নিজস্ব প্রতিবেদক:
সিলেটের জকিগঞ্জে নিজ বসতঘর থেকে উদ্ধার হওয়া মা ও মেয়ের ঝুলন্ত মরদেহ ময়নাতদন্ত শেষে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করেছে পুলিশ। রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে মরদেহ দুটি শেষকৃত্যের জন্য সিলেট নগরীর চালিবন্দর মহাশ্মশানঘাটে নেওয়া হলেও হাসপাতালের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ঠিকঠাক না থাকায় সেখানে শেষকৃত্য সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি। পরে সন্ধ্যার দিকে মরদেহ দুটি অ্যাম্বুলেন্সে করে জকিগঞ্জে নিয়ে যান স্বজনরা।
নিহতরা হলেন—জকিগঞ্জ উপজেলার বারহাল ইউনিয়নের দাশপাড়া গ্রামের চম্পা রাণী দাশ (৩৫) ও তার পাঁচ বছর বয়সী মেয়ে হৃদি রাণী দাশ। চম্পা রাণী দাশ শাহগলী বাজারের জুয়েলারি ব্যবসায়ী প্রদ্যুৎ দাস রতনের স্ত্রী। বিভিন্ন সূত্রে চম্পা রাণী অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
ময়নাতদন্ত শেষে স্বজনদের কাছে মরদেহ হস্তান্তর
এর আগে শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) রাত আনুমানিক ৮টার দিকে বারহাল ইউনিয়নের দাশপাড়া গ্রামের নিজ বসতঘর থেকে মা-মেয়ের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ঘরের ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় তাদের মরদেহ পাওয়া যায়। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ দুটি সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
রোববার ময়নাতদন্ত শেষে বিকেলে পুলিশ মরদেহ দুটি স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করে। এরপর পরিবারের সদস্যরা সিলেট নগরীর চালিবন্দর মহাশ্মশানঘাটে নিয়ে যান। তবে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের জটিলতার কারণে সেখানে শেষকৃত্য সম্পন্ন করা যায়নি। পরে মরদেহ দুটি আবার জকিগঞ্জে নিয়ে যাওয়া হয়।
পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ নেই
মা-মেয়ের মৃত্যুর ঘটনায় রোববার সন্ধ্যা পর্যন্ত পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো মামলা বা লিখিত অভিযোগ করা হয়নি। নিহত চম্পা রাণী দাশের স্বামী প্রদ্যুৎ দাস রতনের সঙ্গে চালিবন্দর মহাশ্মশানঘাটে কথা বলার চেষ্টা করা হলে তিনি বিস্তারিত মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে তিনি জানান, তার কোনো অভিযোগ নেই এবং কারও প্রতি সন্দেহও নেই।
বারহাল ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. মিফতাউল হক বলেন, পরিবারটির এলাকায় ভালো সুনাম রয়েছে। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কোনো ঝগড়া বা মনোমালিন্যের কথাও তারা কখনো শোনেননি।
ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান মো. সালিকুর রহমান জানান, খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন। পরিবারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো অভিযোগ বা সন্দেহের কথা জানানো হয়নি। ফলে মা-মেয়ের মৃত্যুর কারণ কী, তা তার কাছেও পরিষ্কার নয়।
তদন্তের অপেক্ষায় পুলিশ
জকিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ময়নাতদন্ত শেষে বিধি অনুযায়ী মরদেহ দুটি স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পাওয়া গেলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার সময় চম্পা রাণীর স্বামী দোকানে ছিলেন। পরিবারের সদস্যরা সন্ধ্যার দিকে ঘরে গিয়ে মা ও মেয়েকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। পরে স্থানীয়রা জড়ো হয়ে পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ দুটি উদ্ধার করে।
মা-মেয়ের এমন অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় শোকের পাশাপাশি নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হতে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও পুলিশের তদন্তের ফলাফলের অপেক্ষা করতে হবে।