Template: 2
Tpl 1 Tpl 2 Tpl 3
লিংক channeljaintanews24.com ক্যাটাগরি সিলেট রিপোর্ট চ্যানেল জৈন্তা নিউজ

মাদকমুক্ত জৈন্তাপুর গড়তে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান আব্দুল গফফার চৌধুরী খসরুর

১৫ আগস্ট ২০২৬ • ১১:২০ অপরাহ্ন

জৈন্তাপুর প্রতিনিধি:

জৈন্তাপুর উপজেলায় মাদকের ভয়াবহ বিস্তার নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অসংখ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দাতা সদস্য, শিক্ষা অনুরাগী ও বিশিষ্ট সমাজসেবী আব্দুল গফফার চৌধুরী খসরু। মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে জৈন্তার সর্বস্তরের মানুষকে দল-মত ও শ্রেণির ঊর্ধ্বে উঠে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।


নিউইয়র্ক থেকে দেওয়া এক বক্তব্যে আব্দুল গফফার চৌধুরী খসরু বলেন, প্রাণপ্রিয় জৈন্তার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে ভাবতে বসলে সত্যিই তার মন ব্যথিত হয়ে ওঠে। এর মধ্যে সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয়গুলোর একটি হলো মাদকের ভয়াবহ বিস্তার।


তিনি বলেন, জৈন্তাপুরে মাদক এখন শুধু নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তির সমস্যা নয়; এটি ধীরে ধীরে পরিবার, সমাজ এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য ভয়াবহ হুমকিতে পরিণত হচ্ছে। সমাজের অনেক দায়িত্বশীল মানুষও আজ এই ভয়াল গ্রাসে আক্রান্ত।


সীমান্তবর্তী অঞ্চল হওয়ায় বিভিন্ন ধরনের মাদকদ্রব্য সহজে প্রবেশ ও ছড়িয়ে পড়ার সুযোগ তৈরি হয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই সহজলভ্যতা তরুণ সমাজের একটি অংশকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।


মাদকের ক্ষতিকর প্রভাব তুলে ধরে তিনি বলেন, বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত—মাদক মানুষের মস্তিষ্কের স্বাভাবিক কার্যক্রমে মারাত্মক প্রভাব ফেলে। ধীরে ধীরে মাদকের ওপর নির্ভরশীলতা তৈরি হয়, নষ্ট হয় বিচার-বিবেচনাবোধ, স্মৃতিশক্তি ও মানসিক স্থিতিশীলতা। মানুষ হারিয়ে ফেলে স্বাভাবিক জীবনযাপন, কাজকর্ম ও পারিবারিক দায়িত্ব পালনের আগ্রহ। মাদকাসক্তির সঙ্গে সহিংসতা, অপরাধ, দুর্ঘটনা ও নানা ধরনের সামাজিক বিপর্যয়ও জড়িয়ে পড়তে পারে।


ইসলাম মানুষের বিবেক, বুদ্ধি, সম্পদ, পরিবার ও সমাজকে সুরক্ষিত রাখতে মাদকজাতীয় নেশাদ্রব্য থেকে দূরে থাকার নির্দেশ দিয়েছে উল্লেখ করে তিনি পবিত্র কোরআনের সূরা আল-মায়িদাহর ৯০ নম্বর আয়াতের উদ্ধৃতি দেন। পরবর্তী আয়াতের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, শয়তান মদ ও জুয়ার মাধ্যমে মানুষের মধ্যে শত্রুতা ও বিদ্বেষ সৃষ্টি করতে এবং আল্লাহর স্মরণ ও সালাত থেকে বিরত রাখতে চায়।


তিনি বলেন, মাদক শুধু একজন মানুষের শরীরকে ধ্বংস করে না; এটি ধীরে ধীরে তার বিবেক, চরিত্র, পরিবার, সম্পর্ক এবং সামাজিক দায়িত্ববোধকেও দুর্বল করে দেয়।


একজন মানুষ মাদকের নেশায় জড়িয়ে পড়লে এর প্রভাব শুধু তার নিজের ওপর সীমাবদ্ধ থাকে না উল্লেখ করে আব্দুল গফফার চৌধুরী খসরু বলেন, পরিবারের উপার্জন নষ্ট হয়, স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে অশান্তি তৈরি হয় এবং সন্তানরা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়। একটি পরিবার, যা হওয়ার কথা ছিল শান্তির আশ্রয়, সেটিই কখনো কখনো অশান্তি ও আতঙ্কের ঘরে পরিণত হয়।


সম্প্রতি নিজপাটে মাদকাসক্ত স্বামীর হাতে এক গৃহবধূর হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, ঘটনাটি মাদকের ভয়াবহতা আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে।


