Template: 2
Tpl 1 Tpl 2 Tpl 3
লিংক channeljaintanews24.com ক্যাটাগরি সিলেট রিপোর্ট চ্যানেল জৈন্তা নিউজ

তামাবিলে মন্ত্রীর অনুষ্ঠান ঘিরে হট্টগোল, বহিষ্কার ছাত্রদল নেতা মাহফুজ

১১ অক্টোবর ২০২৬ • ০৪:০৩ অপরাহ্ন

স্টাফ রিপোর্টার: সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার তামাবিল স্থলবন্দরে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর মতবিনিময় সভাকে কেন্দ্র করে দলীয় নেতা-কর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা ও হট্টগোলের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনার পর জৈন্তাপুর উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য মাহফুজুর রহমানকে সাংগঠনিক পদ থেকে বহিষ্কার করেছে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদ। এ সিদ্ধান্তে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা।


গত শুক্রবার (৯ অক্টোবর) বিকেলে তামাবিল স্থলবন্দরের কার্যক্রম গতিশীল করা, দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির লক্ষ্যে গোয়াইনঘাট উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে এক বিশেষ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।


জৈন্তাপুর উপজেলা বিএনপির নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নেতা জানান, সভায় ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ ছাড়া অন্যদের হলরুম থেকে বেরিয়ে যেতে বলেন মন্ত্রী। এ নিয়ে দলীয় নেতা-কর্মীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। সভা শেষে তামাবিল স্থলবন্দর ব্যবসায়ী সমিতির সভাকক্ষে প্রবেশের সময় নেতা-কর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা ও হট্টগোল দেখা দেয়। এ সময় মন্ত্রী ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন বলে জানান ওই নেতা।


ঘটনার পর ব্যবসায়ী সমিতির সভাকক্ষে প্রবেশের সিঁড়িতে নেতা-কর্মীদের হট্টগোলের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। একটি বিশেষ সূত্রের দাবি, মাহফুজের উচ্চ স্বরে কথা বলা ও অসৌজন্যমূলক আচরণকে কেন্দ্র করে বিরোধের সূত্রপাত হয়। তবে এ দাবির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।


এ ঘটনার পর শুক্রবার রাতে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে মাহফুজুর রহমানকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে তাঁকে সাংগঠনিক পদ থেকে বহিষ্কারের কথা উল্লেখ করা হয়। কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির এ সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেন।


বহিষ্কারের পর মাহফুজ আহমদ নিজের ফেসবুক আইডিতে বহিষ্কারাদেশের কপি শেয়ার করে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি দাবি করেন, নির্বাচনের সময় তিনি ও অন্য ছাত্রদল কর্মীরা আরিফুল হক চৌধুরীর পক্ষে প্রচারণায় সক্রিয় ভূমিকা রেখেছিলেন। তাঁর অভিযোগ, অনুষ্ঠানে মন্ত্রীর নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা একজন ব্যক্তি তাঁকে ধাক্কা দেন এবং বিষয়টি তদন্ত না করেই তাঁকে বহিষ্কার করা হয়েছে।


ফেসবুক স্ট্যাটাসে মাহফুজ লেখেন, “এই শহরে আমার একটাই পরিচয়, আমি ছাত্রদলের মাহফুজ।” বহিষ্কারের সিদ্ধান্তে অসন্তোষ প্রকাশ করে তিনি ভবিষ্যতে আবারও ছাত্রদলে ফিরে আসার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।


এদিকে, মাহফুজের বহিষ্কারের সিদ্ধান্তে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছাত্রদলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা দেখা দিয়েছে। তাঁরা বহিষ্কারাদেশ পুনর্বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে দলের জ্যেষ্ঠ নেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন।


জৈন্তাপুর শাহজালাল রহঃ ডিগ্রি কলেজ ছাত্রদলের সদস্যসচিব সাহেল আহমেদ তাঁর ফেসবুক স্ট্যাটাসে মাহফুজের বহিষ্কারে গভীর দুঃখ প্রকাশ করেন। তিনি মাহফুজকে একজন পরিশ্রমী ও ত্যাগী কর্মী হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, বিশেষ করে নির্বাচনের সময় তাঁর নিরলস পরিশ্রম, ত্যাগ ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড প্রশংসার দাবিদার। দলের কঠিন সময়ে মাঠে থেকে কাজ করা কর্মীদের যথাযথ মূল্যায়ন হওয়া প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি। মাহফুজের ত্যাগ ও পরিশ্রমের যথাযথ মূল্যায়নের প্রত্যাশা জানান সাহেল আহমেদ।


ঘটনার বিষয়ে গোয়াইনঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ওমর ফারুক মোড়ল জানান, দলীয় নেতা-কর্মীদের মধ্যে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হলে পুলিশ ও বিএনপির শীর্ষ নেতৃবৃন্দ পরিস্থিতি স্বাভাবিক করেন।


এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে জৈন্তাপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুর রশিদের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।

বিজ্ঞাপন channeljaintanews24.com