Template: 1
Tpl 1 Tpl 2 Tpl 3
logo
channeljaintanews24.com
সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬ | ০১:৪৮ পূর্বাহ্ন
channeljaintanews24@gmail.com

অবহেলায় পড়ে আছে দিলদার হোসেন সেলিম টেকনিক্যাল কলেজ, , চালুর দাবিতে সোচ্চার গোয়াইনঘাটবাসী

✍ চ্যানেল জৈন্তা নিউজ
🕒 সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬ | ০১:৪৮ পূর্বাহ্ন

গোয়াইনঘাট (সিলেট) প্রতিনিধি:

সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার ১২নং সদর ইউনিয়নের তিতারাই গ্রামে প্রতিষ্ঠিত ‘দিলদার হোসেন সেলিম টেকনিক্যাল কলেজ’ দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ থাকায় অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সহসাংগঠনিক সম্পাদক মরহুম দিলদার হোসেন সেলিমের নামে প্রতিষ্ঠিত এ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি চালু না হওয়ায় স্থানীয় শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সচেতন মহলের মধ্যে হতাশা বিরাজ করছে। কলেজটির শিক্ষা কার্যক্রম দ্রুত চালুর দাবিতে সোচ্চার হয়ে উঠেছেন স্থানীয় রাজনৈতিক, সামাজিক ও শিক্ষানুরাগী ব্যক্তিরা।


স্থানীয়দের মতে, বর্তমান বিশ্বে কর্মসংস্থান, আত্মনির্ভরশীলতা ও দক্ষ জনশক্তি গড়ে তুলতে কারিগরি শিক্ষার গুরুত্ব অপরিসীম। অথচ গোয়াইনঘাট উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নের মধ্যে ফতেহপুর ইউনিয়নে অবস্থিত এম. সাইফুর রহমান টেকনিক্যাল কলেজ ছাড়া অন্য কোথাও উল্লেখযোগ্য কারিগরি বা ভোকেশনাল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নেই। ফলে উপজেলার বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী প্রয়োজনীয় কারিগরি শিক্ষা ও কর্মমুখী প্রশিক্ষণের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।


এ অবস্থায় তিতারাই গ্রামের দিলদার হোসেন সেলিম টেকনিক্যাল কলেজটি চালু করা হলে উপজেলা সদরসহ বৃহত্তর জাফলংয়ের চারটি ইউনিয়নের শিক্ষার্থীদের জন্য কারিগরি শিক্ষার নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


মরহুম দিলদার হোসেন সেলিম ছিলেন সিলেট-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য। এলাকার শিক্ষা, উন্নয়ন ও অগ্রগতিতে তাঁর অবদানের কথা স্মরণ করে স্থানীয়রা বলছেন, তাঁর নামে প্রতিষ্ঠিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি কার্যকরভাবে চালু করা গেলে সেটিই হবে তাঁর স্মৃতির প্রতি যথাযথ সম্মান জানানোর একটি অর্থবহ উদ্যোগ।


এ বিষয়ে মরহুম দিলদার হোসেন সেলিমের সহধর্মিণী অ্যাডভোকেট জেবুন্নাহার সেলিম বলেন, “দিলদার হোসেন সেলিম সবসময় এলাকার মানুষের উন্নয়ন, শিক্ষা ও অগ্রগতির স্বপ্ন দেখতেন। তাঁর নামে প্রতিষ্ঠিত টেকনিক্যাল কলেজটি দীর্ঘদিন ধরে চালু না থাকাটা অত্যন্ত দুঃখজনক। আমি চাই, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত উদ্যোগ নিয়ে প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষা কার্যক্রম চালু করুক। বিশেষ করে গোয়াইনঘাটের দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীরা যেন এখানে কারিগরি শিক্ষা গ্রহণ করে নিজেদের দক্ষ করে গড়ে তুলতে পারে। প্রতিষ্ঠানটি চালু হলে এলাকার শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি মরহুম দিলদার হোসেন সেলিমের স্মৃতিও নতুন প্রজন্মের মধ্যে বেঁচে থাকবে।”


বিএনপি নেতা, সিলেট নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পিপি এবং স্থানীয় পরগণা বাজার স্কুল অ্যান্ড কলেজের এডহক কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট নূর আহমদ বলেন, কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি দ্রুত যথাযথ কর্তৃপক্ষের নজরে আনা প্রয়োজন। এ বিষয়ে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও সিলেট-৪ আসনের সংসদ সদস্য আরিফুল হক চৌধুরীর কাছে দাবি জানাবেন তিনি। প্রতিষ্ঠানটি পুনরায় চালু করা সম্ভব হলে গোয়াইনঘাটবাসী কারিগরি শিক্ষায় অনেক দূর এগিয়ে যাবে বলে তিনি মনে করেন।


