পবিত্র ওমরাহ পালন শেষে দেশে ফিরে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দীর্ঘ সময় ভোগান্তির শিকার হওয়ার অভিযোগ করেছেন ভ্রমণবিষয়ক কনটেন্ট নির্মাতা ও দন্ত চিকিৎসক ডা. ওরাকাতুল জান্নাত। ট্রলি পেতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা, লাগেজ পেতে বিলম্ব, দীর্ঘ সারি এবং যাত্রীদের বসার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) ওমরাহ শেষে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া ভিডিও বার্তায় তিনি এসব অভিযোগ তুলে ধরেন। তাঁর দাবি, বিমান অবতরণের পর ট্রলি পেতে প্রায় ৩০ থেকে ৪০ মিনিট লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। এরপর ট্রলি পাওয়ার পরও লাগেজের জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়েছে।
ডা. ওরাকাতুল জান্নাতের ভাষ্য অনুযায়ী, সকাল ৯টার পাঁচ মিনিট আগে তাদের বিমান অবতরণ করে। কিন্তু সকাল সাড়ে ১১টার দিকে গিয়ে তারা লাগেজ হাতে পান। অর্থাৎ বিমান অবতরণের পর প্রায় তিন ঘণ্টা সময় কেটে যায়।
তিনি বলেন, বিমানবন্দরের অ্যারাইভাল এলাকায় যাত্রীদের দীর্ঘ সারি তৈরি হয়েছিল। কোথাও কোথাও সেই সারি ৫০০ মিটার থেকে এক কিলোমিটার পর্যন্ত দীর্ঘ ছিল বলে তিনি দাবি করেন। দীর্ঘ সময় অপেক্ষার কারণে বয়স্ক ব্যক্তি, শিশু ও প্রবীণ যাত্রীদের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
ব্যাগেজ ক্লেইম এলাকায় পর্যাপ্ত বসার ব্যবস্থা না থাকার বিষয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন এই চিকিৎসক। তাঁর প্রশ্ন, দেশের প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দূরদূরান্ত থেকে দেশে ফেরা যাত্রীদের এভাবে দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থাকতে হবে কেন?
বিমানবন্দরে জমজমের পানি না পাওয়ার বিষয়েও অভিযোগ করেন ডা. ওরাকাতুল জান্নাত। তাঁর দাবি, জমজমের পানি না আসার বিষয়ে যাত্রীদের বিমান কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।
দীর্ঘ ভোগান্তির অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি আক্ষেপ করে বলেন, ‘বাংলাদেশে জন্মগ্রহণ করা মনে হয় পাপের পর্যায়ে পড়ে গেছে।’ তাঁর ভাষ্য, এর আগেও বিভিন্ন সময়ে বিমানবন্দরে ভোগান্তির শিকার হয়েছেন; তবে এবারের মতো পরিস্থিতি তিনি আগে দেখেননি।
বিমানবন্দরের সেবাব্যবস্থা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি আরও বলেন, সরকার পরিবর্তন হলেও সেবাব্যবস্থায় কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন হয়নি বলে তাঁর মনে হয়েছে। যাত্রীদের ভোগান্তি কমাতে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
তবে ডা. ওরাকাতুল জান্নাতের এসব বক্তব্য তাঁর ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া অভিযোগের ভিত্তিতে প্রকাশ করা হলো। সংশ্লিষ্ট বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে সংযোজন করা যেতে পারে।
সূত্র জাগো নিউজ