Template: 3
Tpl 1 Tpl 2 Tpl 3
২৯ জুলাই ২০২৬ · ১১:৫৯ অপরাহ্ন

‘মূল আসামিসহ ৯ জনকে চার্জশিট থেকে বাদ’—ধর্মপাশা থানার ওসির বিরুদ্ধে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন

চ্যানেল জৈন্তা নিউজ
ছবি

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি: সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সহিদ উল্যাহর বিরুদ্ধে মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে নাসিম হত্যা মামলার মূল আসামিসহ ৯ জনের নাম চার্জশিট থেকে বাদ দেওয়ার অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করেছেন নিহতের পরিবারের সদস্যরা। তারা মামলাটির পুনঃতদন্ত, মূল আসামিদের গ্রেপ্তার এবং ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়েছেন।


বুধবার (২৯ জুলাই) দুপুরে সুনামগঞ্জ রিপোর্টার্স ইউনিটির হলরুমে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।


সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন নিহত নাসিমের স্ত্রী রূপসা আক্তার। তিনি অভিযোগ করেন, ধর্মপাশা থানার ওসি মোহাম্মদ সহিদ উল্যাহ এবং মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা জহিরুল ইসলাম মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে ১১ জন আসামির মধ্যে মূল আসামিসহ ৯ জনের নাম বাদ দিয়ে চার্জশিট দাখিল করেছেন।


রূপসা আক্তার বলেন, স্বামী হত্যার পর ন্যায়বিচারের আশায় থানায় মামলা করতে গেলে প্রথমে ওসি মামলা নিতে অনীহা প্রকাশ করেন। তিনি দাবি করেন, ঘটনার মূল অভিযুক্ত মেহেদী হাসান ডালি ও অলির নাম বাদ দিলে তবেই মামলা নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছিল। পরে স্থানীয় সংসদ সদস্যের নির্দেশে মামলা গ্রহণ করা হলেও তদন্ত শেষে অধিকাংশ আসামির নাম বাদ দিয়ে চার্জশিট দেওয়া হয়েছে।


তিনি আরও বলেন, সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার পাইকুরহাটি ইউনিয়নের সুনই গ্রামে পূর্ববিরোধ এবং পথে তার চাচাতো বোনকে হেনস্তার প্রতিবাদ করাকে কেন্দ্র করে গত ৭ জুন প্রকাশ্যে তার স্বামী নাসিমকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, হত্যাকাণ্ডের দুই দিন আগে তার দেবর জসিমকে ভয়ভীতি দেখিয়ে কবর খুঁড়ে রাখার হুমকি দেওয়া হয়েছিল। ৬ জুন তার ভাসুরসহ কয়েকজনের ওপর হামলারও অভিযোগ করেন তিনি। পরদিন কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে ডালি ও আনু গংয়ের লোকজন নাসিমকে কিল-ঘুষি, লাথি ও পাইপ দিয়ে মারধর করে হত্যা করে বলে দাবি করেন।


রূপসা আক্তারের অভিযোগ, হত্যাকাণ্ডের পর এখন পর্যন্ত দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হলেও মামলার মূল আসামি ডালি ও অলি এখনও গ্রেপ্তারের বাইরে রয়েছে।


তিনি আরও অভিযোগ করেন, মামলা দায়েরের সময় ওসি মূল আসামিদের নাম বাদ দেওয়ার বিনিময়ে বড় অঙ্কের অর্থের প্রস্তাব দেন। একই সঙ্গে তদন্ত কর্মকর্তা জোরপূর্বক একটি কাগজে তার স্বাক্ষর নেওয়ার চেষ্টা করেন। তিনি স্বাক্ষর দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে হেনস্তা করা হয় এবং মহিলা পুলিশ দিয়ে থানায় নিয়ে আসার হুমকিও দেওয়া হয় বলে দাবি করেন। এছাড়া আর্থিক ক্ষতিপূরণের মাধ্যমে মামলাটি নিষ্পত্তি করতে বিভিন্নভাবে চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।


সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও বলেন, আসামিরা উচ্চ আদালত থেকে আগাম জামিন নিয়ে এলাকায় ফিরে তাদের পরিবারকে নিয়মিত প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছে। অতীতেও তারা প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার পরিচয় দিয়ে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করত এবং বর্তমানে বিভিন্ন বিএনপি নেতার সঙ্গে ছবি তুলে নিজেদের প্রভাবশালী হিসেবে পরিচয় দিচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।


তার দাবি, আসামিদের সঙ্গে ওসির পারিবারিক সম্পর্ক রয়েছে। সেই সম্পর্কের সুযোগ নিয়ে তাদের পরিবারের বিরুদ্ধে একটি মিথ্যা লুটপাটের মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে। এতে তারা চরম নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে রয়েছেন।


আবেগঘন বক্তব্যে রূপসা আক্তার বলেন, তার স্বামী নাসিম একজন সাধারণ চা বিক্রেতা ছিলেন। স্বামীকে হারিয়ে তিনি চার কন্যাসন্তান নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। প্রতিনিয়ত মামলা তুলে নেওয়ার জন্য তাদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। তিনি নিজের ও পরিবারের সদস্যদের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি মামলাটির পুনঃতদন্ত, মূল আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করতে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।


সংবাদ সম্মেলনে নিহত নাসিমের বড় ভাই আলামিনসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্য ও স্বজনরা উপস্থিত ছিলেন।


