Template: 2
Tpl 1 Tpl 2 Tpl 3
লিংক channeljaintanews24.com ক্যাটাগরি জাতীয় রিপোর্ট চ্যানেল জৈন্তা নিউজ

নানা আয়োজনে জাতীয় কবি নজরুলের ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত

২৮ আগস্ট ২০২৬ • ০১:১৩ পূর্বাহ্ন

ঢাকা: যথাযোগ্য মর্যাদা ও নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে সারা দেশে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদসংলগ্ন কবির সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ, ফাতেহা পাঠ, কোরআনখানি, আলোচনা সভা, সংগীত, আবৃত্তি ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে কবিকে স্মরণ করেছে বিভিন্ন সরকারি, রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন। বাসসের প্রতিবেদন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকাশিত তথ্য এবং অন্যান্য সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন মিলিয়ে বিষয়টি যাচাই করা হয়েছে।


বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) ভোর সাড়ে ৬টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদসংলগ্ন জাতীয় কবির সমাধিতে ফুলেল শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলামের নেতৃত্বে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা কবির সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও ফাতেহা পাঠ করেন। একই সঙ্গে বাদ ফজর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদ মসজিদুল জামিয়ায় কবির আত্মার মাগফিরাত কামনায় কোরআনখানির আয়োজন করা হয়।


শ্রদ্ধাঞ্জলি পর্বের শুরুতে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় ও এর অধীন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান কবির সমাধিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানায়। পরে বিএনপি, বাসদ, বাংলাদেশ লেবার পার্টি, বাংলাদেশ কংগ্রেসসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠন, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান এবং সর্বস্তরের মানুষ শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।


বিএনপির পক্ষ থেকে দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী আহমেদের নেতৃত্বে কবির সমাধিতে শ্রদ্ধা জানানো হয়। এ সময় তিনি বলেন, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম নির্যাতিত ও নিপীড়িত মানুষের পক্ষের সোচ্চার কণ্ঠ। যেকোনো অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী শক্তির উৎস ও অনুপ্রেরণা হিসেবে নজরুল আজও প্রাসঙ্গিক।


রিজভী বলেন, জাতীয় কবি জীবনভর অন্যায়, অত্যাচার ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে কথা বলেছেন এবং মানুষকে প্রতিবাদ করতে শিখিয়েছেন। স্বাধীনতা আন্দোলন থেকে ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থান পর্যন্ত বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে নজরুলের বাণী মানুষকে অনুপ্রাণিত করেছে। তাঁর সাহিত্য ও সৃষ্টিকর্ম ধারণ করে পথ চললে মানুষ আরও নির্ভীক হয়ে ওঠে।


এ সময় বিএনপির সাংস্কৃতিক সম্পাদক আশরাফ উদ্দিন আহমেদ উজ্জ্বল, সহ সাংস্কৃতিক সম্পাদক সাঈদ সোহরাব, স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম, জাসাসের আহ্বায়ক হেলাল খান, সদস্যসচিব জাকির হোসেন রোকন, জাসাসের যুগ্ম আহ্বায়ক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক সিনেট সদস্য লিয়াকত আলীসহ দলটির নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগ ও হল, জাসাস, জাতীয়তাবাদী লেখক ফোরাম, নজরুল একাডেমি, নজরুল সংগীত শিল্পী সংস্থা এবং বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের পক্ষ থেকেও কবির সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগীত বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা পরিবেশন করেন নজরুলসংগীত।


শিল্পকলা একাডেমিতে ‘আমারে দেবো না ভুলিতে’


জাতীয় কবির ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি ‘আমারে দেবো না ভুলিতে’ শীর্ষক দুই দিনব্যাপী আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় জাতীয় নাট্যশালার মূল মিলনায়তনে এ আয়োজনের উদ্বোধন করা হয়। অনুষ্ঠানে মুখ্য আলোচক ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. তারিক মনজুর। সংস্কৃতি সচিব কানিজ মওলার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক রেজাউদ্দিন স্টালিন। আলোচনা শেষে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়।


ছায়ানটে ‘নজরুলের গানে মাতোয়ারা ঢাকা’


এদিকে জাতীয় কবির প্রয়াণ দিবস উপলক্ষে ছায়ানটও আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টায় ধানমন্ডির ছায়ানট মিলনায়তনে ‘নজরুলের গানে মাতোয়ারা ঢাকা’ শীর্ষক এ অনুষ্ঠানে গান, নাচ ও আবৃত্তি পরিবেশন করা হয়। ছায়ানটের সাধারণ সম্পাদক সংগীতশিল্পী লাইসা আহমদ লিসা স্বাগত বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠানের বিভিন্ন পর্বে নজরুলের প্রেম, বিরহ ও আধ্যাত্মিক ভাবধারা তাঁর গানের মাধ্যমে তুলে ধরা হয়।


নজরুল ইনস্টিটিউটে ‘মৃত্যুঞ্জয়ী নজরুল’


বিকেলে ঢাকার জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম ইনস্টিটিউটে ‘মৃত্যুঞ্জয়ী নজরুল’ শীর্ষক আলোচনা সভা, দোয়া, হামদ ও নাতের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সংস্কৃতি সচিব কানিজ মওলা। এ আয়োজনের মাধ্যমে কবির সাহিত্য, দর্শন ও জীবনাদর্শ নিয়ে আলোচনা এবং তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।


জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম ১৯৭৬ সালের ১২ ভাদ্র ঢাকার তৎকালীন পিজি হাসপাতালে শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদসংলগ্ন স্থানে তাঁকে সমাহিত করা হয়। তাঁর মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পৃথক কর্মসূচির আয়োজন করে।


দ্রোহ, সাম্য, মানবতা, প্রেম ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার কবি নজরুলের সাহিত্য ও সংগীত আজও অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে মানুষকে সাহস জোগায়। তাঁর ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকীর নানা আয়োজনেও সেই চেতনা ও সৃষ্টিকর্ম নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার প্রয়াস দেখা গেছে।

বিজ্ঞাপন channeljaintanews24.com