জগন্নাথপুর প্রতিনিধি:
সুনামগঞ্জের হাওর অধ্যুষিত জগন্নাথপুর উপজেলায় সরকারি প্রণোদনার বোরো ধানের বীজ যথাসময়ে বিতরণ না করার অভিযোগ উঠেছে। এতে বোরো চাষের মৌসুমে সরকারি বীজের অপেক্ষায় না থেকে বেসরকারি কোম্পানির বীজ বেশি দামে কিনতে বাধ্য হচ্ছেন স্থানীয় কৃষকরা। এদিকে সরকারি বীজ বিতরণে বিলম্বের পেছনে বীজ কোম্পানিগুলোর সঙ্গে কৃষি বিভাগের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কোনো যোগসাজশ রয়েছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন কৃষকরা।
স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, বোরো মৌসুম শুরুর আগেই সরকারি প্রণোদনার বীজ কৃষকদের হাতে পৌঁছানোর প্রয়োজন থাকলেও যথাসময়ে তা বিতরণ করা হয় না। ফলে চাষাবাদের প্রস্তুতি নিতে বাধ্য হয়ে বাজার থেকে বেসরকারি কোম্পানির বীজ উচ্চমূল্যে কিনতে হচ্ছে। এতে উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
কৃষকদের দাবি, সরকারি বীজ বিতরণে বিলম্বের কারণে বেসরকারি বীজ কোম্পানিগুলো লাভবান হওয়ার সুযোগ পাচ্ছে। তাঁদের মধ্যে এমন অভিযোগও রয়েছে যে, বীজ কোম্পানিগুলোর সঙ্গে কৃষি বিভাগের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কারণে ইচ্ছাকৃতভাবে সরকারি বীজ বিতরণে বিলম্ব করা হচ্ছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন। তবে এ অভিযোগের পক্ষে কোনো প্রমাণ পাওয়া গেছে কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
কৃষকরা জানান, জগন্নাথপুরের অধিকাংশ হাওর এলাকার কৃষক বোরো ধান চাষের ওপর নির্ভরশীল। নির্ধারিত সময়ে বীজতলা তৈরি ও ধানের চারা রোপণ করা তাঁদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সময়মতো বীজ না পেলে চাষাবাদ পিছিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি আগাম বন্যায় ফসলহানির ঝুঁকিও বেড়ে যায়।
তাঁদের অভিযোগ, সরকারি বীজ যখন বিতরণ করা হয়, ততদিনে অনেক কৃষক বাজার থেকে বীজ কিনে বীজতলা তৈরি করে ফেলেন। ফলে সরকারি প্রণোদনা কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি প্রকৃত কৃষকরাও যথাসময়ে এর সুফল থেকে বঞ্চিত হন।
এ অবস্থায় সরকারি বীজ বিতরণের সময়সূচি আগাম প্রকাশ, বোরো মৌসুমের শুরুতেই কৃষকদের হাতে বীজ পৌঁছানো এবং বিতরণে বিলম্বের কারণ অনুসন্ধানের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় কৃষকরা। একই সঙ্গে বীজ বিতরণে কোনো অনিয়ম বা যোগসাজশের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা।
এ বিষয়ে জগন্নাথপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কাওছার আহমদ বলেন, ‘জেলার কোথাও এখনো সরকারি বোরো ধানের বীজ আসেনি। কৃষকদের অসুবিধার বিষয়টি আমরা যথাযথ কর্তৃপক্ষকে অবগত করেছি। আশা করছি, দ্রুত সময়ের মধ্যে বোরো ধানের বীজ এসে আমাদের কাছে পৌঁছাবে।’