Template: 2
Tpl 1 Tpl 2 Tpl 3
লিংক channeljaintanews24.com ক্যাটাগরি হবিগঞ্জ রিপোর্ট চ্যানেল জৈন্তা নিউজ
মনতলা ভূমি অফিস ও উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রে যাওয়ার একমাত্র গুরুত্বপূর্ণ সংযোগে দুর্ঘটনার শঙ্কা, বরাদ্দ চেয়ে মন্ত্রণালয়ে চিঠি

মাধবপুরে পিলার ভেঙে ঝুঁকিপূর্ণ সেতু, আতঙ্ক নিয়ে ভূমি অফিসে যাতায়াত

১৭ অক্টোবর ২০২৬ • ০৩:০৬ পূর্বাহ্ন

 মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি:


হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার বহড়া ইউনিয়নের মনতলা ভূমি অফিস ও উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রের পশ্চিম পাশে অবস্থিত একটি সেতু দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। সম্প্রতি টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে সেতুটির দুটি পিলার ভেঙে গেছে। পাশাপাশি পিলারের নিচ থেকে মাটি সরে গেছে এবং সেতুর ওপরের রেলিংও ভেঙে গেছে। এতে সেতুটি দিয়ে চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।


স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মনতলা-জগদীশপুর সড়ক থেকে মনতলা ভূমি অফিস ও উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রে যাতায়াতের গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ এই সেতু। প্রতিদিন ভূমিসংক্রান্ত সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষ, চিকিৎসাসেবা প্রত্যাশী রোগী, শিক্ষার্থী, নারী, শিশু ও বয়স্ক ব্যক্তিরা সেতুটি ব্যবহার করেন। এ ছাড়া আশপাশের কয়েকটি গ্রামের বাসিন্দারাও দৈনন্দিন চলাচলের জন্য সেতুটির ওপর নির্ভরশীল।


স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সেতুটি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকলেও কার্যকর সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। সাম্প্রতিক অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে পিলারের নিচ থেকে মাটি সরে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও নাজুক হয়েছে। ফলে প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সেতুটি পারাপার হতে হচ্ছে তাঁদের।


স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত সেতুটি সংস্কার অথবা নতুন সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি ও রোগীদের চলাচল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। সেতুটি নিরাপদ করা হলে জনদুর্ভোগ কমার পাশাপাশি ভূমি অফিস ও উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রে সেবা নিতে আসা মানুষের যাতায়াতও সহজ হবে।


এ বিষয়ে মাধবপুর উপজেলা প্রকৌশলী জে. ই. সাম জবেদ জানান, সেতুটি তাঁদের বিভাগের আওতাধীন নয়। এ বিষয়ে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন তিনি।


মাধবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মেহেদী হাসান বলেন, এ বছর অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের কারণে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় সড়ক, সেতু ও অন্যান্য অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মনতলার সেতুটির বিষয়ে বরাদ্দ চেয়ে মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। বাজেট বরাদ্দ পাওয়া গেলে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় সংস্কার বা পুনর্নির্মাণের কাজ শুরু করা হবে।


উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা নূর মামুন বলেন, গত তিন বছরে সেতু নির্মাণের জন্য কোনো বরাদ্দ আসেনি। বরাদ্দ পাওয়া গেলে বিষয়টি তাঁদের নজরে রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।


মনতলা সহকারী ভূমি কর্মকর্তা জুনায়েদ আহম্মদ বলেন, “আমাদের প্রতিদিন এই ঝুঁকিপূর্ণ সেতু দিয়েই ভূমি অফিসে যাতায়াত করতে হয়। সাধারণ মানুষও চরম ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন।”


এ অবস্থায় জননিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে সেতুটি দ্রুত পরিদর্শন, ঝুঁকি নিরূপণ এবং প্রয়োজনীয় সংস্কার বা পুনর্নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে সেতুটি নিরাপদ করবে এবং দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের অবসান ঘটাবে।

বিজ্ঞাপন channeljaintanews24.com