তিনি বলেন, একজন গৃহবধূ প্রাণ হারিয়েছেন তারই স্বামীর হাতে। চারটি অবুঝ শিশু চিরদিনের জন্য হারিয়েছে তাদের মমতাময়ী মাকে। আর যে মানুষটি তাদের মাথার ওপর বটবৃক্ষের মতো ছায়া হয়ে থাকার কথা ছিল, সেই পিতা আজ ফাঁসির আসামি।


“এই একটি ঘটনা আমাদের জন্য কি যথেষ্ট সতর্কবার্তা নয়?”—প্রশ্ন রাখেন তিনি।


আব্দুল গফফার চৌধুরী খসরু বলেন, একটি নেশা একটি জীবন কেড়ে নিতে পারে, একটি পরিবারকে ধ্বংস করে দিতে পারে এবং চারটি শিশুর শৈশবকে চিরদিনের জন্য বিষাদে ভরে দিতে পারে।


এ অবস্থায় জৈন্তার সকল সামর্থ্যবান ও মানবিক মানুষকে অসহায় শিশুদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, তাদের ভবিষ্যৎ যেন অন্ধকারে হারিয়ে না যায়। একজনের সামর্থ্য হয়তো সীমিত, কিন্তু সম্মিলিত মানবিকতা অনেক বড় শক্তি।


“আমিও আমার সাধ্যমতো এই শিশুদের পাশে দাঁড়াবো, ইনশাআল্লাহ।”—বলেন তিনি।


মাদকাসক্তি বাড়তে থাকলে সমাজে অপরাধ, কিশোর অপরাধ, সহিংসতা, চুরি-ছিনতাই এবং পারিবারিক ভাঙনের মতো সমস্যা আরও বাড়তে পারে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সবচেয়ে ভয়াবহ বিষয় হলো—আজকের একজন মাদকাসক্ত তরুণই হওয়ার কথা ছিল আগামী দিনের দায়িত্বশীল বাবা, স্বামী, শিক্ষক, উদ্যোক্তা কিংবা সমাজের নেতৃত্বদানকারী মানুষ।


তিনি বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে লড়াই শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দায়িত্ব নয়। পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মসজিদ-মাদরাসা, ধর্মীয় ও সামাজিক প্রতিষ্ঠান, জনপ্রতিনিধি, প্রশাসন এবং সচেতন নাগরিক—সবার সম্মিলিত দায়িত্ব রয়েছে।


সীমান্তবর্তী হওয়ায় জৈন্তাপুরে মাদকের সরবরাহ ও সহজলভ্যতার ঝুঁকি বেশি হলেও সীমান্ত থাকা মাদক বিস্তারের অজুহাত হতে পারে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, মাদকের সরবরাহ বন্ধের পাশাপাশি এর চাহিদা কমাতে হবে। তরুণদের সচেতন করতে হবে এবং যারা ইতোমধ্যে আসক্ত হয়ে পড়েছে, তাদের ঘৃণা না করে চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের সুযোগ দিতে হবে।


তিনি বলেন, মাদক ব্যবসায়ীদের প্রতিরোধ করা, মাদকাসক্তদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের সুযোগ তৈরি করা এবং তরুণ প্রজন্মকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে রক্ষা করাই হতে হবে আমাদের মূল লক্ষ্য।


জৈন্তাপুরের প্রতিটি পরিবার সন্তানদের প্রতি সচেতন হলে, প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নৈতিক ও সামাজিক সচেতনতা তৈরি করলে এবং সমাজের দায়িত্বশীল মানুষগুলো মাদকের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হলে এই ভয়াবহতার বিরুদ্ধে শক্ত প্রতিরোধ গড়ে তোলা সম্ভব বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।


আব্দুল গফফার চৌধুরী খসরু বলেন, “মাদকমুক্ত জৈন্তাপুর শুধু একটি দাবি নয়—এটি আমাদের সন্তানদের নিরাপদ ভবিষ্যতের জন্য একটি সামাজিক অঙ্গীকার।”


দল-মত ও শ্রেণির ঊর্ধ্বে উঠে মাদকের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “আমাদের আজকের সচেতনতা হয়তো আগামীকাল একটি পরিবারকে বাঁচাবে, একটি সন্তানকে বাঁচাবে, একটি জীবনকে বাঁচাবে।”


সবশেষে তিনি বলেন, “আসুন, আমরা সবাই মিলে গড়ে তুলি—মাদকমুক্ত, নিরাপদ ও মানবিক জৈন্তাপুর। ইনশাআল্লাহ, আমরা পারবো।”


সালামান্তে

আব্দুল গফফার চৌধুরী খসরু

(নিউইয়র্ক, আমেরিকা)

বিজ্ঞাপন channeljaintanews24.com