গোলাপগঞ্জ প্রতিনিধি :
সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলার ধারাবহর এলাকায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে একটি বসতঘর সম্পূর্ণ পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। সোমবার (১৭ আগস্ট) ভোর ৫টার দিকে ধারাবহর ব্রিটিশ আইডিয়াল স্কুলের সামনে প্রয়াত আব্দুল হকের বাড়িতে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
অগ্নিকাণ্ডে বাড়িটির সাতটি কক্ষই পুড়ে সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়েছে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই আগুনে পুরো ঘর পুড়ে ছাই হয়ে যায়। পরে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনেন।
স্থানীয়রা জানান, ফজরের নামাজ শেষে পাশের বাড়ির ফয়েজ উদ্দিন ও জইন উদ্দিন ঘরের বাইরে আগুন দেখতে পান। তারা দ্রুত ঘুমন্ত বাড়ির লোকজনকে ডাকাডাকি করে জাগিয়ে তোলেন। এ সময় পরিবারের সদস্যরা ঘুম থেকে উঠে দেখতে পান, ঘরের ওপরের দিকে আগুন জ্বলছে। একদিকে বালতি দিয়ে পানি দিয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা করা হলে অন্য পাশেও আগুন দেখা যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে ৯৯৯ নম্বরে ফোন করা হয়।
বাড়ির বাসিন্দা প্রয়াত আব্দুল হকের ছেলে মান্না আহমদ বলেন, ‘ফয়াজ ভাইয়ের ডাকে আমরা ঘুম থেকে উঠি। উঠে দেখি ঘরের ওপরের দিকে আগুন ধরে গেছে। তিনি যদি সময়মতো আমাদের না ডাকতেন, তাহলে আমার মা, স্ত্রী-সন্তানসহ আমরা সবাই ঘুমের মধ্যেই পুড়ে ছাই হয়ে যেতাম।’ এ কথা বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি।
ফায়ার সার্ভিসের সদস্যদের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণের বরাত দিয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আগুনের সূত্রপাত শর্ট সার্কিট বা গ্যাস থেকে হয়েছে—এমন সম্ভাবনা প্রায় নেই। বরং ঘরের ওপরের দিক থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে অগ্নিকাণ্ডের সঠিক কারণ তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
এদিকে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় নাশকতার অভিযোগ তুলেছেন বাড়ির বাসিন্দা মান্না আহমদ। তিনি দাবি করেন, গত কয়েকদিন ধরে টিলা কাটার প্রতিবাদ করায় লেকভিউ গার্ডেন সিটির শরীফ আহমদ ও তার লোকজন তাকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছিলেন। তার অভিযোগ, ওই বিরোধের জের ধরে পরিকল্পিতভাবে বাড়িতে আগুন দেওয়া হয়ে থাকতে পারে।
তবে কারা বা কীভাবে আগুন দিয়েছে, সে বিষয়ে এখনো কোনো তদন্তকারী সংস্থার নিশ্চিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি। মান্না আহমদের করা অভিযোগও স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় পরিবারের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। আগুনে বসতঘরের আসবাবপত্র ও প্রয়োজনীয় সামগ্রীসহ ঘরের প্রায় সবকিছুই পুড়ে গেছে।
ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং অভিযোগের বিষয়ে যথাযথ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।