Template: 1
Tpl 1 Tpl 2 Tpl 3
logo
channeljaintanews24.com
রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬ | ০৩:৫৫ পূর্বাহ্ন
channeljaintanews24@gmail.com

পাঁচ বছর পর দেশে ফিরলেন সুনামগঞ্জের মানসিক ভারসাম্যহীন যুবক জাকির হোসেন

চ্যানেল জৈন্তা নিউজ
🕒 রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬ | ০৩:৫৫ পূর্বাহ্ন

মিলন উদ্দিন লস্কর, শিলচর (আসাম) |


দীর্ঘ প্রায় পাঁচ বছরের আইনি ও প্রশাসনিক জটিলতার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে ভারতের আসাম রাজ্য থেকে নিজ দেশে ফিরেছেন সুনামগঞ্জ জেলার মানসিক ভারসাম্যহীন যুবক জাকির হোসেন। শুক্রবার (১৭ জুলাই) ভারতের সুতারকান্দি-শেওলা স্থলসীমান্ত দিয়ে তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে পরিবারের সদস্যরা তাঁকে নিজ বাড়িতে নিয়ে যান।


জানা যায়, কয়েক বছর আগে ভারতের আসাম রাজ্যের কাছাড় জেলার পয়লাপুর রেলক্রসিং সংলগ্ন এলাকায় উদ্দেশ্যহীনভাবে ঘোরাফেরা করার সময় লক্ষীপুর পুলিশ জাকির হোসেনকে উদ্ধার করে। তদন্তে তাঁর বাংলাদেশি নাগরিকত্বের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর বিদেশি আইনে মামলা দায়ের করে তাঁকে শিলচর কেন্দ্রীয় সংশোধনাগারে পাঠানো হয়। আদালতের নির্দেশে তিনি দুই বছরের কারাদণ্ড ভোগ করেন।


তবে কারাদণ্ডের মেয়াদ শেষ হলেও বাংলাদেশি নাগরিকত্বের প্রয়োজনীয় নথিপত্র না থাকায় তাঁর দেশে ফেরার প্রক্রিয়া দীর্ঘদিন আটকে ছিল। পরে শিলচর কেন্দ্রীয় সংশোধনাগারের জেল সুপার সুজিত দাস বিষয়টি নাগরিক অধিকার রক্ষা কমিটি, আসাম-এর সচিব প্রধান সাধন পুরকায়স্থের নজরে আনেন।


এরপর ভারত ও বাংলাদেশের বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এবং সমাজসেবীদের যৌথ উদ্যোগে জাকির হোসেনের পরিবারের সন্ধান পাওয়া যায়। তাঁর বাংলাদেশি নাগরিকত্বের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ করে আদালত ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কাছে জমা দেওয়া হয়। পাশাপাশি গুয়াহাটিতে অবস্থিত বাংলাদেশ সরকারের সহকারী হাইকমিশনার জিকরুল হাসান ফাহাদের দপ্তরেও বিষয়টি অবহিত করা হয়। তদন্ত ও যাচাই-বাছাই শেষে তাঁর নামে ট্রাভেল পারমিট ইস্যু করা হয়।


প্রথম দফায় গত ২৯ মে সুতারকান্দি-শেওলা সীমান্ত দিয়ে তাঁকে দেশে ফেরানোর উদ্যোগ নেওয়া হলেও প্রশাসনিক জটিলতার কারণে তা বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি। পরে বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড (বিজিবি)-এর সম্মতি পাওয়ার পর ১৭ জুলাই শিলচর কেন্দ্রীয় সংশোধনাগার, কাছাড় জেলা পুলিশ এবং সীমান্ত কর্তৃপক্ষের উপস্থিতিতে জাকির হোসেনকে আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে তাঁকে তাঁর বাবা আব্দুল মান্নানের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়।


এ বিষয়ে নাগরিক অধিকার রক্ষা কমিটি, আসামের সচিব প্রধান সাধন পুরকায়স্থ এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানান, মানবিক এই উদ্যোগ সফলভাবে বাস্তবায়নে শিলচর কেন্দ্রীয় সংশোধনাগারের জেল সুপার সুজিত দাস, কাছাড় জেলা পুলিশ, গুয়াহাটিতে বাংলাদেশ সরকারের সহকারী হাইকমিশনার জিকরুল হাসান ফাহাদ, ভারত ও বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষ এবং প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সহযোগিতাকারী সব ব্যক্তি ও সংগঠনের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানানো হয়েছে।


দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর এক মানসিক ভারসাম্যহীন যুবকের পরিবারের কাছে ফিরে আসার এই ঘটনাকে দুই দেশের প্রশাসনিক সমন্বয়, মানবিক সহযোগিতা এবং আন্তঃসীমান্ত সহমর্মিতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

ছবি
channeljaintanews24.com
logo
ভিজিট করুন
১৯.০৭.২০২৬
© চ্যানেল জৈন্তা নিউজ — সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
channeljaintanews24.com