Template: 2
Tpl 1 Tpl 2 Tpl 3
লিংক channeljaintanews24.com ক্যাটাগরি সিলেট রিপোর্ট চ্যানেল জৈন্তা নিউজ
এশিয়ান ইউনিভার্সিটিতে ৬ শিক্ষার্থীর ফুলফান্ড স্কলারশিপ, উইমেন্স মডেল কলেজে স্বপ্নজয়ের সংবর্ধনা

সিলেটে ৭৫ লাখ টাকা করে স্কলারশিপ পাওয়া সেই ৬ শিক্ষার্থী সংবর্ধিত

২৮ আগস্ট ২০২৬ • ০১:১০ পূর্বাহ্ন

স্টাফ রিপোর্টার: ‘শেকড় থেকে শিখরে পৌঁছা পর্যন্ত লক্ষ্যে অটুট থাকতে হবে, নতুবা স্বপ্নপূরণ সম্ভব নয়’—বলেছেন সিলেটের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মাসুদ রানা।


তিনি বলেন, ‘দ্য আলকেমিস্টে’ একটি বিখ্যাত কথা আছে—তুমি যখন কোনো কিছু মন থেকে চাও, তখন পুরো মহাবিশ্ব সেটা তোমাকে পাইয়ে দেওয়ার জন্য সাহায্য করবে। অর্থাৎ, তুমি যা হতে চাইবে, সৃষ্টিকর্তা তোমাকে সেভাবেই গড়ে তোলার জন্য পৃথিবীর সবকিছু দিয়ে সাহায্য করবেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ কারও সাধ্যের অতীত কোনো দায়িত্ব দেন না। তোমরা কলেজ, অভিভাবক, দেশ এবং সারাবিশ্বে একদিন বড় অবদান রাখবে—এই প্রত্যাশা রাখি।


বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সকাল ১১টায় সিলেট নগরীর মালঞ্চ কমিউনিটি সেন্টারে উইমেন্স মডেল কলেজের ছয় শিক্ষার্থী এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেন থেকে ফুলফান্ড স্কলারশিপ অর্জন করায় আয়োজিত ‘স্বপ্নজয়ের সংবর্ধনা’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।


ইএসডি ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মনসুর আহমদ লস্করের সভাপতিত্বে এবং পৌরনীতি ও সুশাসন বিভাগের সিনিয়র প্রভাষক হেলাল হামামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন চিফ অ্যাকাউন্টস অফিসার ছালেহ আহমদ।


প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাসুদ রানা বলেন, সাধারণত এইচএসসি পরীক্ষার পর শিক্ষার্থীরা নিজেদের উদ্যোগে বিশ্ববিদ্যালয় বা উচ্চশিক্ষার প্রস্তুতি নেয়। কিন্তু উইমেন্স মডেল কলেজ শিক্ষার্থীদের ছেড়ে না দিয়ে তাদের প্রস্তুত করছে এবং স্বপ্নের গন্তব্যে পৌঁছাতে সহায়তা করছে, যা প্রশংসার দাবি রাখে।


তিনি বলেন, ছয় শিক্ষার্থীর এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেনে ফুলফান্ড স্কলারশিপ পাওয়ার পেছনে উইমেন্স মডেল কলেজের অবদান সবচেয়ে বেশি। নারীশিক্ষার জন্য যে পরিকল্পনা ও উদ্যোগ কলেজটি গ্রহণ করেছে, তা সিলেটবাসীর জন্য গর্বের বিষয়।


অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন উইমেন্স মডেল কলেজের উপাধ্যক্ষ জাকিয়া সুলতানা এবং শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুল ওয়াদুদ তাপাদার। পরে স্কলারশিপপ্রাপ্ত ছয় শিক্ষার্থীকে ফুল দিয়ে বরণ করা হয় এবং তাদের হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেওয়া হয়।


স্কলারশিপ অর্জনের অনুভূতি প্রকাশ করেন সুমাইয়া খান রুবাইয়া, মেরিন জামান রুহি, মুমতাহিনা তানহা, সোহানা আক্তার, আয়শা সিদ্দিকা ও নাফিসা সাব্বির চৌধুরী।


অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন শেভরন বাংলাদেশ-এর ম্যানেজার, ফিল্ড কর্পোরেট অ্যাফেয়ার্স খন্দকার তুষারুজ্জামান এবং ইএসডি ফাউন্ডেশনের ভাইস চেয়ারম্যান জেএমএইচজে ফেরদৌস।


খন্দকার তুষারুজ্জামান বলেন, শেভরনের এ উদ্যোগকে কাজে লাগানোর জন্য উইমেন্স মডেল কলেজের শিক্ষার্থীদের ধন্যবাদ। ভবিষ্যতেও নারীশিক্ষার উন্নয়নে শেভরন বাংলাদেশ কর্তৃক গৃহীত বিভিন্ন উদ্যোগে উইমেন্স মডেল কলেজ সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।


কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুল ওয়াদুদ তাপাদার শেভরন বাংলাদেশকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, শেভরনের ‘সমার স্কুল’ প্রোগ্রামে শিক্ষার্থীদের স্পন্সর করা না হলে আজকের এই স্কলারশিপ অর্জন সম্ভব হতো না। শিক্ষার্থীদের স্কলারশিপ দেওয়ার জন্য এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেনের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।


তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের প্রস্তুত করার ক্ষেত্রে কলেজের শিক্ষক ও অভিভাবকদের অবদান রয়েছে। শিক্ষার্থীদের সাফল্যের খবর গণমাধ্যমে প্রচারের মাধ্যমে সহযোগিতা করার জন্য গণমাধ্যমকর্মীদেরও ধন্যবাদ জানান তিনি।


অভিভাবকদের মধ্যে অনুভূতি প্রকাশ করেন স্কলারশিপপ্রাপ্ত শিক্ষার্থী সোহানা আক্তারের বড় ভাই সুজন আহমদ এবং মুমতাহিনা তানহার পিতা গোলাম কিবরিয়া। এছাড়া বক্তব্য দেন বখতিয়ার বিবি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জেসমিন সুলতানা।


অনুষ্ঠানে জানানো হয়, ২০২৫ সালেও উইমেন্স মডেল কলেজের দুই শিক্ষার্থী তাছলিমা খানম ও তাওহিদা বুশরা তালুকদার এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেন থেকে স্কলারশিপ অর্জন করেন। পাশাপাশি গত বছর ‘Emerging Women Leader in STEM Award’ অর্জনকারী নাবিহা সাব্বির চৌধুরীকেও অনুষ্ঠানে সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়।


আয়োজকেরা বলেন, মেধাবী শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন বাস্তবায়নে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, পরিবার ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সম্মিলিত সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ। নারীশিক্ষার প্রসার এবং শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষায় এগিয়ে নিতে এ ধরনের উদ্যোগ ভবিষ্যতেও অব্যাহত রাখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তারা।

বিজ্ঞাপন channeljaintanews24.com