তবে সংবাদ সম্মেলনে উত্থাপিত এসব অভিযোগের বিষয়ে ধর্মপাশা থানার ওসি মোহাম্মদ সহিদ উল্যাহ বা মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি: সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সহিদ উল্যাহর বিরুদ্ধে মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে নাসিম হত্যা মামলার মূল আসামিসহ ৯ জনের নাম চার্জশিট থেকে বাদ দেওয়ার অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করেছেন নিহতের পরিবারের সদস্যরা। তারা মামলাটির পুনঃতদন্ত, মূল আসামিদের গ্রেপ্তার এবং ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়েছেন।


বুধবার (২৯ জুলাই) দুপুরে সুনামগঞ্জ রিপোর্টার্স ইউনিটির হলরুমে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।


সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন নিহত নাসিমের স্ত্রী রূপসা আক্তার। তিনি অভিযোগ করেন, ধর্মপাশা থানার ওসি মোহাম্মদ সহিদ উল্যাহ এবং মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা জহিরুল ইসলাম মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে ১১ জন আসামির মধ্যে মূল আসামিসহ ৯ জনের নাম বাদ দিয়ে চার্জশিট দাখিল করেছেন।


রূপসা আক্তার বলেন, স্বামী হত্যার পর ন্যায়বিচারের আশায় থানায় মামলা করতে গেলে প্রথমে ওসি মামলা নিতে অনীহা প্রকাশ করেন। তিনি দাবি করেন, ঘটনার মূল অভিযুক্ত মেহেদী হাসান ডালি ও অলির নাম বাদ দিলে তবেই মামলা নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছিল। পরে স্থানীয় সংসদ সদস্যের নির্দেশে মামলা গ্রহণ করা হলেও তদন্ত শেষে অধিকাংশ আসামির নাম বাদ দিয়ে চার্জশিট দেওয়া হয়েছে।


তিনি আরও বলেন, সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার পাইকুরহাটি ইউনিয়নের সুনই গ্রামে পূর্ববিরোধ এবং পথে তার চাচাতো বোনকে হেনস্তার প্রতিবাদ করাকে কেন্দ্র করে গত ৭ জুন প্রকাশ্যে তার স্বামী নাসিমকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, হত্যাকাণ্ডের দুই দিন আগে তার দেবর জসিমকে ভয়ভীতি দেখিয়ে কবর খুঁড়ে রাখার হুমকি দেওয়া হয়েছিল। ৬ জুন তার ভাসুরসহ কয়েকজনের ওপর হামলারও অভিযোগ করেন তিনি। পরদিন কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে ডালি ও আনু গংয়ের লোকজন নাসিমকে কিল-ঘুষি, লাথি ও পাইপ দিয়ে মারধর করে হত্যা করে বলে দাবি করেন।


রূপসা আক্তারের অভিযোগ, হত্যাকাণ্ডের পর এখন পর্যন্ত দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হলেও মামলার মূল আসামি ডালি ও অলি এখনও গ্রেপ্তারের বাইরে রয়েছে।


তিনি আরও অভিযোগ করেন, মামলা দায়েরের সময় ওসি মূল আসামিদের নাম বাদ দেওয়ার বিনিময়ে বড় অঙ্কের অর্থের প্রস্তাব দেন। একই সঙ্গে তদন্ত কর্মকর্তা জোরপূর্বক একটি কাগজে তার স্বাক্ষর নেওয়ার চেষ্টা করেন। তিনি স্বাক্ষর দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে হেনস্তা করা হয় এবং মহিলা পুলিশ দিয়ে থানায় নিয়ে আসার হুমকিও দেওয়া হয় বলে দাবি করেন। এছাড়া আর্থিক ক্ষতিপূরণের মাধ্যমে মামলাটি নিষ্পত্তি করতে বিভিন্নভাবে চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।


সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও বলেন, আসামিরা উচ্চ আদালত থেকে আগাম জামিন নিয়ে এলাকায় ফিরে তাদের পরিবারকে নিয়মিত প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছে। অতীতেও তারা প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার পরিচয় দিয়ে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করত এবং বর্তমানে বিভিন্ন বিএনপি নেতার সঙ্গে ছবি তুলে নিজেদের প্রভাবশালী হিসেবে পরিচয় দিচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।


তার দাবি, আসামিদের সঙ্গে ওসির পারিবারিক সম্পর্ক রয়েছে। সেই সম্পর্কের সুযোগ নিয়ে তাদের পরিবারের বিরুদ্ধে একটি মিথ্যা লুটপাটের মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে। এতে তারা চরম নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে রয়েছেন।


আবেগঘন বক্তব্যে রূপসা আক্তার বলেন, তার স্বামী নাসিম একজন সাধারণ চা বিক্রেতা ছিলেন। স্বামীকে হারিয়ে তিনি চার কন্যাসন্তান নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। প্রতিনিয়ত মামলা তুলে নেওয়ার জন্য তাদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। তিনি নিজের ও পরিবারের সদস্যদের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি মামলাটির পুনঃতদন্ত, মূল আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করতে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।


সংবাদ সম্মেলনে নিহত নাসিমের বড় ভাই আলামিনসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্য ও স্বজনরা উপস্থিত ছিলেন।


তবে সংবাদ সম্মেলনে উত্থাপিত এসব অভিযোগের বিষয়ে ধর্মপাশা থানার ওসি মোহাম্মদ সহিদ উল্যাহ বা মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

© চ্যানেল জৈন্তা নিউজ
channeljaintanews24.com