নিজস্ব প্রতিবেদক ::
সিলেট বিভাগের চা শিল্পের বড় একটি অংশ দেশের শীর্ষস্থানীয় ও অতি ধনাঢ্য ব্যবসায়ী ও করপোরেট প্রতিষ্ঠানের মালিকানায় রয়েছে। বাংলাদেশ চা বোর্ডের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, দেশের নিবন্ধিত ১৬৭টি চা বাগানের মধ্যে সিলেট, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জেই রয়েছে ১৩৫টি। এসব বাগানের উল্লেখযোগ্য অংশ বিভিন্ন শিল্পগোষ্ঠী ও ব্যবসায়ী পরিবারের মালিকানাধীন।
চা বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, দেশের সাত জেলা—মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, সিলেট, চট্টগ্রাম, রাঙ্গামাটি, পঞ্চগড় ও ঠাকুরগাঁও—মিলে মোট ২ লাখ ৭৯ হাজার ৫০৬ দশমিক ৮৮ একর জমিতে চা বাগান গড়ে উঠেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আয়তনের চা বাগান রয়েছে মৌলভীবাজারে। জেলায় দেড় লাখ একরেরও বেশি জমিতে চা বাগান রয়েছে।
সিলেট অঞ্চলের উল্লেখযোগ্য মালিকানা
সিলেট, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জের বিভিন্ন চা বাগানের মালিকানা রয়েছে এম আহমেদ টি অ্যান্ড ল্যান্ডস কোম্পানি লিমিটেড, দ্য কনসোলিডেটেড টি অ্যান্ড ল্যান্ডস কোম্পানি লিমিটেড, এইচআরসি গ্রুপ, এমএম ইস্পাহানী লিমিটেড, ডানকান ব্রাদার্স (বাংলাদেশ) লিমিটেড, আকিজ গ্রুপ, সিটি গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ, প্যারাগন এগ্রো লিমিটেডসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও শিল্পগোষ্ঠীর হাতে।
জৈন্তাপুর উপজেলার হাবিবনগর, খান চা, আফিফানগর ও লালাখাল চা বাগানের মালিকানা এম আহমেদ টি অ্যান্ড ল্যান্ডস কোম্পানি লিমিটেডের। প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাফওয়ান চৌধুরী। একই প্রতিষ্ঠানের মালিকানায় রয়েছে মৌলভীবাজারের ফুলবাড়ী, শ্রীমঙ্গলের নূরজাহান এবং রাজনগরের আমিনাবাদ ও চান্দবাগ চা বাগান।
শ্রীমঙ্গলের ডিনেস্টন, বালিশিরা, রাজঘাট, আমরাইল, ভাড়াউড়া, রশিদপুর ও দারাগাঁও চা বাগানের মালিক দ্য কনসোলিডেটেড টি অ্যান্ড ল্যান্ডস কোম্পানি লিমিটেড। প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক আহমেদ কামরুল ইসলাম চৌধুরী। কুলাউড়ার ক্লিভডন ও দিলদারপুর চা বাগানের মালিক এইচআরসি গ্রুপ; চেয়ারম্যান সাঈদ হোসেন চৌধুরী।
এমএম ইস্পাহানী লিমিটেডের মালিকানায় রয়েছে কুলাউড়ার গাজীপুর ও জেরিন এবং শ্রীমঙ্গলের মির্জাপুর চা বাগান। প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মির্জা সালমান ইস্পাহানী। কুলাউড়ার ঝিমাই, বাহুবলের মধুপুর, শ্রীমঙ্গলের দিনারপুর ও সাতগাঁও চা বাগানের মালিক কেদারপুর টি কোম্পানি লিমিটেড; ব্যবস্থাপনা পরিচালক লায়লা রহমান কবীর।
বড়লেখার বাহাদুরপুর চা বাগান আকিজ গ্রুপের মালিকানাধীন। গ্রুপটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক শেখ বশির উদ্দিন। অন্যদিকে, সিলেট, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় ১৬টি চা বাগানের মালিকানা রয়েছে ডানকান ব্রাদার্স (বাংলাদেশ) লিমিটেডের। প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইমরান আহমেদ।
সিলেটের আরও যেসব বাগান
সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার মমিনছড়া ও মৌলভীবাজারের রাজনগরের মাথিউড়া চা বাগানের মালিক মাথিউড়া টি কোম্পানি লিমিটেড। সিলেটের খাদিমনগরের বুরজান ও কুলাউড়ার ফুলতলা চা বাগানের মালিক দ্য নিউ সিলেট টি এস্টেট লিমিটেড। প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক রফিকুল হক।
সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জের মণিপুর চা বাগানসহ মৌলভীবাজারের মেরিনা ও শ্রীমঙ্গলের সাইফ চা বাগান মণিপুর টি কোম্পানি লিমিটেডের মালিকানাধীন। প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. সাইফুর রহমান। খাদিম চা বাগান ও শ্রীমঙ্গলের জঙ্গলবাড়ি চা বাগানের মালিক নিনা আফজাল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড; ব্যবস্থাপনা পরিচালক আফজাল রশিদ চৌধুরী।
সিলেটের মালনিছড়া, কুলাউড়ার রাজনগর ও কমলগঞ্জের দলই চা বাগানের মালিক রাজনগর টি কোম্পানি লিমিটেড। প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাগীব আলী। সিলেটের অহিদাবাদ চা বাগানের মালিক এস আহমেদ কোম্পানি লিমিটেড এবং স্টার চা বাগানের মালিক দ্য স্টার টি কোম্পানি লিমিটেড।
জৈন্তাপুর উপজেলার শ্রীপুর চা বাগানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইমরান আহমেদ চৌধুরী। গোয়াইনঘাটের ফতেহপুর চা বাগানের স্বত্বাধিকারী এপোলো মাল্টিপারপাস এগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড। ফেঞ্চুগঞ্জের ডালুছেড়া চা বাগানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জে এন দেব চৌধুরী।
সিলেটের পাঠানটুলার আলীবাহার চা বাগানের মালিক মো. আলী বক্স অ্যান্ড কোম্পানি লিমিটেড। কানাইঘাটের লোভাছড়া চা বাগানের মালিক লোভাছড়া টি কোম্পানি লিমিটেড। গোয়াইনঘাটের জাফলং চা বাগানের মালিক জাফলং টি কোম্পানি লিমিটেড এবং জৈন্তাপুরের মেঘালয় চা বাগানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ইকবাল হোসাইন।
সংকটে চা শিল্প
মালিকানা কাঠামোর পাশাপাশি বর্তমানে দেশের চা শিল্প নানা সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। চলতি মৌসুমের শুরু থেকেই প্রচণ্ড দাবদাহে চা উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে ক্রমাগত লোডশেডিং। এতে চা কারখানায় প্রক্রিয়াকরণ কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে এবং উৎপাদিত চায়ের গুণগত মান ধরে রাখা নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
কোনো কোনো বাগানে জেনারেটর ব্যবহার করে কারখানার কার্যক্রম সচল রাখা হলেও এতে স্বাভাবিকের তুলনায় উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশ টি অ্যাসোসিয়েশনের সংশ্লিষ্টরা বলছেন, চা উৎপাদনের ভরা মৌসুমে লোডশেডিং শিল্পটির জন্য বড় সংকট তৈরি করছে। বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার পর জেনারেটর চালু করতে এবং বিদ্যুৎ ফিরে এলে মেশিন পুনরায় সচল করতে সময় লাগায় উৎপাদন প্রক্রিয়ার ধারাবাহিকতা ব্যাহত হচ্ছে।
