ঢাকা, ২১ জুলাই ২০২৬:
দেশে নতুন বিনিয়োগ আকৃষ্ট, রপ্তানি বাজার সম্প্রসারণ এবং ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী ও রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেন, ব্যবসা শুরু ও পরিচালনার প্রক্রিয়া সহজ করতে সরকার ইতোমধ্যে কার্যকর পদক্ষেপ নিয়েছে এবং আগামী দুই থেকে তিন মাসের মধ্যেই এর বাস্তব প্রতিফলন দৃশ্যমান হবে।
মঙ্গলবার বিকেলে রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত ইপিবির ১৪৯তম পরিচালনা পর্ষদের সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বর্তমান নেতৃত্বের অধীনে দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে তিনি আশাবাদী। সরকার শুধু বিনিয়োগের কথা বলেই ক্ষান্ত নয়, বরং দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য অনুকূল ও ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে বাস্তবমুখী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।
তিনি আরও বলেন, ব্যবসা শুরু করার প্রক্রিয়াকে আরও সহজ, দ্রুত ও কার্যকর করতে সরকার কাজ করছে। এর ফলে বাংলাদেশ দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য আরও আকর্ষণীয় গন্তব্যে পরিণত হবে।
রপ্তানি খাতের সম্ভাবনা তুলে ধরে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, লেদার, এগ্রো প্রসেসিং, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিংসহ সরকার ঘোষিত অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত রপ্তানি খাতগুলোতে ডাবল ডিজিট প্রবৃদ্ধি অর্জনের যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে। এসব খাত ভবিষ্যতে দেশের প্রধান রপ্তানি খাতে পরিণত হতে পারে।
তরুণ উদ্যোক্তাদের আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশের সুযোগ তৈরি করার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, বর্তমানে দেশের অনেক বড় রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানও একসময় ছোট পরিসর থেকে যাত্রা শুরু করেছিল। নতুন উদ্যোক্তাদের বিদেশি ক্রেতাদের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন, আন্তর্জাতিক বাজারে অংশগ্রহণ এবং রপ্তানি সক্ষমতা বৃদ্ধিতে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করা হবে।
তিনি বলেন, নতুন উদ্যোক্তাদের অনেকেরই বিদেশে গিয়ে বাজার অনুসন্ধান কিংবা সম্ভাব্য ক্রেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপনের আর্থিক সক্ষমতা থাকে না। এ কারণে তাদের প্রয়োজনীয় পৃষ্ঠপোষকতা ও সহায়তা দিতে ইপিবি সক্রিয় ভূমিকা পালন করবে।
সভায় রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর ব্যবস্থাপনায় ২০২৬–২৭ অর্থবছরের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা ক্যালেন্ডার অনুমোদন করা হয়। অনুমোদিত ক্যালেন্ডার অনুযায়ী, ১২টি অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত রপ্তানি খাতকে গুরুত্ব দিয়ে বিশ্বের ২৭টি দেশে অনুষ্ঠিত মোট ৫০টি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় বাংলাদেশের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হবে।
এ ছাড়া সভায় ৩১তম ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা (ডিআইটিএফ)-২০২৭ আয়োজনের জন্য স্টিয়ারিং কমিটির অনুমোদন দেওয়া হয়। আগামী ১ জানুয়ারি ২০২৭ থেকে মেলাটি আয়োজনের সম্ভাব্য সময় নির্ধারণ করা হয়েছে।
সভায় বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টার (বিসিএফইসি) ইজারা দেওয়ার বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্তও গৃহীত হয়।
সভায় উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্য সচিব মো. আতাউর রহমান খান, ইপিবির ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হাসান আরিফ, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (এফটিএ) আয়েশা আক্তারসহ ইপিবির পরিচালনা পর্ষদের সংশ্লিষ্ট সদস্যরা।