প্যারিসে জমজমাট মৌলভীবাজার জেলা উৎসব-২০২৬
প্যারিস প্রতিনিধি:
জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী কনক চাঁপার সংগীত পরিবেশনা, দেশ-বিদেশের শিল্পীদের অংশগ্রহণ এবং বিপুলসংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশির উপস্থিতিতে ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে অনুষ্ঠিত হয়েছে মৌলভীবাজার জেলা উৎসব-২০২৬। গান, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, আড্ডা ও পারিবারিক আনন্দে উৎসবস্থল পরিণত হয় এক প্রাণবন্ত বাংলাদেশি মিলনমেলায়।
সোমবার (২৪ আগস্ট) দুপুর ২টা থেকে প্যারিসের Jaurès Park-এ এ উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। মৌলভীবাজারের পাশাপাশি বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলার প্রবাসীরা পরিবার-পরিজন নিয়ে এতে অংশ নেন।
উৎসবের প্রধান আকর্ষণ ছিলেন জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী কনক চাঁপা। তাঁর সংগীত পরিবেশনার সময় দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক উচ্ছ্বাস দেখা যায়। দীর্ঘদিন পর প্রবাসের মাটিতে বাংলা গানের এমন আয়োজন উপভোগ করতে পেরে আনন্দ প্রকাশ করেন উপস্থিত প্রবাসীরা।
বাংলাদেশ থেকে কনক চাঁপার পাশাপাশি সংগীত পরিবেশন করেন শারমিন দীপু। তাঁর কণ্ঠে ‘পাংকা পাংকা’ গানটি দর্শকদের বিশেষভাবে আনন্দ দেয়। এছাড়া লন্ডন থেকে ওয়াহিদ ও REDz এবং ইতালি থেকে মানসিব অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে সংগীত পরিবেশন করেন।
মৌলভীবাজারের তরুণ প্রজন্ম ও যুবসমাজের উদ্যোগে আয়োজন করা হলেও শুরু থেকেই ফ্রান্সে বসবাসরত বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলার মানুষকে উৎসবে আমন্ত্রণ জানানো হয়। ফলে আয়োজনটি শুধু মৌলভীবাজার জেলার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি; বৃহত্তর বাংলাদেশি কমিউনিটির একটি মিলনমেলায় রূপ নেয়।
উৎসবে শিশু-কিশোরসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। পরিবার নিয়ে অনেক প্রবাসী দিনটি উপভোগ করেন। একদিকে ছিল সংগীত ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, অন্যদিকে প্রবাসী বাংলাদেশিদের পারস্পরিক দেখা-সাক্ষাৎ ও আড্ডা।
আয়োজকদের অন্যতম লক্ষ্য ছিল প্রবাসে বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মকে বাংলাদেশের গান, সংস্কৃতি ও কমিউনিটির সঙ্গে যুক্ত রাখা। পাশাপাশি পরিবারগুলোর জন্য আনন্দঘন একটি পরিবেশ তৈরি করাও ছিল এ আয়োজনের উদ্দেশ্য।
আয়োজকরা জানান, উৎসবে কোনো টিকিট রাখা হয়নি এবং সবার জন্য প্রবেশ ছিল সম্পূর্ণ বিনামূল্যে। দর্শকদের কাছ থেকে প্রবেশমূল্য নেওয়া কিংবা লটারির মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহেরও কোনো পরিকল্পনা ছিল না।
আয়োজকদের একজন রানা বলেন, প্রবাসীদের আবেগকে ব্যবহার করে ব্যক্তিগত অর্থনৈতিক সুবিধা নেওয়া তাঁদের উদ্দেশ্য নয়। প্রবাসীদের জন্য আনন্দ ও পারস্পরিক যোগাযোগের একটি সুন্দর ক্ষেত্র তৈরি করাই ছিল আয়োজনের মূল লক্ষ্য।
বড় পরিসরের এ আয়োজনে মঞ্চ, সাউন্ড, স্টল এবং দর্শকদের চলাচল ও বসার ব্যবস্থাপনাতেও গুরুত্ব দেওয়া হয়। আয়োজকদের দাবি, পেশাদার কনসার্ট মানের সাউন্ড সিস্টেম এবং অভিজ্ঞ সাউন্ড ইঞ্জিনিয়ারের তত্ত্বাবধানে অনুষ্ঠান পরিচালনা করা হয়।
দিনব্যাপী এ আয়োজন ঘিরে প্রবাসীদের মধ্যে ছিল উৎসবের আমেজ। বাংলা গান ও সংস্কৃতির সঙ্গে প্রবাসী নতুন প্রজন্মের যোগাযোগ বাড়ানোর পাশাপাশি বিভিন্ন জেলার বাংলাদেশিদের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক আরও দৃঢ় করার ক্ষেত্রে এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন আয়োজকরা।
আয়োজকদের প্রত্যাশা, ভবিষ্যতেও ফ্রান্সে এ ধরনের সাংস্কৃতিক আয়োজন অব্যাহত থাকবে এবং এর মাধ্যমে প্রবাসে বাংলাদেশের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও সামাজিক বন্ধন আরও শক্তিশালী হবে।