১১নং মধ্য জাফলং ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. সাইদুর রহমান বলেন, “গোয়াইনঘাটে শিক্ষার মান উন্নয়ন ও শিক্ষার্থীদের কর্মমুখী শিক্ষায় শিক্ষিত করতে এই প্রতিষ্ঠানটি চালু করা অত্যন্ত জরুরি। বর্তমান যুগে শুধু সাধারণ শিক্ষায় শিক্ষিত হলেই হবে না, পাশাপাশি কারিগরি দক্ষতা অর্জন করাও প্রয়োজন। আমাদের এলাকার অনেক শিক্ষার্থী আর্থিক ও যোগাযোগ সমস্যার কারণে দূরে গিয়ে কারিগরি শিক্ষা গ্রহণ করতে পারে না। কলেজটি চালু হলে তারা নিজ এলাকায় থেকেই প্রশিক্ষণ ও শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ পাবে। তাই দল-মত নির্বিশেষে সবাইকে এগিয়ে এসে কলেজটি চালুর দাবি জানাতে হবে।”


গোয়াইনঘাট মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক মো. ছয়ফুল আলম বলেন, “বর্তমান বিশ্বে কারিগরি শিক্ষা কর্মসংস্থান ও আত্মনির্ভরশীলতা অর্জনের অন্যতম মাধ্যম। একজন শিক্ষার্থী কারিগরি শিক্ষা গ্রহণ করে দেশ-বিদেশে দক্ষ জনশক্তি হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারে। গোয়াইনঘাটের মতো একটি বৃহৎ উপজেলায় কারিগরি শিক্ষার সুযোগ সীমিত থাকা দুঃখজনক। দিলদার হোসেন সেলিম টেকনিক্যাল কলেজটি চালু হলে স্থানীয় শিক্ষার্থীরা হাতে-কলমে শিক্ষা ও বিভিন্ন পেশাভিত্তিক প্রশিক্ষণ গ্রহণের সুযোগ পাবে। তাই শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে প্রতিষ্ঠানটি দ্রুত চালুর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত।”


এলাকাবাসী জানান, দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ থাকায় প্রতিষ্ঠানটির অবকাঠামো ও সম্পদের যথাযথ ব্যবহার হচ্ছে না। প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিয়ে কলেজটি চালু করা হলে স্থানীয় শিক্ষার্থীরা নিজ এলাকায় থেকেই কারিগরি শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ পাবে। পাশাপাশি কর্মসংস্থানের নতুন সম্ভাবনাও তৈরি হবে।


গোয়াইনঘাট উপজেলা ছাত্রদলের সদস্যসচিব মুমিনুল হক বলেন, “শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ ও এলাকার উন্নয়নের স্বার্থে দিলদার হোসেন সেলিম টেকনিক্যাল কলেজটি দ্রুত চালু করা প্রয়োজন। গোয়াইনঘাটের অনেক শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষার পাশাপাশি কারিগরি শিক্ষা গ্রহণ করতে আগ্রহী হলেও পর্যাপ্ত সুযোগের অভাবে তা সম্ভব হচ্ছে না। কলেজটি চালু হলে নতুন প্রজন্ম দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে নিজেদের কর্মজীবন গড়ে তুলতে পারবে। মরহুম দিলদার হোসেন সেলিমের নামে প্রতিষ্ঠিত এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি অবহেলায় পড়ে না রেখে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রুত চালুর উদ্যোগ গ্রহণের দাবি জানাচ্ছি।”


সচেতন মহলের পক্ষ থেকে কলেজটি চালুর বিষয়ে কয়েকটি দাবি তুলে ধরা হয়েছে। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—প্রতিষ্ঠানটির বর্তমান অবস্থা সরেজমিনে পরিদর্শন, প্রয়োজনীয় অবকাঠামো উন্নয়ন, প্রশাসনিক জটিলতা নিরসন, দ্রুত শিক্ষা কার্যক্রম চালু এবং স্থানীয় চাহিদার ভিত্তিতে কারিগরি শিক্ষার বিভিন্ন বিষয় ও প্রশিক্ষণ চালু করা। পাশাপাশি দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ শিক্ষাসুবিধা নিশ্চিত করারও দাবি জানানো হয়েছে।


স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, বিষয়টি শুধু একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চালুর দাবি নয়; বরং গোয়াইনঘাটের শিক্ষার্থীদের দক্ষ জনশক্তি হিসেবে গড়ে তোলার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। এ জন্য রাজনৈতিক পরিচয় ও ব্যক্তিগত স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষানুরাগী ও এলাকাবাসীকে সম্মিলিতভাবে এগিয়ে আসতে হবে।


স্থানীয়দের জোর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ থাকা দিলদার হোসেন সেলিম টেকনিক্যাল কলেজটি পুনরায় চালু করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করুক। এর মাধ্যমে গোয়াইনঘাটের শিক্ষার্থীদের জন্য কারিগরি শিক্ষার নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে বলে প্রত্যাশা সবার।

ছবি
channeljaintanews24.com
logo
ভিজিট করুন
০২.১১.২০২৬
© চ্যানেল জৈন্তা নিউজ — সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
channeljaintanews24.com