মো. জুনেদ আহমদ, ফ্রান্স:
ফ্রান্সের নরম্যান্ডি অঞ্চলে রুয়াঁ থেকে কঁগামী একটি যাত্রীবাহী ট্রেন লাইনচ্যুত হয়ে অন্তত ৪৪ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে ১৮ বছর বয়সী এক তরুণীর অবস্থা গুরুতর। তাঁকে হেলিকপ্টারে করে রুয়াঁ বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় সময় সন্ধ্যা পৌনে ৮টার দিকে সেনে-মেরিতিম বিভাগের ক্লেওঁ এলাকার কাছে, তুরভিল-লা-রিভিয়ের ও এলবুফ-সাঁ-তোবাঁর মধ্যবর্তী রেলপথে এ দুর্ঘটনা ঘটে। ট্রেনটি রুয়াঁ থেকে কঁর দিকে যাচ্ছিল। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ট্রেনটিতে ১৮৬ জন যাত্রী ছিলেন।
দুর্ঘটনার পরপরই ঘটনাস্থলে ব্যাপক উদ্ধার তৎপরতা শুরু হয়। স্থানীয় প্রশাসন জরুরি পরিস্থিতিতে বিপুলসংখ্যক দমকলকর্মী, চিকিৎসাকর্মী ও উদ্ধারকারী দল মোতায়েন করে। প্রায় ১৩০ জন দমকলকর্মী, পাঁচটি চিকিৎসা দল এবং ৮০টি জরুরি যান ঘটনাস্থলে কাজ করে। আহতদের দ্রুত বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়।
প্রাথমিকভাবে ফরাসি পরিবহনমন্ত্রী ফিলিপ তাবারো প্রায় ২০ জন আহত হওয়ার কথা জানিয়েছিলেন। পরে উদ্ধার ও চিকিৎসা কার্যক্রমের সঙ্গে সঙ্গে আহতের সংখ্যা বেড়ে ৪৪ জনে দাঁড়ায়। তাঁদের মধ্যে ১৮ বছর বয়সী তরুণীকে ‘জরুরি ভিত্তিতে’ চিকিৎসার জন্য হেলিকপ্টারে করে রুয়াঁ বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে নেওয়া হয়। বাকি ৪৩ জনকে তুলনামূলক কম গুরুতর অবস্থায় চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ট্রেনটি হঠাৎ প্রবল ঝাঁকুনির পর লাইনচ্যুত হয়। কয়েকটি বগি রেললাইন থেকে ছিটকে পড়ে এবং একটি বগি কাত হয়ে যায়। জানালার কাচ ভেঙে যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
এদিকে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত নয়। তদন্তকারীরা রেললাইনের ওপর পড়ে থাকা একটি রেলের খণ্ডকে গুরুত্ব দিয়ে দেখছেন। প্রাথমিক তদন্তে এটি ট্রেনটির লাইনচ্যুত হওয়ার সঙ্গে সম্পৃক্ত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সম্ভাব্য নাশকতা বা ইচ্ছাকৃতভাবে রেললাইনে বস্তু রাখার বিষয়টিও তদন্তের আওতায় এসেছে। তবে এ মুহূর্তে দুর্ঘটনাকে নাশকতা হিসেবে চূড়ান্তভাবে ঘোষণা করা হয়নি।
দুর্ঘটনার পর উদ্ধারকাজ ও নিরাপত্তার স্বার্থে সংশ্লিষ্ট রেললাইনের বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ করে দেওয়া হয়। ফলে রুয়াঁ-কঁ এবং কঁ-লে আভরসহ সংশ্লিষ্ট রুটে ট্রেন চলাচলে সাময়িক বিঘ্ন ঘটে। আটকে পড়া যাত্রীদের গন্তব্যে পৌঁছে দিতে বিকল্প বাসের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
রুয়াঁর প্রসিকিউটর সেবাস্তিয়াঁ গালোয়া জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার ঘটনায় পুলিশি তদন্ত শুরু হয়েছে। ট্রেন চালকের অ্যালকোহল ও মাদক গ্রহণের পরীক্ষার ফল নেগেটিভ এসেছে। তদন্তকারীরা দুর্ঘটনার কারণ নির্ধারণে রেললাইনের অবস্থা, ট্রেনের গতি, ট্রেনের সঙ্গে সংঘর্ষ হওয়া বস্তু এবং অন্যান্য সম্ভাব্য কারণ খতিয়ে দেখছেন।
ফরাসি রেল অবকাঠামো ব্যবস্থাপনা সংস্থা এসএনসিএফ রেজো জানিয়েছে, যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই তাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। একই সঙ্গে দুর্ঘটনার পর রেল চলাচল স্বাভাবিক করতে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে।
দুর্ঘটনার কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। তদন্ত শেষ হওয়ার আগে দুর্ঘটনাটি কীভাবে ঘটেছে বা এর পেছনে কোনো ইচ্ছাকৃত কর্মকাণ্ড ছিল কি না—সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে সতর্ক রয়েছে ফরাসি কর্তৃপক্ষ।