টি ট্রেডার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের কর্মকর্তাদের মতে, গত সাত-আট বছরে নিলামে চায়ের গড় মূল্য প্রায় একই থাকলেও উৎপাদন ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। মজুরি, চিকিৎসা ও অন্যান্য ভাতাসহ শ্রমিকপ্রতি দৈনিক ব্যয় ন্যূনতম প্রায় ৪০০ টাকা বলে তাঁরা উল্লেখ করেছেন। দেশে বছরে চায়ের চাহিদা প্রায় সাড়ে ৯ কোটি কেজি।
বাংলাদেশ চা সংসদের সাবেক সভাপতি মো. শাহ আলম বলেন, চা বাগানের শ্রমিকদের নগদ মজুরি তুলনামূলক কম দেখালেও অন্যান্য সুবিধা, ওভারটাইম ও নির্ধারিত সীমার বেশি চা পাতা উত্তোলনের অতিরিক্ত পারিশ্রমিকসহ হিসাব করলে শ্রমিকপ্রতি দৈনিক ব্যয় প্রায় ৪০০ টাকার মতো হয়। তাঁর মতে, উৎপাদন খরচের তুলনায় চায়ের বিক্রয়মূল্য কম হওয়ায় অনেক উদ্যোক্তা লোকসানে রয়েছেন এবং পুরোনো মালিকদের অনেকে বাগান বিক্রি করে দিতে বাধ্য হচ্ছেন।
তিনি আরও বলেন, চা শিল্প শুধু বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়েই ভূমিকা রাখে না; চাকে ঘিরে বিভিন্ন উৎপাদনশীল খাত, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা ও পেশাজীবী শ্রেণির কর্মসংস্থানও তৈরি হয়েছে। নিলাম পদ্ধতির কারণে বাগান মালিকরা ইচ্ছামতো চায়ের দাম বাড়াতে পারেন না। তাই দেশের চা শিল্প রক্ষায় সরকারসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সমন্বিতভাবে উদ্যোগ নিতে হবে।
বাংলাদেশ চা বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, বৈশ্বিক চা উৎপাদনে বাংলাদেশের অবদান প্রায় ৩ শতাংশ। সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি, লোডশেডিং, শ্রমিক ব্যয় ও বাজারমূল্যের চাপ অব্যাহত থাকলে দেশের চা শিল্প আরও কঠিন সংকটে পড়তে পারে।
সূত্র: বণিক বার্তা
নিজস্ব প্রতিবেদক ::
সিলেট বিভাগের চা শিল্পের বড় একটি অংশ দেশের শীর্ষস্থানীয় ও অতি ধনাঢ্য ব্যবসায়ী ও করপোরেট প্রতিষ্ঠানের মালিকানায় রয়েছে। বাংলাদেশ চা বোর্ডের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, দেশের নিবন্ধিত ১৬৭টি চা বাগানের মধ্যে সিলেট, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জেই রয়েছে ১৩৫টি। এসব বাগানের উল্লেখযোগ্য অংশ বিভিন্ন শিল্পগোষ্ঠী ও ব্যবসায়ী পরিবারের মালিকানাধীন।
চা বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, দেশের সাত জেলা—মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, সিলেট, চট্টগ্রাম, রাঙ্গামাটি, পঞ্চগড় ও ঠাকুরগাঁও—মিলে মোট ২ লাখ ৭৯ হাজার ৫০৬ দশমিক ৮৮ একর জমিতে চা বাগান গড়ে উঠেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আয়তনের চা বাগান রয়েছে মৌলভীবাজারে। জেলায় দেড় লাখ একরেরও বেশি জমিতে চা বাগান রয়েছে।
সিলেট অঞ্চলের উল্লেখযোগ্য মালিকানা
সিলেট, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জের বিভিন্ন চা বাগানের মালিকানা রয়েছে এম আহমেদ টি অ্যান্ড ল্যান্ডস কোম্পানি লিমিটেড, দ্য কনসোলিডেটেড টি অ্যান্ড ল্যান্ডস কোম্পানি লিমিটেড, এইচআরসি গ্রুপ, এমএম ইস্পাহানী লিমিটেড, ডানকান ব্রাদার্স (বাংলাদেশ) লিমিটেড, আকিজ গ্রুপ, সিটি গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ, প্যারাগন এগ্রো লিমিটেডসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও শিল্পগোষ্ঠীর হাতে।
