নিজস্ব প্রতিবেদক, সিলেট:
সিলেটের বিমানবন্দর থানাধীন লাক্কাতুরা চা-বাগান এলাকা থেকে অনলাইন জুয়া চক্রের এক সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)-৯। এ সময় তার কাছ থেকে অনলাইন জুয়া খেলার কাজে ব্যবহৃত একটি স্মার্ট মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে।
র্যাব-৯-এর সদর কোম্পানির একটি অভিযানিক দল বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে।
র্যাব-৯ জানায়, বুধবার বিকেল ৫টা ১০ মিনিটের দিকে সিলেট বিমানবন্দর থানাধীন লাক্কাতুরা চা-বাগানের রাজাবাড়ি কিশোর সংঘ সংলগ্ন একটি বসতবাড়িতে কয়েকজন ব্যক্তি অনলাইনে জুয়া খেলছেন—এমন তথ্যের ভিত্তিতে র্যাবের একটি অভিযানিক দল সেখানে যায়। পরে বিকেল ৫টা ২৫ মিনিটের দিকে র্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে এক ব্যক্তি পালানোর চেষ্টা করলে তাকে আটক করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদ ও তল্লাশির পর তার হেফাজতে থাকা অনলাইন জুয়া খেলার কাজে ব্যবহৃত একটি স্মার্ট মোবাইল ফোনসহ তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তি হলেন—রনেল বিশ্বাস (২২)। তিনি সিলেটের বিমানবন্দর থানাধীন লাক্কাতুরা চা-বাগান এলাকার মৃত খোকা বিশ্বাসের ছেলে।
র্যাবের জিজ্ঞাসাবাদে রনেল বিশ্বাস জানিয়েছেন, তিনি স্থানীয় পর্যায়ে অনলাইন জুয়ার এজেন্ট হিসেবে কমিশনের মাধ্যমে লাভবান হওয়ার উদ্দেশ্যে বিভিন্ন ব্যক্তিকে অনলাইন জুয়া খেলতে উৎসাহিত করতেন। এ কাজে তিনি ‘Night Teer’, ‘Shillong Night Teer Result Chart’ ও ‘Juwai Teer’ অ্যাপসহ বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করতেন। বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে জুয়ার অর্থ সংগ্রহ করে তা মূল এজেন্টের কাছে পাঠাতেন বলেও জিজ্ঞাসাবাদে তথ্য পাওয়া গেছে।
এ ছাড়া গ্রেপ্তার ব্যক্তির মোবাইল ফোনের হোয়াটসঅ্যাপ ও গ্যালারি পর্যালোচনা করে জুয়া খেলার টোকেন আদান-প্রদান, অর্থ লেনদেন এবং বিভিন্ন টোকেনের ছবি সংরক্ষণের তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে র্যাব।
র্যাব-৯ জানায়, পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে গ্রেপ্তার ব্যক্তির বিরুদ্ধে জুয়া প্রতিরোধ আইন, ২০২৬-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া শেষে তাকে ও জব্দ আলামত সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের বিমানবন্দর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে র্যাব-৯-এর গোয়েন্দা তৎপরতা ও চলমান অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিটি ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে র্যাব-৯, সিলেটের মিডিয়া অফিসার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কে. এম. শহিদুল ইসলাম সোহাগের স্বাক্ষরে প্রকাশ করা হয়।