিন্দা এবং ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। মামলায় তিনি ৫৬ নম্বর আসামি। গত ২৯ এপ্রিল তাঁর মৃত্যু হয়। অথচ মৃত্যুর প্রায় তিন মাস পর গত ৩১ জুলাই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে যে অভিযোগপত্র দাখিল করেন, তাতে তাঁর নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ১৪৩, ৪৪৮ ও ৪২৭ ধারায় অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়।
মামলার এজাহার ও অভিযোগপত্র সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ১৭ নভেম্বর রাতে জগন্নাথপুর উপজেলার মীরপুর বাজারে অবস্থিত মীরপুর ইউনিয়ন বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ১৯ নভেম্বর মীরপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আব্দুন নূর জগন্নাথপুর থানায় মামলা করেন। মামলায় সাবেক পরিকল্পনামন্ত্রী ও সুনামগঞ্জ-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এম এ মান্নানসহ আওয়ামী লীগ এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের ৪৯ জন নেতাকর্মীকে এজাহারনামীয় আসামি করা হয়। পরে তদন্ত শেষে অভিযোগপত্রে আসামির সংখ্যা দাঁড়ায় ৭৯ জনে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা জগন্নাথপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) অনিক পাল গত ৩১ জুলাই আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। অভিযোগপত্রে সাবেক সংসদ সদস্য এম এ মান্নানকে প্রধান আসামি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তদন্ত কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, তাঁর নির্দেশনা ও প্ররোচনায় স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা বিএনপির কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট চালান। তদন্তে এসব তথ্য উঠে এসেছে বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়।
এ মামলায় এর আগে ২০২৪ সালের ২৩ ডিসেম্বর আবুল খয়ের ইসরাইলকে গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ। তবে তাঁর মৃত্যুর বিষয়টি অভিযোগপত্র দাখিলের আগে তদন্তে কীভাবে শনাক্ত হয়নি, তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
অভিযোগপত্রভুক্ত ৭৯ জন আসামির মধ্যে প্রধান আসামি এম এ মান্নানসহ ২৫ জন আদালত থেকে জামিন পেয়েছেন। অন্যরা পলাতক রয়েছেন বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।
মৃত ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিলের বিষয়ে জানতে চাইলে তদন্ত কর্মকর্তা এসআই অনিক পাল বলেন, বাদীর এজাহার, সাক্ষ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়েছে। আবুল খয়ের ইসরাইলের মৃত্যুর বিষয়টি তাঁর জানা ছিল না। মৃত্যুসনদ পাওয়া গেলে বিষয়টি আদালতকে অবহিত করা হবে বলেও জানান তিনি।
মৃত ব্যক্তির নাম অভিযোগপত্রে অন্তর্ভুক্ত থাকার বিষয়টি সামনে আসার পর মামলার তদন্ত প্রক্রিয়া, তথ্য যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট নথিপত্র পর্যালোচনা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।