জৈন্তাপুর উপজেলার হাবিবনগর, খান চা, আফিফানগর ও লালাখাল চা বাগানের মালিকানা এম আহমেদ টি অ্যান্ড ল্যান্ডস কোম্পানি লিমিটেডের। প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাফওয়ান চৌধুরী। একই প্রতিষ্ঠানের মালিকানায় রয়েছে মৌলভীবাজারের ফুলবাড়ী, শ্রীমঙ্গলের নূরজাহান এবং রাজনগরের আমিনাবাদ ও চান্দবাগ চা বাগান।
শ্রীমঙ্গলের ডিনেস্টন, বালিশিরা, রাজঘাট, আমরাইল, ভাড়াউড়া, রশিদপুর ও দারাগাঁও চা বাগানের মালিক দ্য কনসোলিডেটেড টি অ্যান্ড ল্যান্ডস কোম্পানি লিমিটেড। প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক আহমেদ কামরুল ইসলাম চৌধুরী। কুলাউড়ার ক্লিভডন ও দিলদারপুর চা বাগানের মালিক এইচআরসি গ্রুপ; চেয়ারম্যান সাঈদ হোসেন চৌধুরী।
এমএম ইস্পাহানী লিমিটেডের মালিকানায় রয়েছে কুলাউড়ার গাজীপুর ও জেরিন এবং শ্রীমঙ্গলের মির্জাপুর চা বাগান। প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মির্জা সালমান ইস্পাহানী। কুলাউড়ার ঝিমাই, বাহুবলের মধুপুর, শ্রীমঙ্গলের দিনারপুর ও সাতগাঁও চা বাগানের মালিক কেদারপুর টি কোম্পানি লিমিটেড; ব্যবস্থাপনা পরিচালক লায়লা রহমান কবীর।
বড়লেখার বাহাদুরপুর চা বাগান আকিজ গ্রুপের মালিকানাধীন। গ্রুপটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক শেখ বশির উদ্দিন। অন্যদিকে, সিলেট, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় ১৬টি চা বাগানের মালিকানা রয়েছে ডানকান ব্রাদার্স (বাংলাদেশ) লিমিটেডের। প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইমরান আহমেদ।
সিলেটের আরও যেসব বাগান
সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার মমিনছড়া ও মৌলভীবাজারের রাজনগরের মাথিউড়া চা বাগানের মালিক মাথিউড়া টি কোম্পানি লিমিটেড। সিলেটের খাদিমনগরের বুরজান ও কুলাউড়ার ফুলতলা চা বাগানের মালিক দ্য নিউ সিলেট টি এস্টেট লিমিটেড। প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক রফিকুল হক।
সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জের মণিপুর চা বাগানসহ মৌলভীবাজারের মেরিনা ও শ্রীমঙ্গলের সাইফ চা বাগান মণিপুর টি কোম্পানি লিমিটেডের মালিকানাধীন। প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. সাইফুর রহমান। খাদিম চা বাগান ও শ্রীমঙ্গলের জঙ্গলবাড়ি চা বাগানের মালিক নিনা আফজাল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড; ব্যবস্থাপনা পরিচালক আফজাল রশিদ চৌধুরী।
সিলেটের মালনিছড়া, কুলাউড়ার রাজনগর ও কমলগঞ্জের দলই চা বাগানের মালিক রাজনগর টি কোম্পানি লিমিটেড। প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাগীব আলী। সিলেটের অহিদাবাদ চা বাগানের মালিক এস আহমেদ কোম্পানি লিমিটেড এবং স্টার চা বাগানের মালিক দ্য স্টার টি কোম্পানি লিমিটেড।
জৈন্তাপুর উপজেলার শ্রীপুর চা বাগানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইমরান আহমেদ চৌধুরী। গোয়াইনঘাটের ফতেহপুর চা বাগানের স্বত্বাধিকারী এপোলো মাল্টিপারপাস এগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড। ফেঞ্চুগঞ্জের ডালুছেড়া চা বাগানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জে এন দেব চৌধুরী।
