Template: 2
Tpl 1 Tpl 2 Tpl 3
লিংক channeljaintanews24.com ক্যাটাগরি সুনামগঞ্জ রিপোর্ট চ্যানেল জৈন্তা নিউজ
প্রশাসনিক ভবনের ছাদে ১ কোটি ৪৭ লাখ টাকার সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা, নেই উৎপাদন; রক্ষণাবেক্ষণ নিয়েও প্রশ্ন

শান্তিগঞ্জে ৮ বছর ধরে অকেজো কোটি টাকার সোলার প্রকল্প

১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ • ১১:৫৮ পূর্বাহ্ন

 শান্তিগঞ্জ প্রতিনিধি ::


সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলা পরিষদের প্রশাসনিক ভবনের ছাদে বিদ্যুৎ সাশ্রয় ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারের লক্ষ্যে স্থাপন করা প্রায় ১ কোটি ৪৭ লাখ টাকার সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পটি প্রায় আট বছর ধরে অকেজো হয়ে পড়ে আছে। প্রকল্পের সোলার প্যানেল, ব্যাটারি, আইপিএসসহ বিভিন্ন মূল্যবান যন্ত্রপাতি দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহার না হওয়ায় নষ্ট হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। ফলে একদিকে প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য ব্যাহত হচ্ছে, অন্যদিকে সরকারি অর্থে স্থাপিত মূল্যবান সরঞ্জামের কার্যকারিতা হারানোর আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।


সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সুবিধা নিশ্চিত করা এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর লক্ষ্যে জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্টের আওতায় ২০১৩ সালে বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের অধীনে শান্তিগঞ্জ উপজেলা পরিষদের প্রশাসনিক ভবনের ছাদে সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পটি স্থাপন করা হয়। প্রকল্পে ৩০ কিলোওয়াট ক্ষমতার ১০০টি সোলার প্যানেল, ব্যাটারি, আইপিএসসহ প্রয়োজনীয় বিভিন্ন যন্ত্রপাতি স্থাপন করা হয়। এতে ব্যয় হয় প্রায় ১ কোটি ৪৭ লাখ টাকা।


প্রকল্পটি চালু থাকার সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়, সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়, উপজেলা পরিষদ, কৃষি বিভাগ, মৎস্য বিভাগ, সমবায় অফিস, প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস, স্থানীয় সরকার বিভাগ ও জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অফিসসহ উপজেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে সৌরবিদ্যুতের সুবিধা দেওয়া হতো। ইউএনওর সরকারি বাসভবনেও এই বিদ্যুৎ ব্যবহারের সুযোগ ছিল।


কিন্তু প্রকল্প চালুর দুই থেকে তিন বছরের মধ্যেই ধীরে ধীরে বিভিন্ন যন্ত্রাংশে ত্রুটি দেখা দিতে শুরু করে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। একপর্যায়ে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন ও সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। বর্তমানে পুরো প্রকল্পটি ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়ে আছে। গত প্রায় আট বছর ধরে সোলার প্যানেল, ব্যাটারি, আইপিএসসহ বিভিন্ন যন্ত্রপাতি কার্যত অব্যবহৃত অবস্থায় রয়েছে।


স্থানীয় বাসিন্দা ও সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রকল্পটি চালু থাকার সময় সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের বিদ্যুৎ ব্যয় কমাতে এটি ভূমিকা রেখেছিল। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে প্রকল্পটি বন্ধ থাকায় সেই সুবিধা আর পাওয়া যাচ্ছে না। একই সঙ্গে দীর্ঘদিন অব্যবহৃত থাকায় প্রকল্পের মূল্যবান যন্ত্রপাতিও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।


সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের মতে, শুধু প্রকল্প স্থাপন করলেই এর সুফল নিশ্চিত হয় না; নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ, ব্যাটারি ও ইনভার্টারসহ গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রপাতির কার্যকারিতা পরীক্ষা এবং ত্রুটি দেখা দিলে দ্রুত মেরামতের ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন। বিশেষ করে ব্যাটারি ও ইনভার্টারের মতো যন্ত্রপাতি দীর্ঘদিন ব্যবহার না করলে নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে।


এ অবস্থায় প্রশ্ন উঠেছে—প্রকল্পটি স্থাপনের পর এর নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব কোন প্রতিষ্ঠান বা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ওপর ছিল, কত বছর পর্যন্ত ওয়ারেন্টি বা রক্ষণাবেক্ষণ সুবিধা ছিল এবং প্রকল্পটি অচল হওয়ার পর তা সচল রাখতে কী ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নথিপত্র পর্যালোচনা ও প্রয়োজনীয় যাচাইয়ের দাবি উঠেছে।


সচলের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে


এ বিষয়ে শান্তিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিল্লোল চাকমা বলেন, তিনি নতুন নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে যোগ দিয়েছেন। সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পটি সচল করার বিষয়ে স্থানীয় প্রকৌশলীর সঙ্গে ইতোমধ্যে আলোচনা হয়েছে।


তিনি বলেন, পুরো প্রকল্পটি সচল করতে কী পরিমাণ অর্থের প্রয়োজন হবে, তা নির্ধারণের জন্য সংশ্লিষ্ট বিষয়ে অভিজ্ঞ টেকনিশিয়ান বা বিশেষজ্ঞ দিয়ে একটি প্রাক্কলন (এস্টিমেট) করানো হবে।


ইউএনও আরও বলেন, ব্যয় কম হলে এবং উপজেলা তহবিল থেকে তা বাস্তবায়নের মতো সংস্থান থাকলে তহবিল থেকেই কাজটি করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। আর ব্যয় বেশি হলে মন্ত্রণালয়ে লিখিতভাবে আবেদন করে পৃথক বরাদ্দ এনে কাজটি বাস্তবায়নের ব্যবস্থা করা হবে।


তিনি জানান, বিষয়টি তিনি সরেজমিনে দেখে এসেছেন এবং প্রকল্পটি সচল করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

বিজ্ঞাপন channeljaintanews24.com