Template: 2
Tpl 1 Tpl 2 Tpl 3
লিংক channeljaintanews24.com ক্যাটাগরি সিলেট রিপোর্ট চ্যানেল জৈন্তা নিউজ

শাহজালাল (রহ.) মাজারে তৃতীয় দফায় দানবাক্সের টাকা গণনা, মিলল ৭০ লাখ ৮৮ হাজার টাকা

১৬ আগস্ট ২০২৬ • ০২:৫৭ পূর্বাহ্ন

সিলেট প্রতিনিধি: সিলেটের হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারে তৃতীয়বারের মতো প্রকাশ্যে দানবাক্সের টাকা গণনা করা হয়েছে। শনিবার সকাল থেকে শুরু হওয়া এ গণনা কার্যক্রম বিকেলে শেষ হয়। এবার ৩৪ দিনে মাজারের দানবাক্সে নগদ ৭০ লাখ ৮৮ হাজার ৬৭২ টাকা পাওয়া গেছে। পাশাপাশি স্বর্ণ, রৌপ্য ও বিভিন্ন দেশের বিদেশি মুদ্রাও পাওয়া যায়।


গণনা শেষে শনিবার বিকেলে মাজারে নগদ অর্থসহ অন্যান্য সামগ্রী পাওয়ার বিষয়টি জানান সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী।


তিনি জানান, দানবাক্সে নগদ টাকার পাশাপাশি ২ ভরি ১ রতি স্বর্ণ এবং ১ ভরি ২ আনা রৌপ্য পাওয়া গেছে।


বিদেশি মুদ্রার মধ্যে রয়েছে ৩১.১১ পাউন্ড, ৩ হাজার ২৪৮ ভারতীয় রুপি, ৬০ পাকিস্তানি রুপি, ৭০ সৌদি রিয়াল, ৮৩ মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত, ৪ মার্কিন ডলার, ১০০ নেপালি রুপি, ১ হাজার ওমানি বায়সা, ৬৪ আরব আমিরাতের দিরহাম, ২৫০ ইরাকি দিনার, ৯০ তুর্কি লিরা, ১ হাজার ভিয়েতনামি ডং, ১ হাজার জাপানি ইয়েন, ১১২ কাতারি রিয়াল, ১০ লেবানিজ পাউন্ড, ১০ মিশরীয় পাউন্ড, ০.৪০ ইউরো, ১ বাহরাইনি পয়সা এবং ১ কানাডিয়ান ডলার।


এছাড়া নজরানা হিসেবে গরু-ছাগল ও হাঁস-মুরগিও পাওয়া গেছে।


আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনার জন্য একটি নীতিমালা প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। স্থানীয় সংসদ সদস্য ও বাণিজ্যমন্ত্রী আব্দুল মুক্তাদিরের নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। অচিরেই একটি নীতিমালা নির্ধারণ করা হবে। পরবর্তীতে ওই নীতিমালার আলোকে দানবাক্সের টাকা গণনা ও আর্থিক ব্যবস্থাপনা করা হবে।


এ সময় সিলেটের জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মামুনসহ প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শনিবার সকাল ১০টার দিকে মাজারের দানবাক্স ও দানের ডেগগুলোর সিলগালা খোলার কার্যক্রম শুরু হয়। তিনটি ডেগ ও তিনটি বড় দানবাক্স খোলার পর সকাল সাড়ে ১০টার দিকে টাকা গণনা শুরু হয়। অন্তত ৩০ জন স্বেচ্ছাসেবী এ গণনায় অংশ নেন।


এবার ১ মাস ৪ দিন পর মাজারের দানবাক্সের টাকা গণনা করা হলো।


এর আগে চলতি বছরের ১২ জুন হযরত শাহজালাল (রহ.) ও হযরত শাহপরান (রহ.)-এর মাজার পরিদর্শনে গিয়ে আয়-ব্যয়ের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তৎকালীন জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম। তাঁর নির্দেশে ১৮ জুন ডেগে সিলগালা এবং নতুন দানবাক্স স্থাপন করা হলে স্থানীয় প্রশাসন ও মাজার কর্তৃপক্ষের মধ্যে টানাপড়েন দেখা দেয়।


এ নিয়ে পক্ষে-বিপক্ষে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হলে জেলা প্রশাসক সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার করে নেয় সরকার। তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে এটিকে ‘রুটিন বদলি’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল।


পরবর্তীতে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের উদ্যোগে ২৬ জুন সিলেট সার্কিট হাউসে জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সভায় মাজারের পরিচালনা ও আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্থায়ী স্বচ্ছতা আনতে ১৩ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়।


নতুন দানবাক্স স্থাপনের চার দিন পর ২২ জুন প্রথম দফায় দানবাক্স খুলে গণনা করা হয়। তখন নগদ ১৭ লাখ ৫৪৯ টাকা পাওয়া যায়।


এর ১৮ দিন পর ১১ জুলাই দ্বিতীয় দফায় দানবাক্স খোলা হয়। ওই দফায় নগদ ৪৭ লাখ ১০ হাজার ১৫৩ টাকা পাওয়া যায়। এ সময় একাধিক দেশের মুদ্রাসহ বিভিন্ন সামগ্রীও পাওয়া যায়।


সর্বশেষ শনিবার তৃতীয় দফায় গণনায় নগদ ৭০ লাখ ৮৮ হাজার ৬৭২ টাকা পাওয়ার বিষয়টি জানানো হলো।

বিজ্ঞাপন channeljaintanews24.com