সিলেটের পাঠানটুলার আলীবাহার চা বাগানের মালিক মো. আলী বক্স অ্যান্ড কোম্পানি লিমিটেড। কানাইঘাটের লোভাছড়া চা বাগানের মালিক লোভাছড়া টি কোম্পানি লিমিটেড। গোয়াইনঘাটের জাফলং চা বাগানের মালিক জাফলং টি কোম্পানি লিমিটেড এবং জৈন্তাপুরের মেঘালয় চা বাগানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ইকবাল হোসাইন।
সংকটে চা শিল্প
মালিকানা কাঠামোর পাশাপাশি বর্তমানে দেশের চা শিল্প নানা সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। চলতি মৌসুমের শুরু থেকেই প্রচণ্ড দাবদাহে চা উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে ক্রমাগত লোডশেডিং। এতে চা কারখানায় প্রক্রিয়াকরণ কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে এবং উৎপাদিত চায়ের গুণগত মান ধরে রাখা নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
কোনো কোনো বাগানে জেনারেটর ব্যবহার করে কারখানার কার্যক্রম সচল রাখা হলেও এতে স্বাভাবিকের তুলনায় উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশ টি অ্যাসোসিয়েশনের সংশ্লিষ্টরা বলছেন, চা উৎপাদনের ভরা মৌসুমে লোডশেডিং শিল্পটির জন্য বড় সংকট তৈরি করছে। বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার পর জেনারেটর চালু করতে এবং বিদ্যুৎ ফিরে এলে মেশিন পুনরায় সচল করতে সময় লাগায় উৎপাদন প্রক্রিয়ার ধারাবাহিকতা ব্যাহত হচ্ছে।
টি ট্রেডার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের কর্মকর্তাদের মতে, গত সাত-আট বছরে নিলামে চায়ের গড় মূল্য প্রায় একই থাকলেও উৎপাদন ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। মজুরি, চিকিৎসা ও অন্যান্য ভাতাসহ শ্রমিকপ্রতি দৈনিক ব্যয় ন্যূনতম প্রায় ৪০০ টাকা বলে তাঁরা উল্লেখ করেছেন। দেশে বছরে চায়ের চাহিদা প্রায় সাড়ে ৯ কোটি কেজি।
বাংলাদেশ চা সংসদের সাবেক সভাপতি মো. শাহ আলম বলেন, চা বাগানের শ্রমিকদের নগদ মজুরি তুলনামূলক কম দেখালেও অন্যান্য সুবিধা, ওভারটাইম ও নির্ধারিত সীমার বেশি চা পাতা উত্তোলনের অতিরিক্ত পারিশ্রমিকসহ হিসাব করলে শ্রমিকপ্রতি দৈনিক ব্যয় প্রায় ৪০০ টাকার মতো হয়। তাঁর মতে, উৎপাদন খরচের তুলনায় চায়ের বিক্রয়মূল্য কম হওয়ায় অনেক উদ্যোক্তা লোকসানে রয়েছেন এবং পুরোনো মালিকদের অনেকে বাগান বিক্রি করে দিতে বাধ্য হচ্ছেন।
তিনি আরও বলেন, চা শিল্প শুধু বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়েই ভূমিকা রাখে না; চাকে ঘিরে বিভিন্ন উৎপাদনশীল খাত, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা ও পেশাজীবী শ্রেণির কর্মসংস্থানও তৈরি হয়েছে। নিলাম পদ্ধতির কারণে বাগান মালিকরা ইচ্ছামতো চায়ের দাম বাড়াতে পারেন না। তাই দেশের চা শিল্প রক্ষায় সরকারসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সমন্বিতভাবে উদ্যোগ নিতে হবে।
বাংলাদেশ চা বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, বৈশ্বিক চা উৎপাদনে বাংলাদেশের অবদান প্রায় ৩ শতাংশ। সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি, লোডশেডিং, শ্রমিক ব্যয় ও বাজারমূল্যের চাপ অব্যাহত থাকলে দেশের চা শিল্প আরও কঠিন সংকটে পড়তে পারে।
সূত্র: বণিক বার্তা