Template: 1
Tpl 1 Tpl 2 Tpl 3
logo
channeljaintanews24.com
বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১২:৫৮ পূর্বাহ্ন
channeljaintanews24@gmail.com

মধ্যনগরে মিছিলের মামলায় সাংবাদিকের নাম, নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি

চ্যানেল জৈন্তা নিউজ
🕒 বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১২:৫৮ পূর্বাহ্ন

মধ্যনগর (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি:

সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের বিক্ষোভ মিছিলের ঘটনায় ৪৮ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা হয়েছে। মামলায় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের পাশাপাশি তাহিরপুরের সাংবাদিক শওকত হাসান সৈকতের নামও রয়েছে। মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও ১০ থেকে ২০ জনকে আসামি করা হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।


মামলাটি মধ্যনগর থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে করা হয়েছে। বাদী হয়েছেন উপজেলার বংশীকুন্ডা উত্তর ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক/সাবেক আহ্বায়ক মো. শাহাজাহান। মামলার এজাহার অনুযায়ী, গত ২৮ আগস্ট মধ্যনগর উপজেলার বংশীকুন্ডা উত্তর ইউনিয়নের বাঙ্গালভিটা এলাকায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল করেন।


মামলায় সাংবাদিক শওকত হাসান সৈকত ছাড়াও তাহিরপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের এখলাছুর রহমান তারা মিয়া, আজিজুল হক, ইমরান হোসেন বিপক, রাজন মিয়া, রাজন চন্দ্র, রোমান মিয়া, সাজিদ মিয়া, সুজন মিয়া ও জুয়েল আখঞ্জীসহ ৪৮ জনের নাম রয়েছে।


মিছিলে ছিলেন না দাবি সাংবাদিকের


মামলায় নিজের নাম আসার বিষয়ে সাংবাদিক শওকত হাসান সৈকত দাবি করেছেন, মিছিলের সঙ্গে তার কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা নেই। এমনকি ঘটনার সময় তিনি ঘটনাস্থলেও ছিলেন না। তিনি বলেন, ২৮ আগস্ট দুপুরে তিনি তাহিরপুরে অবস্থান করছিলেন।


সাংবাদিক সৈকত বলেন, ‘ঘটনার সঙ্গে আমার কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা নেই। আমি ঘটনাস্থলেও ছিলাম না। অন্য থানার একটি রাজনৈতিক ঘটনায় আমাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আসামি করা হয়েছে বলে মনে করি। নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটনের দাবি জানাই।’


সৈকত সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার সদর ইউনিয়নের রতনশ্রী গ্রামের প্রয়াত আইয়ুব আলীর ছেলে। তিনি দৈনিক কালবেলা ও আরটিভির ডিজিটাল বিভাগের তাহিরপুর উপজেলা প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত।


সাংবাদিকদের মধ্যে ক্ষোভ


সাংবাদিক শওকত হাসান সৈকতের নাম মামলায় আসায় স্থানীয় সাংবাদিকদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। তাদের দাবি, কোনো সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা হলে তার সংশ্লিষ্টতা ও ঘটনাস্থলে উপস্থিতির বিষয়টি যথাযথভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।


ঢাকা পোস্টের সুনামগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি তামিম রায়হান বলেন, মিছিলের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। সেই ভিডিওতে সাংবাদিক সৈকতকে দেখা যায়নি বলে তিনি দাবি করেন। এরপরও তাকে রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের সঙ্গে মামলায় আসামি করা হয়েছে—এমন অভিযোগ তুলে তিনি ঘটনার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।


সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি যাতে হয়রানির শিকার না হন, সে দাবি জানানো হয়েছে।


‘ভিডিওতে দেখে আসামি করেছি’—বাদী


তবে মামলার বাদী মো. শাহাজাহান সংবাদমাধ্যমকে বলেন, সাংবাদিক শওকত হাসান সৈকত মিছিলে ছিলেন বলেই তাকে মামলায় আসামি করা হয়েছে।


কীভাবে তাকে শনাক্ত করা হয়েছে—এমন প্রশ্নের জবাবে বাদী দাবি করেন, ভিডিওতে তাকে দেখা গেছে।


অন্যদিকে, মিছিলের যে ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, সেটি একাধিকবার পর্যবেক্ষণ করেও সাংবাদিক শওকত হাসান সৈকতের উপস্থিতির প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।


পুলিশের বক্তব্য


মধ্যনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে এম সাহাবুদ্দিন শাহীন বলেন, স্থানীয় এক বিএনপি নেতা বাদী হয়ে মামলাটি করেছেন। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।


তিনি বলেন, সাংবাদিক শওকত হাসানের সম্পৃক্ততা পাওয়া না গেলে তদন্ত শেষে চূড়ান্ত প্রতিবেদনে তাকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হবে।


এদিকে, মিছিলের স্থান ও ঘটনার ভিডিও নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে কিছুটা বিভ্রান্তির কথাও বিভিন্ন প্রতিবেদনে এসেছে। একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মিছিলটি মধ্যনগর উপজেলার বংশীকুন্ডা উত্তর ইউনিয়নের বাঙ্গালভিটা এলাকায় হয়েছে বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।


মামলার তদন্তে সাংবাদিক শওকত হাসান সৈকতের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা কতটুকু পাওয়া যায়, সেটিই এখন দেখার বিষয়। একই সঙ্গে প্রকৃত ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা এবং নিরপরাধ কাউকে হয়রানি না করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সাংবাদিকরা।

ছবি
channeljaintanews24.com
logo
ভিজিট করুন
০২.০৯.২০২৬
© চ্যানেল জৈন্তা নিউজ — সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
channeljaintanews24.com