মো. জুনেদ আহমদ, ফ্রান্স:
ফ্রান্সের নরম্যান্ডি অঞ্চলে রুয়াঁ থেকে কঁগামী একটি যাত্রীবাহী ট্রেন লাইনচ্যুত হয়ে অন্তত ৪৪ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে ১৮ বছর বয়সী এক তরুণীর অবস্থা গুরুতর। তাঁকে হেলিকপ্টারে করে রুয়াঁ বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় সময় সন্ধ্যা পৌনে ৮টার দিকে সেনে-মেরিতিম বিভাগের ক্লেওঁ এলাকার কাছে, তুরভিল-লা-রিভিয়ের ও এলবুফ-সাঁ-তোবাঁর মধ্যবর্তী রেলপথে এ দুর্ঘটনা ঘটে। ট্রেনটি রুয়াঁ থেকে কঁর দিকে যাচ্ছিল। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ট্রেনটিতে ১৮৬ জন যাত্রী ছিলেন।
দুর্ঘটনার পরপরই ঘটনাস্থলে ব্যাপক উদ্ধার তৎপরতা শুরু হয়। স্থানীয় প্রশাসন জরুরি পরিস্থিতিতে বিপুলসংখ্যক দমকলকর্মী, চিকিৎসাকর্মী ও উদ্ধারকারী দল মোতায়েন করে। প্রায় ১৩০ জন দমকলকর্মী, পাঁচটি চিকিৎসা দল এবং ৮০টি জরুরি যান ঘটনাস্থলে কাজ করে। আহতদের দ্রুত বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়।
প্রাথমিকভাবে ফরাসি পরিবহনমন্ত্রী ফিলিপ তাবারো প্রায় ২০ জন আহত হওয়ার কথা জানিয়েছিলেন। পরে উদ্ধার ও চিকিৎসা কার্যক্রমের সঙ্গে সঙ্গে আহতের সংখ্যা বেড়ে ৪৪ জনে দাঁড়ায়। তাঁদের মধ্যে ১৮ বছর বয়সী তরুণীকে ‘জরুরি ভিত্তিতে’ চিকিৎসার জন্য হেলিকপ্টারে করে রুয়াঁ বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে নেওয়া হয়। বাকি ৪৩ জনকে তুলনামূলক কম গুরুতর অবস্থায় চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ট্রেনটি হঠাৎ প্রবল ঝাঁকুনির পর লাইনচ্যুত হয়। কয়েকটি বগি রেললাইন থেকে ছিটকে পড়ে এবং একটি বগি কাত হয়ে যায়। জানালার কাচ ভেঙে যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
এদিকে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত নয়। তদন্তকারীরা রেললাইনের ওপর পড়ে থাকা একটি রেলের খণ্ডকে গুরুত্ব দিয়ে দেখছেন। প্রাথমিক তদন্তে এটি ট্রেনটির লাইনচ্যুত হওয়ার সঙ্গে সম্পৃক্ত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সম্ভাব্য নাশকতা বা ইচ্ছাকৃতভাবে রেললাইনে বস্তু রাখার বিষয়টিও তদন্তের আওতায় এসেছে। তবে এ মুহূর্তে দুর্ঘটনাকে নাশকতা হিসেবে চূড়ান্তভাবে ঘোষণা করা হয়নি।
দুর্ঘটনার পর উদ্ধারকাজ ও নিরাপত্তার স্বার্থে সংশ্লিষ্ট রেললাইনের বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ করে দেওয়া হয়। ফলে রুয়াঁ-কঁ এবং কঁ-লে আভরসহ সংশ্লিষ্ট রুটে ট্রেন চলাচলে সাময়িক বিঘ্ন ঘটে। আটকে পড়া যাত্রীদের গন্তব্যে পৌঁছে দিতে বিকল্প বাসের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
রুয়াঁর প্রসিকিউটর সেবাস্তিয়াঁ গালোয়া জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার ঘটনায় পুলিশি তদন্ত শুরু হয়েছে। ট্রেন চালকের অ্যালকোহল ও মাদক গ্রহণের পরীক্ষার ফল নেগেটিভ এসেছে। তদন্তকারীরা দুর্ঘটনার কারণ নির্ধারণে রেললাইনের অবস্থা, ট্রেনের গতি, ট্রেনের সঙ্গে সংঘর্ষ হওয়া বস্তু এবং অন্যান্য সম্ভাব্য কারণ খতিয়ে দেখছেন।
ফরাসি রেল অবকাঠামো ব্যবস্থাপনা সংস্থা এসএনসিএফ রেজো জানিয়েছে, যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই তাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। একই সঙ্গে দুর্ঘটনার পর রেল চলাচল স্বাভাবিক করতে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে।
দুর্ঘটনার কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। তদন্ত শেষ হওয়ার আগে দুর্ঘটনাটি কীভাবে ঘটেছে বা এর পেছনে কোনো ইচ্ছাকৃত কর্মকাণ্ড ছিল কি না—সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে সতর্ক রয়েছে ফরাসি কর্তৃপক্ষ।