নিজস্ব প্রতিবেদক, জৈন্তাপুর:
সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার চিকনাগুল ইউনিয়নের ঘাটেরচটি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সার্বিক উন্নয়ন, শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনা এবং বিদ্যমান সমস্যা সমাধানে পূর্বের কমিটিকে সহযোগিতা ও প্রয়োজনীয় সাপোর্ট দেওয়ার লক্ষ্যে ১২ সদস্যবিশিষ্ট উন্নয়ন ও সহায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছে।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর ) বিদ্যালয়ের কক্ষে এ উপলক্ষে এক গুরুত্বপূর্ণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এলাকার প্রবীণ মুরুব্বী মকবুল হোসেন চৌধুরীর সভাপতিত্বে এবং তরুণসমাজসেবী কমর উদ্দীনের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সভায় এলাকার মুরব্বি, যুবক, শিক্ষার্থীসহ সর্বস্তরের মানুষের ব্যাপক উপস্থিতি ছিল।
সভায় বিদ্যালয়ের বর্তমান পরিস্থিতি ও বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরা হলে উপস্থিত সবাই গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ উন্নয়ন, শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পাঠদান নিশ্চিত করা এবং বিদ্যালয়ের সার্বিক কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করার বিষয়ে আলোচনা করা হয়।
সভায় আলোচনা শেষে পূর্বের কমিটির মেয়াদ পর্যন্ত তাদের কার্যক্রমে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার পাশাপাশি বিদ্যালয়ের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে সহায়তা করার জন্য ১২ সদস্যবিশিষ্ট উন্নয়ন ও সহায়ক কমিটি গঠন করা হয়।
কমিটিতে সভাপতি হিসেবে জুয়েল আহমদ ডালিম, সহসভাপতি বাশির আলি ও আসাদুজ্জামান চৌধুরি, সেক্রেটারি লুকমান হাকিম এবং কোষাধ্যক্ষ কমর উদ্দীন দায়িত্ব পেয়েছেন।
নির্বাহী সদস্য হিসেবে রয়েছেন—রিয়াসত আলী, শাহাব উদ্দীন, আব্দুশ শাকুর, কবীর আহমদ, জুয়েল আহমদ, জাকির হোসেন ও আজমল হোসাইন।
উল্লেখ্য, ঘাটেরচটি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ এ ধরনের বিদ্যালয়গুলো একসময় ফ্রেন্ডস ইন ভিলেজ ডেভেলপমেন্ট বাংলাদেশ (FIVDB)-এর শিক্ষা কার্যক্রমের আওতায় পরিচালিত হতো। FIVDB দীর্ঘদিন ধরে গ্রামীণ ও সুবিধাবঞ্চিত এলাকার শিশুদের জন্য প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। সংস্থাটির নিজস্ব তথ্য অনুযায়ী, তাদের প্রাথমিক শিক্ষা কর্মসূচিতে প্রি-স্কুল/শিশু শ্রেণি থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত ছয় বছরের প্রাথমিক শিক্ষা দেওয়া হতো এবং জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (NCTB) পাঠ্যক্রম অনুসরণ করা হতো।
পরবর্তীতে FIVDB-এর সংশ্লিষ্ট প্রকল্প/কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর স্থানীয় এলাকাবাসীর সার্বিক সহযোগিতা ও উদ্যোগে বিদ্যালয়গুলোর শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে। ফলে সীমিত সুযোগ-সুবিধার মধ্যেও স্থানীয় মানুষের সহযোগিতায় শিক্ষার্থীদের পাঠদান অব্যাহত রয়েছে।
সভায় স্থানীয় সচেতন মহলের পক্ষ থেকে এসব বিদ্যালয়কে এমপিওভুক্ত নীতিমালার আওতায় আনার বিষয়ে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়। বক্তারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় মানুষের সহযোগিতায় বিদ্যালয়গুলোর শিক্ষা কার্যক্রম চালু থাকলেও সরকারি স্বীকৃতি ও প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা গেলে শিক্ষার মান আরও উন্নত হবে এবং বিদ্যালয়গুলোর কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে।
তারা বলেন, প্রত্যন্ত ও সুবিধাবঞ্চিত এলাকার শিশুদের শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করতে এসব বিদ্যালয়ের বিষয়ে সরকারকে ইতিবাচক উদ্যোগ নিতে হবে। স্থানীয় জনগণের সহযোগিতায় পরিচালিত বিদ্যালয়গুলোকে পর্যায়ক্রমে সরকারি নীতিমালার আওতায় এনে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।
সভা শেষে বিদ্যালয়ের উন্নয়ন, শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনা এবং শিক্ষার্থীদের সুন্দর ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।